বেতন কমলো!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০১:০৬ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

বেতন কমলো!

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২শ ৭৪ জন শিক্ষার্থীদের বেতন ও ভর্তি ফি কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ে উন্নয়নের জন্য এতদিন ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা মাসিক বেতন ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের থেকে ৪৫০ টাকা নেয়া হত এবং ভর্তির জন্য সকলের কাছ থেকে ২১শ থেকে ২৫শ টাকা নেয়া হতো। দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দাবি ছিল বেতন ও ভর্তি ফি কমানোর।

অভিভাবকেরা আমাদের জানিয়েছেন ইসদাইর ও আশেপাশে এলাকায় ছেলে মেয়েরা যারা এই প্রতিষ্ঠানে পড়েন তারা অতি গরীব নিম্নবিত্তের। অনেকের একাধিক সন্তান হওয়ায় ভর্তি হতে হিমশিম খেতে হয়। প্রতি মাসে বেতন দিতে সংসারে টানাপড়েন থাকে। তাই স্কুলের গভর্নিংবডির চেয়ারম্যান ও সকল মেম্বার একসাথে বসে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

সিদ্দিক আরো জানান, শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া ভর্তি ফি, বেতন ও স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানের অনুদানে মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ল্যাব, উন্নত ওয়াশ রুমসহ সকল উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সকল সমস্যা সমাধান হয়েছে, তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ চলছে। বেতন ও ভর্তি ফি কমানো কারণে, শিক্ষার্থীদের মধ্য বাড়তি আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

এসময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন যাতে বিনামূল্যে সবার ঘরে শিক্ষা পৌছে দেওয়া যায়। সে জন্য তিনি বিনামূল্যে বই বিতরণ করেন। কিন্তু তাঁর একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব না। আমাদেরও দায়িত্ব আছে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ মত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের এলাকার গরিব শিক্ষার্থীদের বেতন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

নতুন বেতন ও ফি অনুযায়ী এখন থেকে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে সাড়ে ৩শ টাকার বদলে মাত্র ৬০ টাকা, ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণিতে সাড়ে ৪শ টাকার বদলে মাত্র ৭০ টাকা বেতন দিতে হবে এবং সকল ভর্তি ফি ২১শ টাকা থেকে ২৫শ টাকার বদলে মাত্র ৩০০ টাকা করা হয়েছে।

সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ বেতন থেকে যারা এমপিওভুক্ত ছাড়া শিক্ষক রয়েছেন তাদের বেতন দেয়া হবে। সাথে দারোয়ান ও বুয়াদের বেতন দেয়া হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের এটি দাবি ছিল। এখানে যারা পড়ে তাদের বেশিরভাগই দরিদ্র শ্রেণির লোক। অভিভাবকেরা বিনা বেতনে পড়ানোর একটি আবেদন করেছিলেন। সভাপতির সিদ্ধান্তে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতির এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে ফতুল্লা ইউনিয়নের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলী আকবর। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষ অধিকাংশ দরিদ্র। এসব দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কথা চিন্তা করে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমি সাধুবাদ জানাই। নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য বিদ্যালয়েও যাতে এমন ভাবেই শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বেতন কমানো হয় তাহলে আর অকালে শিক্ষার্থী ঝড়ে পরবে না।

ঘোষণা সময় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলী আকবর, ম্যানেজিং কমিটি সদস্য বাদল মিয়া, কবির হোসেন, ফয়সাল বিন মান্নান, গোলাম মোস্তফা, সাজেদা বেগম, শরিফা মজিদ ও প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাইসুল আহমেদ রবিন ও সোহানুর রহমান শুভ্র প্রমুখ।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর