ডিভাইস নষ্ট তাই সিসি টিভি ফুটেজ দেখা যায়নি : তোলারামের অধ্যক্ষ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৫ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার

ডিভাইস নষ্ট তাই সিসি টিভি ফুটেজ দেখা যায়নি : তোলারামের অধ্যক্ষ

নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজের বিজ্ঞান ভবনে প্রানীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সৌরভ হোসেন সিয়ামকে ছাত্রলীগ কর্তৃত মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ বেলা রানী সিংহ বলেছেন “গতকাল (২৮ সেপ্টেম্বর) কলেজে একটা প্রোগ্রাম ছিল। সেই প্রোগ্রাম শেষ হয়েছে প্রায় দেড়টার দিকে। বের হচ্ছি সেই সময় একজন পুলিশ বলল যে আপনার সাথে কথা আছে। আমি বললাম যে ঠিক আছে চলেন। কিন্তু আমি চিন্তাও করতে পারি নাই এরকম কোনো ঘটনা ঘটেছে।”

২৯ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে কলেজে অধ্যক্ষের অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি একথা বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন, পুলিশ আমাকে বলেছে যে আপনাদের এখানে একজন সাংবাদিককে মারা হয়েছে। আমি বললাম সাংবাদিক এখানে কেন আসবে? আমি ভাবলাম হয়তো আমাদের প্রোগ্রামটা কাভার করতে আসছে সেই সাংবাদিককে মারছে। কিন্তু তিনি বলেছে আসলে সে সাংবাদিক এবং প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী। তখন আমি তাকে বলি যে আপনি সাংবাদিক বইলেন না। ওরা আসলে আমার স্টুডেন্ট। কারণ ওর পরিচয়টা ও আমার কাছে ছাত্র। কলেজে যেহেতু পড়ে তো সে আমার ছাত্র।

তিনি বলেন, কি হয়েছে আমি জানিনা একেবারেই। আমি তখন দেখতে চাইলাম যে আমার সিটি ক্যামেরা ঠিক আছে কি না। কিন্তু আসলে ৭দিন ধরেই সেই জায়গার সিসি ক্যামেরার ডিভাইসটি নষ্ট। ওরা ডিভাইস নিয়ে গেছে তাই এখানে সিটি ক্যামেরা দেখতে পারলাম না। কিন্তু আমাকে তো জানতে হবে এখানে কি হয়েছে। তাই ওই ডিপার্টমেন্টের শিক্ষককে ডাকলাম। কারণ মরপিটের মত বড় ঘটনা ঘটলে হই হুল্লোড় হবে শিক্ষকরা একসাথে হবে। কিন্তু শিক্ষকরা এসে বলেছে যে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা বলে যে অনেকগুলো ছাত্র ভর্তি হতে এসেছে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।

‘‘কিন্তু সেই সময় শিক্ষক মাঝহারুল ইসলাম আমাকে বলে যে একটা ছেলে আসছে বলছে যে আমাকে মারছে। মারছে কিন্তু কেমন মারছে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। কারণ মারলে তো বুঝা যাবে। তার শরীরে রক্ত থাকবে। তার পরেও সে যেহেতু বলছে ‘আমাকে মারছে আমি ভয় পাচ্ছি’ সুতরাং ওকে নিয়ে রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে আসছি।’’

তিনি বলেন, কলেজে যদি গন্ডগোল হয় বা নিজের ডিপার্টমেন্টেও মারপিট হয় বা অন্য ডিপার্টমেন্টের ছেলেমেয়েরাও যদি মারে তাহলে আমাকে তো আগে এসে বলবে যে তাকে মারছে। আগে আমাকে বলবে তারপর আমি বিচার করব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমাকে বলে নাই। আমি জেনেছি নিজে কিছুটা জিজ্ঞেসা করেছি আর পেপারে কিছুটা দেখেছি। তার পরেও আমি একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি মিটিং করেছি। এবং ওই ডিপার্টমেন্টের সব টিচারকে ডেকে প্রত্যেককে আলাদা করে জিজ্ঞেসা করেছি আপনারা কি দেখেছেন। এবং অন্যান্য টিচারকে জিজ্ঞেস করেছি যে কি করা যায়। কারণ এটাকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নাই।

অধ্যক্ষ আরো বলেন, তখন সিদ্ধান্ত নিলাম যে ছেলেগুলার ছবি পত্রিকায় আসছে এবং যাকে মারঝর করছে তাকে ডেকেছি। ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আমরা এক সাথে বসব। ওদের কাছে আমি শুনবো যে আসলে তোমাদের নাম কেন বলল ওরা। কি কারণে তোমরা ওর গায়ে হাত দিছো। এছাড়া ওই ছেলেকেও ডাকছি কারণ কলেজের একটা সুনাম নষ্ট করলো।

‘‘যদি মেরেই থাকে তাহলে কি কারণে মারছে সেটা জানতে হবে। কারণ উদ্দেশ্য তো একটা আছেই। সেটা আমি খুঁজে বের করব। যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

প্রসঙ্গত সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সরকারী তোলারাম কলেজে ফরম ফিলাপ করতে গিয়ে স্থানীয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার দুপুরে কলেজের ভেতরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে দাবী করেন ওই সাংবাদিক যিনি গত বছরও একই কলেজে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে ছাত্রলীগ দাবী করেছে হামলার ঘটনা তাদের জানা নাই।

আক্রান্ত ওই সাংবাদিক সৌরভ হোসেন সিয়াম (২৪) নিউজ পোর্টাল প্রেস নারায়ণগঞ্জের চিফ রিপোর্টার। একই সঙ্গে তিনি প্রথম আলো বন্ধু সভার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সিয়াম জানান, তিনি সরকারি তোলারাম কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সকাল ১১টায় ৩য় বর্ষের ফরম ফিলআপ করতে গেলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক পিয়াস প্রধান, সহ সম্পাদক শেখ হাবিবুর রহমান তামিম, উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রিন্স, কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা সার্থক আহমেদ তোফা, শাহরিয়ার পরশ সহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২ জন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দীর্ঘক্ষণ আমাকে অনুসরণ করতে থাকে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল এরাই আমাকে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মারধর করেছিল। সোয়া ১২টায় এরা ডিপার্টমেন্টে ভেতরে আমাকে ঘিরে এলোপাথারি কিলঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশে অভিযোগ দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে এক শিক্ষকের সহায়তায় আমি সেখান থেকে বের হয়ে আসি।

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কলেজে একটি সভা ছিল। সেখানে সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত আমরা উপস্থিত ছিলাম। এর পর কোন ছাত্রের উপর হামলা বা মারধরের কোন অভিযোগ পাইনি। কোন অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও