৫ বছরে ২০ ধর্ষণ : দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:১৯ পিএম, ২৮ জুন ২০১৯ শুক্রবার

৫ বছরে ২০ ধর্ষণ : দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড হাই স্কুলের বিশ এর অধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ও মদদদাতা প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২৮ জুন শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এই মামলা দু’টি দায়ের করা হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল আরিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন স্কুলের নির্যাতিত সকল ছাত্রীর পরিবার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপর মামলাটি দায়ের করে র‌্যাব। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত র‌্যাবের মামলাটিতে অনৈতিক কাজে মদদ দেয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষককেও আসামী করা হয়েছে। পরে আসামীদের র‌্যাব-১১ কার্য্যালয় থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হাজতে প্রেরণ করা হয়।

র‌্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলেপ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক আশরাফুল আরিফের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করে পঞ্চম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিশ জনেরও বেশি ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক এ বিষয় স্বীকার করেছে। বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য তাদেরকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আগামীকাল আসামীদের দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকায় অবস্থিত অক্সফোর্ড হাই স্কুল থেকে শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব তাদের কার্য্যালয়ে নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহীন শাহ পারভেজ জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম গত ৮ বছর ধরে স্কুলটিতে অংক ও ইংরেজী বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছে। চাকরি জীবনে আরিফুল ইসলাম অসংখ্য ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলিং করে আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণ করতে বাধ্য করে।

ছাত্রীদের কোচিং পড়ানোর জন্য তার বাসা ছাড়াও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। তার স্ত্রী, সন্তান না থাকলেও ফ্ল্যাটে তিনটি খাটছিল বলে জানায় ফ্ল্যাটের দারোয়ান। গত তিনদিন যাবত তার অনৈতিক কর্মকান্ডগুলো এলাকায় প্রচার হতে থাকে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে গেলে আরিফুল ইসলাম তার মোবাইলে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে ফেলে।

পরবর্তীতে এলাকাবাসী মোবাইল উদ্ধার করে এলাকার একটি মোবাইল দোকানে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ছবিগুলো উদ্ধার করে। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐ স্কুলে হামলা চালায়। এসময় স্কুলের লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই দেয়।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সালে একই এলাকার বাড়ি ভাড়া করে ছোট একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এ প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলুফিকার। পরবর্তীতে স্কুলের লাভের টাকা দিয়ে বর্তমান স্কুলের জমিসহ ৪ তলা ভবনটি কিনে নেয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ৮ বছর পূর্বে এ স্কুলে অংক ও ইংরেজীর শিক্ষক হয়ে আসেন আরিফুল ইসলাম। এলাকাবাসী জানায়, তার অপরাধগুলোকে সহযোগীতা করতো স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও