৮ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম ৫ দিনের রিমান্ডে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:১৩ পিএম, ৮ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

৮ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম ৫ দিনের রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার ফতুল্লা চাঁদমারিতে মসজিদের ভেতর ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মসজিদের ইমামকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলম এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ৭ আগস্ট ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম (৪৫) সহ ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব। ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামীদের আদালতে প্রেরণ করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হাই জানান, শুনানী শেষে আদালত ফজলুর রহমানকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ও অপর ৫ আসামীদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

রিমান্ডকৃত ইমাম ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া সরাপাড়া এলাকার মৃত রিয়াজউদ্দিনের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ফতুল্লার চাঁদমারি এলাকার বায়তুল হাফেজ মসজিদের ইমামতি করতো।

মামলার অপর আসামীরা হলেন রমজান আলী, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী হবি, মোতাহার হোসেন ও শরিফ হোসেন।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপউদ্দিন জানান, অভিযোগকারীরা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার চাঁদমারী এলাকাতে বসবাস করে। তার মেয়ে (৮) ওই এলাকার একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। সে রাতে বিভিন্ন প্রকার দুঃস্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করত। বিভিন্ন প্রকার কবিরাজি চিকিৎসা করে ভালো না হওয়ায় তাকে গত শুক্রবার স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মো. ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলামের কাছে নিয়ে যায়। ফজরের নামাজের পর মাদ্রাসা ছাত্রী ও তার বাবা মসজিদের ৩য় তলায় ইমামের বেড রুমে যায়। এরপর হালকা ঝাড়ফুঁক করে পরিকল্পিতভাবে বাবাকে ভোর ৫টার দিকে এক প্যাকেট আগরবাতি ও একটি মোমবাতি আনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেয়। ওই সময় দোকানপাট খোলা না থাকায় শিশুটির বাবা কোনভাবেই মোমবাতি ও আগরবাতি কিনতে পারছিলেন না।

এরমধ্যে সময় ক্ষেপন করার জন্য ফজলুর রহমান শিশুটির বাবাকে ফোন করে একটি পান আনতে বলে ও মসজিদের মোয়াজ্জিনকে ফোন করে নিচের গেটে তালা মারতে বলে। বাবা ফিরে আসতে প্রায় পৌনে ১ঘণ্টা সময় নেয়। এর মাঝে শিশুটির দুই হাত পিছনে বেধে ও মুখে টেপ মেরে নির্মমভাবে পাশবিক নির্যতন করে তার কাম লিপ্সা চরিতার্থ হাসিল করে এবং প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য মসজিদের ছাদে নিয়ে শিশুটিকে পানি দিয়ে পরিস্কার করে দেয়। এরপরে শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তার বাবা মাকে না বলার হুমকি দেয় এবং বললে জবাই করে ফেলবে বলে হুশিয়ার করে।

শিশুটি অসুস্থ হয়ে গেলে তাড়াহুড়ো করে তার বাবাকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেয়। এর পরে শিশুটি বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে সবকিছু খুলে বললে এবং ধীরে ধীরে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু করলে ভুক্তভোগী পরিবারটি শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে এসে বিচার দিলে মসজিদ কমিটির কিছু সংখ্যক লোক ও আশেপাশের ধর্ষকের কিছু ভক্ত মিলে সেখানেও শিশু ও পরিবারটিকে মারাত্মকভাবে হেনস্থা করে।

এরপর অবস্থা আরো খারাপ হলে ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। গত ৬ আগস্ট ধর্ষক ফজলুর রহমান ও তার অনুসারীরা শিশুটিকে হত্যা ও অপহরণ করার উদ্দেশ্যে কয়েক দফায় চেষ্টা চালায়। হাসপাতালের ধর্ষকের অনুসারীরা হাসপাতালের এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে শিশুটিকে হাসপাতালে লুকিয়ে রেখে শিশুটির বাবা মাকে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের টয়লেট ও বেডের নিচে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে।

এক পর্যায়ে শিশুটির বাবা হাসপাতালের নার্সের বোরকা পড়ে র‌্যাব অফিসে এসে অভিযোগ দেয়। শিশুটিকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে অপহরণের চেষ্টা ও পরিকল্পনার সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে মো. ফজলুর রহমান ওরফে রফিকুল ইসলাম, অনুসারী মো. রমজান আলী, মো. গিয়াস উদ্দিন, হাবিব এ এলাহী হবি, মো. মোতাহার হোসেন ও মো. শরিফ হোসেনকে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও