স্কুলছাত্রীর লাশ : বাড়িওয়ালার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন, ছেলে পলাতক

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৬ পিএম, ৪ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

স্কুলছাত্রীর লাশ : বাড়িওয়ালার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন, ছেলে পলাতক

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায় স্কুলছাত্রী রোমানা আক্তারের (১৪) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেফতারকৃত বাড়িওয়ালা রাজা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। এদিকে এখনো পলাতক রয়েছে মামলার অপর আসামী বাড়িওয়ালার বড় ছেলে মো. সাইদুর রহমান সাঈদ। অপরদিকে স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি আত্মহত্যার প্ররোচনা নয় বরং হত্যা দাবি করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে উর্ধ্বতনদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন নিহত স্কুলছাত্রীর পরিবার।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ইবরাহিম পাটোয়ারী গ্রেফতারকৃত বাড়িওয়ালা রাজা মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করলে আদালত সোমবার রিমান্ড শুনানীর তারিখ ধার্য্য করে গ্রেফতারকৃত রাজা মিয়াকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায় রোমানা আক্তার (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ বাড়িওয়ালা রাজা মিয়া ও তার ছেলে সাঈদসহ তাদের পরিবার মিলে রোমানাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। নিহত রোমানা আক্তারের পিতা মন্তাজ মিয়া রূপগঞ্জের রূপসী এলাকার একটি কারখানায় কাজ করেন। তার মা লিলি বেগম গার্মেন্ট কর্মী। রোমানা গোদনাইলের লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল হাইস্কুলের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী। তারা স্বপরিবারে পাঠানটুলী এলাকায় রাজা মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ঘটনার দিন রাতেই নিহতের পরিবারকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডেকে নিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা নেয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহতের মা লিলি বেগম বাদি হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে আসামী করা হয় বাড়িওয়ালা রাজা মিয়া ও তার ছেলে সাঈদকে।

এদিকে ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যা দাবি করে রোববার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন নিহতের পরিবার। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত নিহতের পরিবারকে অপেক্ষা করতে বলেন।

এর আগে ঘটনার দিন নিহত রোমানা আক্তারের বড় বোন মোমেনা জানিয়েছিলেন, ঘটনার সময়ে রোমানার পা মাটির সঙ্গে লাগানো ছিল। গলায় দাগ ছিলনা। জিহবাও তেমন একটা বের হয়নি। ঘটনার সময়ে পুলিশের যে সুরতহাল রিপোর্ট ছিল রাতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সেই সুরতহাল রিপোর্ট পাল্টে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। এছাড়া আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত রিপোর্টও পাল্টে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা নিহতের পরিবারের। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদসহ উর্ধ্বতনদের সুদৃষ্টি কামনা করছে নিহতের পরিবার।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও