তোলারাম কলেজে সংসদ নির্বাচন ও ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণ প্রয়োজন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪২ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

তোলারাম কলেজে সংসদ নির্বাচন ও ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণ প্রয়োজন

দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ ও জেলার প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সরকারী তোলারাম কলেজে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতি নাই। সে কারণে এখানে সকল ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বরছেন, ছাত্রদের অধিকার রক্ষার জন্য এই কলেজের ছাত্র সংসদের অন্যরকম সুনাম রয়েছে। শুধু ছাত্রদের নয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক অনেক কাজেও রয়েছে এই কলেজের ছাত্রসংসদের অবদান। ফলে এখানে সকল ছাত্র সংগঠনের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছাত্রলীগের নেতাদের।

তোলারাম কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদংসদ নির্বাচন না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহা অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন ধরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১০ সালে ১০০টি স্কুলে এ ধরনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

সেই ১৯৩৭ সালে এই কলেজের সুচনা হয়। স্যার খগেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম অধ্যক্ষ। সেই সুচনালগ্ন থেকেই  ছাত্রদের অধিকারের জন্য সোচ্চার ছিল একদন যুবক। যাদের দাবির মুখে কলেজে ছাত্রদের অধিকারের জন্য সেই যুবকদের বসার একটি রুম বরাদ্দ করা হয়। সেই রুমটি পরে ছাত্রসংসদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তখন থেকেই জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক অনেক কাজে অংশগ্রহণ শুরু হয় ছাত্রদের।

কলেজটিতে সর্বশেষ কথিত নির্বাচন হয়েছিল ১৬অক্টোবর ২০০৪ সালে। ওই বিতর্কিত ও কথিত নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিল রাজীব-শাহ আলম পরিষদ। অভিযোগ রয়েছে ওই সময়কার এমপি গিয়াসউদ্দিনের প্রভাবের কারণে কথিত সেই নির্বাচনে ছাত্রলীগের কোন অস্তিত্ব রাখা হয়নি। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত কলেজটিকে আর কোন নির্বাচিত নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়নি। ফলে ছাত্র ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবীতে পরিণত হয়েছে এটি।

রাজীব-শাহ আলমের পূর্বে কলেজের সংসদে দায়িত্বে ছিল বাদল-হেলাল পরিষদ। এর পূর্বে ছিল শামীম-বাদল পরিষদ। ১৯৯১ সালে সবশেষ নির্বাচন হয়। সেখানেই বাদল ও হেলাল পরিষদের জয় ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজটিতে বর্তমানে ছাত্রলীগের একক কর্তৃত্বের কারণে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রদল, ছাত্র ফ্রন্ট সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেন না।

গত কয়েক বছরে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় ছাত্র ফেডারেশন দাবী করেছে তোলারাম কলেজকে টর্চার সেল বানিয়ে ফেলেছে ছাত্রলীগ।

সংশ্লিষ্টদের দাবী, ছাত্রদল কিংবা কিংবা ছাত্র সংগঠনগুলোর উপস্থিতি না থাকার কারণেই এ কলেজে ছাত্রলীগ দাপট দেখিয়ে চলেছে। সেখানে নাই কোন জবাবদিহিতা। এর আগে ছাত্রদল কলেজে সহাবস্থান চেয়ে অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করলেও কার্যত কোন ফলপ্রসূ হয়নি। এরই মধ্যে কয়েক দফায় বাম ঘরনার ছাত্রদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। তাদের কলেজেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এছাড়া কলেজে ছাত্রদলের কোন কার্যক্রম নেই। কলেজ ক্যাম্পাসেও ছাত্রদলের কোন কর্মীদের দেখা যাচ্ছেনা। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রদলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায় এখানে। গত ২০১৪ সালের ১ অক্টোবর মহানগর ছাত্রদলের ওই সময়কার আহ্বায়ক ও বর্তমানে মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করেছিলেন। যে কমিটির স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টা। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় কাউসার আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বায়োজিদ আল কাউসার, সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান অনি, সহ-সভাপতি মাসুদ রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল ও সহ সাংগঠনিক রফিকুল ইসলামকে। এরা নামে মাত্র কলেজ রাজনীতি করলেও তারা কোনদিনই কলেজ ক্যাম্পাসে যায়নি। তাদের ছাত্রত্বও নেই অনেকের।

মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রশিদুর রহমান রশু বলেন, আমি সর্বশেষ ২০১১ সালে ক্যাম্পাসে গিয়ে ছাত্রদলের সহাবস্থান চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম। তার পরেও কয়েকবার আমাদের ছেলেদের ক্যাম্পাসে মেরে আহত করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা এবং বর্তমান সরকার দেশের কোথাও ছাত্রদল ব্যতীত কোন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহাবস্থান করুক তা চায়না। তবে আমাদের ছেলেরা ক্যাম্পাসের বাইরে আমাদের দলীয় সকল কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহেদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা তো সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে চাই। কিন্তু কলেজে সে সুযোগ নাই। তবে আমরা আগামীতে চেষ্টা করবো আমাদের অধিকার আদায় করে নিতে।’

এর আগে গণমাধ্যমকে কলেজ ছাত্রলীগ ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, আমাদের প্রথম পরিচয় কলেজের ছাত্র। পরে কে কোন দল করি সেটা। আমরা সব সময় অন্যান্য দলের ছাত্র সংগঠনগুলোকে আহবান জানাই। তারা তাদের সংগঠনের হয়ে সুন্দর কাজ করবে এতে আমাদের কোন সমস্যা না। তবে তারা ছাত্র হতে হবে। ছাত্রের নামে অছাত্র এসে কলেজে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা মেনে নিবে না।

ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি শুভ দেব বলেন, ‘ছাত্র সংসদের নামে ক্যাম্পাসের ভেতরে এক ভয়ানক টর্চার সেল গঠন করেছে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। এতদিন ছাত্রদের সংসদে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে নিপীড়ন করা ছিলো তাদের দৈনন্দিনকার ঘটনা। এই নিপীড়নের ঘটনা দিনেদিনে ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র ক্যাম্পাসজুড়ে। এখন ডিপার্টমেন্টের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদের উপর হামলা করতে নুন্যতম কুন্ঠাবোধ করছে না ছাত্রলীগ। অথচ এই বিষয়ে কলেজ প্রশাসন বরাবরই নীরব ভূমিকায় অবতীর্ণ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও