মুক্তিযোদ্ধার কাছে যুদ্ধকালীন ইতিহাস শুনলেন শিক্ষার্থীরা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫৫ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মুক্তিযোদ্ধার কাছে যুদ্ধকালীন ইতিহাস শুনলেন শিক্ষার্থীরা

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইহিতাস সম্পর্কে জানতে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি” শীর্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয় স্বজনদের সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার আজহার হোসেন এবং প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান এর জেষ্ঠ্য পুত্র সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী হামজা হাবিব মিশরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছে প্রতিষ্ঠানটির ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা।

সাক্ষাৎকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান এর জেষ্ঠ্য এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও নাসিক (১৩, ১৪, ১৫) নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি।

এসময় শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরেন তারা। এর আগে জাতির এই বীর সন্তানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সেখানে আগত শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসের সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজনদের সাথে শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে এদিন দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কমিশনার আজহার হোসেন এবং প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান এর জেষ্ঠ্য পুত্র সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী হামজা হাবিব মিশরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেছে প্রতিষ্ঠানটির ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন এবং তা লিখিত ভাবে সংগ্রহ করে রাখেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহার হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দেশের একটি গৌরবময় ইতিহাস। ওই সময় আমরা পাকিস্তানি শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, প্রাণ যায় যাক, দেশ মাতৃকাকে শত্রুমুক্ত না করে ঘরে ফিরবো না। সেই শুভ যাত্রায় আমার দুই ভাই প্রয়াত যুদ্ধকালীন কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানও অংশ নিয়েছিলেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা দেশ স্বাধীন করে অক্ষত অবস্থায় বাড়িতে ফিরতে পেরেছিলাম। এটা যে আমাদের জন্য কতো বড় পাওয়া, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’

এসময় প্রয়াত পিতার মুখে শোনা মহান মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে বারংবার আবেগ আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন শিক্ষানুরাগী হামজা হাবিব মিশর। পিতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, এই পরিচয়ে গর্বিত পিতার গর্বিত এই সন্তানের চোখে মুখে ছিল আত্মতৃপ্তির ছোঁয়া।

মিশর বলেন, ‘আমার পিতা ও চাচা সহ অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তবে ৭১’র পরাজিত শক্তিরা এখনো থেমে নেই। তারা সুযোগ পেলেই হায়েনার মতো এদেশে ধ্বংষজজ্ঞ চালাতে পারে। তাই আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছি, তাদের উচিত বর্তমান প্রজন্মকে নিয়ে সেই হায়েনাদের রুখে দেয়া। যাতে তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাড়াতে না পারে।’


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর