বৃত্তির গোলক ধাঁধায় ছাত্রীকে ছাত্রে পরিণত

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৩ পিএম, ১৩ মে ২০১৯ সোমবার

বৃত্তির গোলক ধাঁধায় ছাত্রীকে ছাত্রে পরিণত

নারায়ণগঞ্জে বৃত্তি নিয়ে শুরু হয়েছে গোলক ধাঁধা। এই গোলক ধাঁধায় শিক্ষার্থীদের লিঙ্গ পরিবর্তন করে দেয়া হয়। এতে কোটার বেড়াজালে বৃত্তি নামক নেয়ামক স্কুলের ললাটে জোটে। রাতা-রাতি স্কুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এই সুনামের জন্যই কাজটি করে থাকেন স্কুলের শিক্ষক মন্ডলী। এমন একজন মেয়ে শিক্ষার্থীর লিঙ্গ পরিবর্তন করে ছেলে শিক্ষার্থী বানানোর অভিযোগ উঠেছে গোদনাইল উত্তর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ করেছেন খোদ সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।

নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন হিসেবে বৃত্তির কোটা ব্যবস্থা রয়েছে। সে অনুযায়ী মেয়ে এবং ছেলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত নম্বর এর ভিত্তিতে এই কোটা পূরণ করে থাকে। যদি কোন ছেলে বা মেয়ে অথবা ওয়ার্ড কোন কোটা পূরণ করতে না পারে তখন সেটা অন্যরা গ্রহণ করে। ঠিক তেমনি ছেলেরা যখন নির্দিষ্ট কোটা পূরণ করতে না পারে তখন তাতে মেয়েরা এসে দখল করে। অপরদিকে প্রতিবারই ছেলেদের নম্বর কম থাকায় তাদের কোটা ফেরত যায়। ঠিক এই সুযোগটি গ্রহণ করে অসাধুরা। তারা ছেলেদের কোটায় মেয়েদের ঢুকিয়ে দিয়ে বৃত্তি গ্রহণ করে থাকে। এই মেয়েকে ছেলে বানানোর সুচতুর কাজটি করে অসাধু ওই চক্রটি। চক্রের হোতাদের মধ্যে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটিও রয়েছে। রয়েছে উপজেলা এবং জেলা শিক্ষা অফিসের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সকলের যোগসাযোশেই এমন কাজ হয়েছে।

জানা গেছে, গোদনাইল উত্তর বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী আফরা সাউদ। যার পিইসি পরীক্ষার রোল নং ৪৮২২। এ বছর সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে আফরা। সে বাস্তবে ছাত্রী হলেও সরকারী দলিলে সে একজন ছাত্র। সাধারণত ছাত্রীদের রোল নম্বরের পূর্বে ‘ম’ উল্লেখ করা হয়। যা এই আফরার রোল নম্বরের পূর্বে দেয়া হয়নি। তাই সে ছাত্রদের কোটায় বৃত্তি প্রাপ্ত হয়েছে। এতে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঝুলিতে দুইটি বৃত্তি যোগ হয়েছে। এর পাশের স্কুলে বালিকা বিদ্যালয়ে অনেক বৃত্তি পায়। সাধারণত বালিকা স্কুলগুলো বালক স্কুল থেকে ফলাফলে ভাল করে।

কেন ছাত্রী আফরা সাউদকে ছাত্র বানানো হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে গোদনাইল উত্তর বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম প্রথমে অস্বীকার করলেও প্রমাণ উত্থাপনের পর স্বীকার করে বলেন, এই দায় আমরা নিবো না। আমরা সবকিছু ঠিক করে উপজেলায় পাঠিয়েছি। সুতরাং এই ভুলের জন্য আমরা দায়ী নয়।

অপরদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মনিরুল হক বলেন, স্কুল গুলো থেকে ছেলে এবং মেয়েদের তালিকা নেয়ার সময় লাল দাগ চিহ্নত করা হয়। উত্তরে গোদনাইল উত্তর বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তাদের দেয়া তালিকায় কোন প্রকার লাল কালির দাগ বা চিহ্ন দেয়নি। যার কারনে এই মেয়ের রোল নম্বরের পূর্বে ‘ম’ উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই শিক্ষার্থী যে নম্বর পেয়েছে সে যদি মেয়ে হিসেবে পরীক্ষা দিত তাহলেও সে বৃত্তি পেতো।

এই কর্মকর্তা এমন একটি ভুলকে কোন আমলেই নিতে চান না। এ বিষয়ে কোন তদন্ত কমিটি বা প্রতিবেদন দেয়ার কথাও তিনি এড়িয়ে যান।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও