নারায়ণগঞ্জের আবহাওয়া সব থেকে দূষিত

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৯ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৯ সোমবার

নারায়ণগঞ্জের আবহাওয়া সব থেকে দূষিত

নাচ, গান, চিত্রাংকন, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তব্য, প্রকল্প প্রদর্শনী, বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে নারায়ণগঞ্জের ২০টি স্কুলের ৭০জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শিশু কিশোর মেলা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে ‘স্কুল উৎসব-২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৯ জুলাই সোমবার সকাল ১০টা থেকে দিনভর আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়তনে এ উপলক্ষ্যে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিশু কিশোর মেলা স্কুল উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মুন্নি আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থণীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ফোরামের সদস্য অসিত বরণ বিশ^াস, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক সজল বাড়ৈ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, শিশু কিশোর মেলার সংগঠক রায়হান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যক্ষ আনু মুহাম্মদ বলেন, সন্তানের ভালো চাইতে হলে তাকে পৃথিবী দেখাতে হবে শিখাতে হবে। সব সময় তাকে রক্ষা করলে সে নিজে কখনো নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। অন্যের সাথে কিভাবে কাজ করতে হয় তা শিখাতে হবে। অনেকেই শুধু এই ভয়েই পিছিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে মাঠ নাই। বন ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু কে এই মাঠ দখল করেছে, কে বন ধ্বংস করছে এই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। আমদের নিজস্ব বৈচিত্র আছে। সেই বৈচিত্রকে ধারণ করে আমরা বাঁচি। কিন্তু সেই বৈচিত্রকে নষ্ট করে কিছু লোক লুটেপুটে খাচ্ছে। শিতলক্ষ্যা নদী ধ্বংস করা হচ্ছে। বায়ু দূষণ করা হচ্ছে। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের আবহাওয়া সব থেকে দূষিত। এমন সব উন্নয়ন হাতে নেওয়া হচ্ছে যেখানে সুন্দরবন ধ্বংসের মুখে পরে। যে কারণে নানান রোগের আবির্ভাব হচ্ছে। এসব রোগের কারণে যে পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এর অধিকাংশ শিশু। বর্তমানে দেশ এমন এক অবস্থায় আছে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। এই সমাজ আমাদের প্রাপ্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই সমাজ পাওয়ার ছিল না।

এক সময় শিক্ষা ছিল বৈশম্য দূর করা ও প্রকৃতির প্রতি। কিন্তু এখন সেই শিক্ষা পাঠ্য বই থেকে উঠে যাচ্ছে। এখন শুধু কোচিং আর গাইড বই নির্ভর শিক্ষার আবির্ভাব হয়েছে। শিশুদেরকে সুযোগ দিতে হবে, তাদেরকে সুন্দরবন দিতে হবে, নিরাপদ বাতাস দিতে হবে। তাহলে তারা নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারবে।

এসময় ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, কয়েকদিন আগে একটা কাজে দেশের বাইরে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি স্কুলে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম ছোট ছোট বাচ্চারা গাছে চড়ছে, নিজেরা রান্না করছে খাচ্ছে। দৌড় ঝাপ করছে। তারা পরে গিয়ে ব্যাথা পাচ্ছে আবার নিজেরাই ব্যান্ডেজ করছে। অভিভাবকরা এগুলো নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয় না।

একসময় আমাদের দেশেও এমন অবস্থা ছিল। আমাদের শৈশব এই ভাবেই কেটেছে। কিন্তু এখন সেই শৈশব হারিয়ে ফেলেছি। অভিভাবকরা এখন শিশুদেরকে ছারতে চায় না। তাদেরকে মাঠে খেলতে পাঠায় না। তাদেরকে চলতে নিজেদের মত চলতে দেয় না।  যে কারণে ভয়াবহ অবস্থা তৈরী হচ্ছে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ছেলে মেয়েকে একা ছারতে হবে। কিভাবে সবার সাথে চলতে হয় তা তাদেরকে ছোটবেলা থেকেই সকলের সাথে মেশাতে হবে। তাকে সব বিপদের মুকাবেলা করতে দিতে হবে। ছোটখাট সমস্যায় আমাদেরকে রক্ষা করলে হবে না। ছোটবেলায় যখন নিজে সমস্যার সম্মুখিন হয়ে এর সমাধান করবে। বড় হয়ে সে বড় ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারবে। সব সময় তার সাথে থাকত হবে না। খেয়াল রাখতে হবে তারা পরবে, উঠবে আর এভাবেই তারা শিখবে।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও