শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বাণিজ্য’ না সেবামূলক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৮ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বাণিজ্য’ না সেবামূলক

স্কুল মানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; এটা কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়। শিশুদের পড়ালেখার জন্য যে যৎ সামান্য খরচ করতে হয় তা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। এর বাইরে আরো কিছু আনুসাঙ্গিক খরচের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছ থেকে বেতন ও ভর্তি ফি নিতে হয়। তাও অভিভাবকদের সহনীয় মাত্রার মধ্যে। কিন্তু বর্তমানে স্কুলগুলো আর সেই যৎ সামান্য বেতন ও ভর্তি ফ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভালো শিক্ষার নামে অভিভাবকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো স্কুলগুলো কোটি টাকা আয় করে চলেছেন। যার অর্থে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক থেকে শুরু করে ম্যানেজিং কমিটির নেতাদের পকেটও ভারী হচ্ছে। তবে পড়ালেখার মান ও মানবিক শিক্ষা আগের জায়গাতেও নেই।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বেতন ৪৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৭০টাকা আর ভর্তি ফি ২৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। তবে এ ঘোষণা আগামী অক্টোবর মাস থেকে কার্যকর করা হবে।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি এক বছর ধরে স্কুলের পরিচালনার দায়িত্বে আছি। এ সময়ের মধ্যে স্কুলের পাঠাগার, মাঠ, সীমা প্রাচীর, প্রধান ফটক, বিজ্ঞানাগার, সৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন নতুন করে স্কুলের তেমন কোন উন্নয়ন কাজ নেই।

তিনি বলেন, এ এলাকার মানুষ নিম্ন শ্রেনির পেশার। যাদের আয় অনেক কম। ওই নিম্ন আয় দিয়ে সংসার চালাতেই তাদের কষ্ট হয়। এর মধ্যে সন্তানদের পড়ালেখার খরচ দিতে গিয়ে তাদের খুব কষ্ট হয়। অনেক শিশু পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়। এতো দিন তাদের কাছে যে অংকের বেতন ও ভর্তি ফি নেওয়া হতো সেটা দিয়ে ওইসব উন্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এখন যেহেতু উন্নয়নের তেমন কোন কিছু নেই সেজন্য বেতন ও ভর্তি ফি কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যে অংকের বেতন ও ফি নেওয়া হবে সেটা দিয়ে ননএমপিও ভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষিকা সহ তৃতীয় শ্রেনির কর্মকর্তাদের যারা সরকারি আওতাভুক্ত নয় তাদের বেতন দেয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলে সেবার প্রতিষ্ঠান। এটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে চাইলে ব্যবসার মতো কোটি টাকা উপার্জন করা সম্ভব। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই অন্য পেশায় জড়িত আছি। আর সেটা দিয়ে সংসার ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ হয়ে যায়। আর শিক্ষক যারা আছেন তারাও সরকারি বেতনে ভালো আছেন। তাই কেউ এ অতিরিক্ত উপার্জনের টাকা চাই না। আমরা চাই স্কুলে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়ুক। কিন্তু নূন্যতম খরচের জন্য এ টাকা টা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি ফি ও বেতন প্রায় কয়েক হাজার টাকা। এর মধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনই খুব বেশি। তাছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও মাত্রাতিরিক্ত বেতন ও ভর্তি ফি নেওয়া হয়।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তাহলে রাবেয়া স্কুল যদি কম বেতন ও ভতি ফি নিয়ে চলতে পারে তবে কেন অন্য স্কুলগুলো এতো বেতন ও ভর্তি ফি নেয়। এতো কোটি কোটি টাকা তারা কি খাতে ব্যয় করেন। এটা ক্ষতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল, মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আইডিয়াল স্কুল, গণবিদ্যা নিকেতন, গর্ভমেন্ট গালর্স হাই স্কুল, আদর্শ স্কুল সহ বিভিন্ন স্কুলে নূন্যতম মাসিক বেতন ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়াও জেনারেটর, দারোয়ান সহ বিভিন্ন অজুহাতে আরো ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। তাছাড়া একেক স্কুলে একেক ধরে ভর্তি ফি নেওয়া হয়। যেগুলো সর্বনিম্ন ৫০০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্তও নেওয়া হয়।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর