আমার ফাঁসি হওয়া উচিত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৪৫ পিএম, ৬ জুলাই ২০১৯ শনিবার

আমার ফাঁসি হওয়া উচিত

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ১২ এর বেশী মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে এ ঘটনাটি জঘন্য বলেও দায় স্বীকার করেছেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি নিজের ফাঁসি তথা মৃত্যুদ- হওয়া উচিত বলেও মনে করছেন তিনি। প্রকাশ্য গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শাস্তি হিসেবে আমর অবশ্যই মৃত্যুদ- ফাঁসি হওয়া উচিত। আমি পুরোপুরি দোষ স্বীকার করি। তাই আমার মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত।

ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকার বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিনকে আটকের পর তিনি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ দাবী করেন।

এদিকে ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিনের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় ওই দুটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আল আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন স্কুলের নির্যাতিত সকল ছাত্রীর পরিবারের পক্ষে একজন অভিভাবক এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপর মামলাটি দায়ের করে র‌্যাব।

উভয় মামলাতে উল্লেখ আছে যে, মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে একাধিক ছাত্রীকে মূলত পানি পানের প্রলোভনে ঘরে ডেকে নিত আল আমিন। এছাড়া বই পত্র গোছানো সহ নানা ইস্যুতে ছাত্রীদের নিজের ঘরে ডেকে নিতেন তিনি। আর ওই সময়েই করতেন ধর্ষণ। এসব ঘটনার সময়ে আল আমিনের স্ত্রী বাসায় থাকতেন না। মূলত তার অবর্তমানেই এসব অনৈতিক কাজগুলো হতো।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ছাত্রীর মাথা কেটে অন্য পর্ণোগ্রাফি ছবির সঙ্গে যুক্ত করতেন আল আমিন। আর এসব ছবি দেখিয়ে ওইসব ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইলিং করা হতো।

বৃহস্পতিবার ৪ জুলাই সকাল ১১টায় সদর উপজেলার ফতুল্লার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর এলাকায় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার মুঠোফোন ও কম্পিউটারে তল্লাশি চালিয়ে পর্নোগ্রাফি ভিডিও পাওয়া গেছে।

গ্রেফতার আল আমিন (৪৫) বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সহ অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সে ফতুল্লা এলাকায় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছে।

র‍্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন জানান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার অক্সফোর্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কয়েকদিন আগে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ২০ এর বেশী ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি ছড়িয়ে আলোচিত হয়ে উঠে। ফেসবুকে ওই সংক্রান্ত একটি খবর দেখছিলেন বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার এক ছাত্রীর মা। তখন পাশে শুয়ে থাকা ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তার মাকে বলে, ‘এই শিক্ষক (আরিফুল) গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু আমাদের মাদ্রাসার হুজুরকে কেন গ্রেফতার করা হয় না?’ এ কথা শুনে ওই শিশুর মা জানতে চান, ‘কেন, কী হয়েছে?’ তখন ওই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তার মাকে বলে, মাদ্রাসার শিক্ষক আল আমিন মেয়েদের ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। আমার ওই মাদ্রাসায় যেতে ভালো লাগেনা। আমি মাদ্রাসায় আর যাব না। পরে ওই ছাত্রীর মা বিষয়টি র‌্যাবকে জানান। র‌্যাব অনুসন্ধানে নেমে জানতে পারে, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওই শিক্ষক মাদ্রাসার ১০ থেকে ১২ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এরপরই তাকে আটক করা হয়।’

র‌্যাব জানায়, মাদ্রাসার ভেতরে পরিবার নিয়ে থাকতেন আল আমিন। বাসায় তাঁর স্ত্রী না থাকলে বা মাদ্রাসা ছুটি হলে নানা কৌশলে আল আমিন ছাত্রীদের মাদ্রাসায় ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিশুদের ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছেন।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও