মাদ্রাসার ১২ ছাত্রীকে ধর্ষণ : অধ্যক্ষ আলআমিনের আদালতে দোষস্বীকার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০২ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার ১২ ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আল আমিন দোষস্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কাউছার আলমের আদালতে দোষস্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৫দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে অধ্যক্ষ আল আমিন দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছেন।

ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা রয়েছে। এ মামলায় আগামী রোববার আল আমিনের বিরুদ্ধে আদালতে আরো ১০ দিনের রিমান্ড শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অধ্যক্ষ আল আমিন তার মুঠোফোন ও কম্পিউটারে পর্ন ছবি রাখতেন। প্রায় সময় সে ছবি দেখতেন। এতে যৌন উত্তেজনা ধরে রাখতে না পেরে ছাত্রীদের নিপীড়ন করতেন। এছাড়াও সে আরো গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়েছে যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছেনা।

আদালত সূত্রে জানাযায়, পৃথক দুটি মামলায় উল্লেখ আছে মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে একাধিক ছাত্রীকে মূলত পানি পানের প্রলোভনে ঘরে ডেকে নিতেন আল আমিন। এ ছাড়া বইপত্র গোছানোসহ নানা ইস্যুতে ছাত্রীদের নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করতেন। এসব ঘটনার সময়ে আল আমিনের স্ত্রী বাসায় থাকতেন না। মূলত তার অবর্তমানেই এসব অনৈতিক কাজ হতো।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ছাত্রীর ছবি তুলে সেই ছবির মাথা কেটে অন্য দেহে পর্নোগ্রাফি ছবির সঙ্গে যুক্ত করতেন আল আমিন। আর এসব ছবি দেখিয়ে ওই ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইলিং করা হতো।

উল্লেখ্য ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর এলাকায় অবস্থিত ওই মাদ্রাসা থেকে ৪জুলাই সকাল ১১টায় আল আমিনকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর একটি টিম। এসময় তার মুঠোফোন ও কম্পিউটারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমানের পর্নোগ্রাফি ভিডিও পাওয়া গেছে।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও