শেখ মোরতোজা আলী স্কুলে শিক্ষানুরাগী পদে জালিয়াতি!

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৪৯ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার

শেখ মোরতোজা আলী স্কুলে শিক্ষানুরাগী পদে জালিয়াতি!

স্কুল কমিটির শিক্ষানুরাগী পদে জালিয়াতি করে এক বিতর্কিত ব্যক্তিকে সংযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের পাঁচজন অভিভাবক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে নতুন শিক্ষানুরাগীকে সদস্য সংযুক্ত করার অভিযোগ উঠে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় শেখ মোরতোজা আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৮ নভেম্ববর সোমবার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির এ অভিযোগ দায়ের করেন বিদ্যালয়টির পরিচালনা পরিষদের দুইজন অভিভাবক সদস্য।

অভিযোগ থেকে যায়, গত ১৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ের নবগঠিত পরিচালনা পরিষদের (২০১৯-২০২১) মেয়াদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচ্য বিষয় অনুযায়ী শিক্ষানুরাগী সদস্য হিসেবে পাঁচজন অভিভাবক সদস্যের সম্মতিক্রমে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মনোনীত করা হয় এবং সেই খসড়াটি কমিটির সদস্যসচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হককে রেজুলেশন খাতায় লেখার দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পরিচালনা পরিষদকে না জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিবর্তে ফারুকুল ইসলাম ফারুক নামের বিতর্কিত মাকসেবীকে শিক্ষানুরাগী সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয় বলে গত কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রেজুলেশনের কপির ছবি দিয়ে ফারুক প্রচার করে আসছে।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষকের সংযুক্ত করা ব্যক্তি (ফারুক) এলাকায় সন্ত্রাসী ও নেশাখোর হিসাবে চিহিৃত। সে একাধিক মামলার আসামী।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক জালিয়াতি করে যাকে শিক্ষানুরাগী সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন সে ব্যক্তি অভিভাবক না হয়েও বিদ্যালয়ের সর্বশেষ বিলুপ্ত হওয়া পরিচালনা পরিষদের (২০১৭-২০১৯) অভিভাবক সদস্য ছিলেন। একইভাবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বর্তমান কমিটিতে নির্বাচিত তিনজন শিক্ষককে বাদ দিয়ে পছন্দের তিনজন শিক্ষককে পরিচালনা পরিষদের শিক্ষক সদস্য হিসাবে সংযুক্ত করে। নির্বাচিত শিক্ষকরা বাদ পাড়ায় পরবর্তীতে ঐ তিন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দাখিল করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা এডিসির (শিক্ষা) তদন্তের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকের মনোনীত শিক্ষকদের প্রত্যাহার করে নির্বাচিত শিক্ষকের পূণঃর্বহাল করতে বাধ্য হন প্রধান শিক্ষক।

স্কুলের অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানায়, প্রধান শিক্ষক জহিরুল হকের বিরুদ্ধে গত ৬ বছর যাবৎ স্কুলের বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্নীতি সংঘটিত করার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় তা বহু পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছে বহুবার।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২০ জুলাইও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর এক অভিযোগ পত্র দেয়া হয়। বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য এস এম সেলিম স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালে বিদ্যালয়টির তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমানকে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই অবৈধভাবে ও অত্যান্ত অমানবিকভাবে বিতাড়িত করে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টির শিক্ষক জহিরুল হক সাত লাখ টাকা খরচ করে কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই প্রধান শিক্ষক হন। এরপর থেকে গত ৭ বছর যাবৎ জহিরুল হক ভর্তি বানিজ্য, অতিরিক্ত কোচিং ফি, বোর্ড নির্ধারিত ফি এর চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় ছাড়াও বিদ্যালয়ের নতুন ৫ তলা ভবন নির্মান ব্যয়ের টাকা নিয়েও নানান দুর্নীতি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয় ২০১৭ সালের ঐ অভিযোগত্রে। ঐ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস পূর্বে কোন ধরণের নিয়মের তোয়াক্কা না করে গোপনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জহিরল হকের বক্তব্যের জন্যে একাধিকবার স্কুলে গেলে তাকে স্কুলে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে (০১৭১৫১০৪৫২২) ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেনি।

তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বিকেএমইর পরিচালক মজিবুর রহমান জানায়, সর্বসম্মতিক্রমে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে শিক্ষানুরাগী করা হয়। এরপরে অন্যজনকে শিক্ষানুরাগী হিসাবে সংযুক্ত করা হয়েছে নিশ্চয় কোন অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি সামছুল আলম অর্থলেনদেন করে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে শিক্ষানুরাগী সদস্য না করে অন্যজনকে শিক্ষানুরাগী করার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও