২০ ছাত্রী ধর্ষণ : ২ শিক্ষকের ফাঁসি চেয়ে দীর্ঘ মানববন্ধন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৩০ পিএম, ৩০ জুন ২০১৯ রবিবার

২০ ছাত্রী ধর্ষণ : ২ শিক্ষকের ফাঁসি চেয়ে দীর্ঘ মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার অক্সফোর্ড হাই স্কুলের ২০ এর অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারের ফাঁসি চেয়ে মানববন্ধন করেছে ১৪টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

৩০ জুন রবিবার বেলা ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধনে ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনটি এসময় মৌচাক বাসস্ট্যান্ড থেকে সানাড়পাড় বাসস্ট্যান্ড হয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা ছাড়িয়ে যায়। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাশ্চমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সানারপাড় আনন্দলোক উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী আব্দুস সামাদ সিনিয়র মাদ্রাসা, এনআলম মেরিড কেয়ার স্কুল, গ্রীন বাংলা মডেল হাইস্কুল, মৌচাক আইডিয়াল স্কুল, প্রত্যাশা মডেল স্কুল, কুসুমকলি কিন্ডারগার্টেন স্কুল, কান্দাপাড়া পাবলিক স্কুল, হলিচাইল্ড কিন্ডারগার্টেন স্কুল, নলেজ আইডিয়াল স্কুল, ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আনন্দলোক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসময় মিজমিজি কান্দাপাড়া, সানারপাড়, পশ্চিমপাড়া, এলাকাবাসীও যোগদেয় এ মানববন্ধনে।

উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নাসিক ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজু, মিজমিজি পশ্চিম পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান, এন আলম মেরিট কেয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম, আনন্দলোক উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুর রহীম মেম্বার, যুবলীগ নেতা হাজী মোঃ সুমন কাজী, যুবলীগ নেতা মাজেদুল ইসলাম মনিসহ স্থানীয় আরো অনেকে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এবং সেই সাথে তাদেরকে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্ব্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন। পাশাপাশি অক্সফোর্ড হাই স্কুলটিকে বন্ধেরও দাবি জানান।

মানববন্ধনে এসে উপস্থিত হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শাহীন শাহ পারভেজসহ অন্যরা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে আটক করেছি। তাদের দুজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বিস্তারিত তথে জানার জন্য। তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। তাছাড়াও যদি আরো কোন ব্ল্যাকমেইলিংয়ের স্বিকার শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা মামলা করতে চায় আমরা তাদের মামলা নিবো।

এর আগে ২৮ জুন সহকারী শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ও মদদদাতা প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল আরিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন স্কুলের নির্যাতিত এক ছাত্রীর বাবা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপর মামলাটি দায়ের করেন র‌্যাব-১১ এর ডিএডি আব্দুল আজিজ।

উল্লে­খ্য অক্সফোর্ড হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আশরাফুল আরিফ আপত্তিকর ছবি তুলে ২০ এর অধিক ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ কাজে সহায়তা করেন একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার। এ অভিযোগ এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-১১ ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে সহকারি শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে গ্রেফতারকৃত দুই শিক্ষক ২টি মামলায় পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও