নারায়ণগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এডিস মশার আঁতুড় ঘর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৫ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯ রবিবার

নারায়ণগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এডিস মশার আঁতুড় ঘর

দেশ জুড়ে এখন ডেঙ্গু এক আতঙ্কের নাম। চলতি বছরে ঢাকাতে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রথমে শনাক্ত করা গেলেও দেশের ৬৪টি জেলাতেই এটি ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জেও এই রোগে  আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতনতা সৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অফিসগুলোতে পালন করে বিষেশ কর্মসূচি। তবে লোক দেখানো এসব কর্মসূচি করা হলেও প্রকৃত পক্ষে নেওয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ। যে কারণে ডোবা, নালা থেকে শুরু করে এবার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিণত হয়েছে ডেঙ্গু রোগবাহী এডিস মশার আঁতুড় ঘর হিসেবে।

জানা যায়, ডেঙ্গুর ভাইরাস বহনকারী কীট হচ্ছে এডিস মশা। তবে এই মশা যত্রতত্র বংশ বিস্তার করতে পারে না। একমাত্র স্বচ্ছ ও বদ্ধ জলাশয়ে এই মশা বংশ বিস্তার করে। এছাড়া ছোট পাত্র, ডাবের খোশা, ফেলে দেয়া ক্যানে তিনদিনের বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে। আর এভাবেই ছড়াতে থাকে ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস।

১৮ আগস্ট রোববার সরেজমিনে দেখা যায় শহরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস বাহী এডিস মশার আতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে ছোট ছোট গর্ত বা পরিত্যক্ত ভবন। যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে এডিস মশার বংশ বিস্তারের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।

কাশিপুর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় বিদ্যালয়টির ভয়াবহ অবস্থা। পরিত্যক্ত ভবনের দির্ঘদিন ধরেই পানি জমে আছে। পলিথিন ফেলে জায়গাটিকে মশা উৎপাদনের একটি উপযুক্ত জায়গায় পরিণত হয়েছে। যে কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে শ্রেনি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

একই অবস্থা ইসদাইরে অবস্থিত ৭১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাসদাইরে অবস্থিত ৭২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা। এই দুইটি বিদ্যালয়েও সারা বছর পানি জমে থাকে।

৭১নং ইসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করার পর থেকেই পূর্বের ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। উপজেলা সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরী হওয়ায় বিদ্যালয়টিতে এখন বছর জুড়েই জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। পুরাতন ভবনের নিচ তলায় পানি জমে থাকায় সেই ভবনে কোন শ্রেনি কার্যক্রম সম্ভব হয় না। যে কারণে সেটির কোনো পরিচর্যা করা হয় না। এমন অবস্থায় ভবনটি মশাদের আঁতুড় ঘরের পাশাপাশি একটি নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

একই অবস্থা ৭২ নং মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়টির একপাশে নতুন ভবন নির্মাণের পর অপরপাশে পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অর্ধেক খোঁড়াখুড়ি করে এইভাবেই ফেলে রাখা হয়েছে। গর্তগুলোতে এখন সারা বছর পানি জমে থাকে।

এমন অবস্থায় যেখানে শিশুদের জন্য বিদ্যালয়গুলো সব থেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা সেখানে সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পরিণত হয়েছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে দিন পার করছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এমতাবস্থায় দেশে যখন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে নারায়ণগঞ্জেও এর সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এলাকাবাসীর দাবি করে বলেন, বিদ্যালয়গুলো আরো নিরাপদ করে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন পরিত্যাক্ত ভবনগুলো ভেঙ্গে শিশুদের জন্য মাঠ তৈরী করে দেয়া। এতে করে যেমন ডেঙ্গু সহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কমবে তেমনি মাঠ পেয়ে শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়মুখি হবে।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও