শিশুবাগ বিদ্যালয়ের নির্বাচন আদালতের অপেক্ষায়

বন্দর করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৫ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

শিশুবাগ বিদ্যালয়ের নির্বাচন আদালতের অপেক্ষায়

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বন্দর শিশুবাদ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিল কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না মর্মে আদেশ করেছেন আদালত। ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী তফসিল বাতিল চেয়ে বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী জজ দুরদানা রহমান এই আদেশ জারি করেন।

এর আগে বন্দর শিশুবাগ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিয়া মালিয়াত সোহার অভিভাবক মোঃ সামীউল ইসলাম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ১০ জনকে।

তাঁরা হলেন বন্দর শিশুবাগ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি এ কে এম কুতুবউদ্দিন খান, সহ সভাপতি মোঃ সুলতান খাঁন, সাধারণ সম্পাদক কাজী নাছির, অধ্যক্ষ রোখসানারা বেগম, ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য মোঃ মোশারফ খাঁন, মোঃ সাইফুল ইসলাম শ্যামল, কাজী জহিরুল ইসলাম, মোঃ আতিকুর রহমান মাসুম, মোঃ শাহ আলম ও জান্নাতুল ফেরদৌস।

বাদীপক্ষে মামলা শুনানি করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মোহসিন মিয়া ও অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু।

শুনানিতে আইনজীবীগন বলেন, সভাপতি এককভাবে তফসিল ঘোষণা করতে পারেনা। তিনি এখনো ভোটার তালিকাই তৈরি করেননি। এ ধরনের তফসিল অবাস্তব তাই এটা বেআইনি বাতিল ঘোষণা  হওয়া উচিৎ। ভোটার তালিকা প্রকাশ না করে এবং নির্বাচন কমিশন বা নির্বাচন পরিচালনা পরিষদ গঠন না করে সভাপতির তফসিল ঘোষণা বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি সহ তার কমিটির মেয়াদ আগামী ১০ তারিখে শেষ হবে। এর পর তিনি কিভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে। এটা অবৈধ ও এখতিয়ার বহিঃর্ভূত। শুনানী শেষে আদালত ওই আদেশ জারী করেন।

মামলার বিবরণীতে বাদী সামীউল ইসলাম উল্লেখ করেন পরিচালনা পরিষদের সভা ব্যতিত এবং নির্বাচন কমিশন গঠন ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন না করেই এককভাবে তফসিল ঘোষণা করেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১০ অক্টোবর। কিন্তু বর্তমান সভাপতি তার পদ স্থায়ী করার জন্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিজেই তফসিল ঘোষণা করেন। যা সভাপতি কিংবা পরিচালনা পর্ষদের তফসিল ঘোষণার এখতিয়ার গঠনতন্ত্রে বা কোনো বিধিতে নেই।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে বন্দর শিশুবাগ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি ও বেসরকারী বিদ্যালয়ের প্রবিধান বা নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে ২০১০ সালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের পর থেকে মেয়াদোত্তীর্ন হওয়ার পরেও পরবর্তীতে কোন নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তৎকালে ম্যানেজিং কমিটি অভিভাবকদের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও আজীবন স্বপদে থাকার জন্য রেজুলেশন করে নীতিমালা ভঙ্গ করে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছিল যা সম্পূর্ণ বেআইনী ও অবৈধ। অভিভাবকদের ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকা স্বত্বেও তারা নির্বাচন না দিয়ে অবৈধ ভাবে পরিচালনা করে আসছিল। তৎকালে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্যের মধ্যে ৩ জন অভিভাবকদের সন্তান কেউ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো না।

পরে একজন অভিভাবকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১২ আগষ্ট তৎকালীন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর শিশুবাগ বিদ্যালয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে স্কুলটি পরিচালনা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ৬ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। যাতে বন্দর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে আহবায়ক করে ও স্কুলটির অধ্যক্ষ রোখসানারা বেগমকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। পরে অভিযুক্তরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করলেও আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। তবে ৬ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটি থাকলেও এখনো স্কুল নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন পূর্বতন ব্যবস্থাপনা কমিটি।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর