স্কুলগুলোতে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকদের উপস্থিতি বেড়েছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫২ পিএম, ৭ জুলাই ২০১৯ রবিবার

স্কুলগুলোতে মেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকদের উপস্থিতি বেড়েছে

নারায়ণগঞ্জে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বেশীরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে মেয়ে আছে তাদের অভিভাবকেরাও হঠাৎ করেই তৎপর হয়ে উঠছেন। শহরের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন নারী অভিভাবকদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে।

এর আগে গত ২৭ জুন নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের একটি স্কুল থেকে দুইজন শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয় যাদের মধ্যে একজন ২০ এর বেশী ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। আর ৪ জুলাই ফতুল্লার একটি মাদ্রাসা থেকে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করা হয়েছে যিনি ১০ এর বেশী ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার একজন নারী জানান, তার মেয়ে একটি মাদ্রাসায় পড়ে। আরেক মেয়ে স্কুলে পড়ে। তাদের নিয়ে এখন ওই নারীর চিন্তা।

নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দুটি ঘটনা আমাদের উদ্বেগে ফেলেছে। সে কারণে আমি মেয়েদের সঙ্গে এসব শেয়ার করেছি। তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা নিশ্চিত করেছে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে না। তবুও ভয় কাটছে না। এসব ঘটনা আমাদের বেশ উদ্বেগে ফেলেছে।

শহরের মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা গেছে অন্য দিনের তুলনায় নারী অভিভাবকদে ভীড়। এছাড়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও নারায়ণগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটেও প্রচুর নারী অভিভাবকদের দেখা গেছে। একাধিক অভিভাবক জানান, তারা এখন আতংকে আছেন। সে কারণেই মেয়েদের স্কুল চলাকালীনে গেটের সামনে বসে থাকেন। এতে অন্তত অসৎ শিক্ষকেরা কিছুটা ভয় পাবে আর মেয়েরাও সাহস পাবে।

র‌্যাব-১১ এর এএসপি আলেপউদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চলেছে। এখন থেকে আমাদের গোয়েন্দা টিমও কাজ করছে। বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নজরদারীতে রাখা হয়েছে।

৪ জুলাই সকাল ১১টায় সদর উপজেলার ফতুল্লার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর এলাকায় বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আল আমিনকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-১১ এর এএসপি আলেপ উদ্দিন জানান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার অক্সফোর্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কয়েকদিন আগে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ২০ এর বেশী ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি ছড়িয়ে আলোচিত হয়ে উঠে। ফেসবুকে ওই সংক্রান্ত একটি খবর দেখছিলেন বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার এক ছাত্রীর মা। তখন পাশে শুয়ে থাকা ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তার মাকে বলে, ‘এই শিক্ষক (আরিফুল) গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু আমাদের মাদ্রাসার হুজুরকে কেন গ্রেফতার করা হয় না?’ এ কথা শুনে ওই শিশুর মা জানতে চান, ‘কেন, কী হয়েছে?’ তখন ওই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তার মাকে বলে, মাদ্রাসার শিক্ষক আল আমিন মেয়েদের ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। আমার ওই মাদ্রাসায় যেতে ভালো লাগেনা। আমি মাদ্রাসায় আর যাব না। পরে ওই ছাত্রীর মা বিষয়টি র‌্যাবকে জানান।

র‌্যাব জানায়, মাদ্রাসার ভেতরে পরিবার নিয়ে থাকতেন আল আমিন। বাসায় তাঁর স্ত্রী না থাকলে বা মাদ্রাসা ছুটি হলে নানা কৌশলে আল আমিন ছাত্রীদের মাদ্রাসায় ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিশুদের ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছেন।

২৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড হাই স্কুলের বিশ এর অধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শিক্ষক আশরাফুল আরিফ ও মদদদাতা প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চতুর আরিফ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবার কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে দিনের পর দিন তার শয্যাসঙ্গী করেছে। এরমধ্যে কারো বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ অবিবাহিত। আবার কেউ মেয়ের সর্বনাশের বিষয়টি টের পেয়ে গোপনে মেয়েকে নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন। আবার অনেকেই ঘটনা টের পেলেও লোক লজ্জার ভয়ে চুপ থেকেছেন। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে লম্পট আরিফ। শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। গোপনে আরিফ তাদের ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করেছে। এখানেই শেষ নয়, ঘটনা যাতে প্রকাশ না পায় এ জন্য আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি সংরক্ষণ করে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে আরিফ। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই দিয়েছে সে।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও