বন্দর শিশুবাগ স্কুলের অধ্যক্ষকে হুমকি গালমন্দের অভিযোগ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৭ পিএম, ২ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

বন্দর শিশুবাগ স্কুলের অধ্যক্ষকে হুমকি গালমন্দের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপিঠ বন্দর শিশুবাগ স্কুলের অধ্যক্ষকে শিক্ষক রোখসানারা বেগমকে হুমকী ও গালমন্দের অভিযোগ উঠেছে পূর্বতন পরিচালনা কমিটির সদস্য কাজী জহিরের বিরুদ্ধে। এডহক কমিটি গঠনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেয়াকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যেই হুমকী ও গালমন্দ করেন সাবেক কমিটির সদস্য কাজী জহির। এতে করে স্কুলটির অধ্যক্ষ ও তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিত নির্বাচন হয়ে আসলেও ২০১০ সালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের পর আর নির্বাচন হয়নি। যে কারণে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে বিরাজ করছিল সেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতি। তৎকালে ম্যানেজিং কমিটি অভিভাবকদের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও আজীবন স্বপদে থাকার জন্য রেজুলেশন করে নীতিমালা ভঙ্গ করে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছিল যা সম্পূর্ণ বেআইনী ও অবৈধ। অভিভাবকদের ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকা স্বত্বেও তারা নির্বাচন না দিয়ে অবৈধ ভাবে পরিচালনা করে আসছিল। পূর্বতন পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুতুব উদ্দিন খান ঢাকায় থাকেন। যে কারণে তিনি নিয়মিত আসতেন না। পূর্বতন পরিচালনা কমিটির সদস্য কাজী জহির, সাইফুল ইসলাম শ্যামল, আতিকুর রহমান মাছুম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কুক্ষিগত করে রেখেছিল। গত কয়েক বছর ধরেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল অভিভাবকরা।  অভিভাবকরা চান স্কুলটিতে নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হোক।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বন্দর শিশুবাগ স্কুলের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুতুব উদ্দিন খান। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আগামী ১৫ নভেম্বর।

গত ৬ অক্টোবর নির্বাচনী তফসিলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন স্কুলের অভিভাবক সামিউল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ছাড়াই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিদ্যালয়ের সভাপতিসহ এডহক কমিটির ৬ জনকে। পরে আদালতের আদেশে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে গত ১৫ অক্টোবর স্কুলটির ২০১৬-১৯ কমিটির মেয়াদকাল শেষ হয়েছে। স্কুলটির অধ্যক্ষ রোখসানারা বেগম গত ২২ অক্টোবর বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এডহক কমিটি গঠন প্রসঙ্গে একটি চিঠি দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, স্কুলটির বার্ষিক পরীক্ষা, শিক্ষকদের বেতন, নতুন ভর্তিসহ নানাবিধ ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে ব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য এবং বিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জরুরী ভিত্তিতে এডহক কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্র ৮ এর ধারা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজস্ব ক্ষমতাবলে ৩ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠনের ক্ষমতা রাখেন।

এদিকে স্কুলটির অধ্যক্ষ রোখসানারা বেগম বন্দর ইউএনও এর বরাবরে এডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চিঠি দেয়াকে কেন্দ্র করে গত বুধবার রাতে বন্দর সিরাজদ্দৌলা ক্লাব মাঠে পূর্বতন পরিচালনা কমিটির সদস্য কাজী জহির তাকে প্রকাশ্যেই দেখে নেয়ার হুমকী ও গালমন্দ করেন। এসময় কাজী জহির বলেন, আগামীতে যদি তিনি (কাজী জহির) আবারো নির্বাচিত হয়ে আসতে পারেন তাহলে অধ্যক্ষ চাকুরী কিভাবে করেন সেটা তিনি দেখে নিবেন। এসময় শত শত মানুষের সামনেই অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যেই গালমন্দ করতে থাকেন কাজী জহির। এতে করে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্কুলটির অধ্যক্ষ রোখসানারা বেগম।

স্কুলটির অধ্যক্ষ রোখসানারা বেগম মুঠোফোনে জানান, আমি ২০০৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারী থেকে স্কুলটিতে অধ্যক্ষ পদে চাকুরী করে আসছি। আমি এখানে ভিন্ন একটি জেলা থেকে চাকুরী করতে এসেছি। যেহেতু আদালতের নির্দেশে তফসিল স্থগিত করা হয়েছে এবং স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেজন্য আমি ইউএনও মহোদয়কে স্কুলটির এডহক কমিটি গঠনের জন্য চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এই চিঠি দেয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বতন কমিটির সদস্য কাজী জহির আমার সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করেছেন সেটা আমি মোটেও প্রত্যাশা করিনি। ওই ঘটনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কে রয়েছি। কাজী জহির স্থানীয় ও প্রভাবশালী। তারা যেকোন সময় আমার ও আমার পরিবারের কোন ক্ষতি করতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি।

এ বিষয়ে জানতে কাজী জহিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও