মাদ্রাসা ছাত্রীর ধর্ষণ মামলায় গড়িমসি, কাফনের কাপড় পড়ে প্রতিবাদ

রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫২ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২০ শুক্রবার

মাদ্রাসা ছাত্রীর ধর্ষণ মামলায় গড়িমসি, কাফনের কাপড় পড়ে প্রতিবাদ

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ধর্ষকের পরিবারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে ধর্ষণে আলামত নষ্ট করার জন্য মামলা নেই নিচ্ছি বলে টালবাহানা করছেন অভিযোগ উঠেছে।

ধর্ষক ইব্রাহিম মিয়া ও তার পরিবারের সন্ত্রাসী হামলা থেকে বাচঁতে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবে কাফনের কাপড় পড়ে আশ্রয় চাইল ধর্ষিতার পরিবার।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ের সামনে ধর্ষিতা ও ধর্ষিতার পরিবার কাফনের কাপড় পড়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। বর্তমানে ধর্ষক ও তার পরিবারের হুমকি ধামকির কারণে ধর্ষিতা ও তার পরিবার ঘর ছাড়া।

ধর্ষিতার পরিবার জানান, তাদের বাড়ি উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার দক্ষিণ কেরাব এলাকায়। গত ২০ এপ্রিল ধর্ষিতা শিক্ষার্থী বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একই এলাকার কবির হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম ধর্ষক ইব্রাহিম ও তার বাবা কবির হোসেনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলা নেয়নি অভিযোগ ধর্ষিতার পরিবারের। পুলিশকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে সাহস পেয়ে যায় ধর্ষক ইব্রাহিম ও তার বাবা কবির হোসেন। তাই তাদের পোষা সন্ত্রাসী দিয়ে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের লোকজনকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছে। এনিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ঘরবাড়ি ছাড়া ধর্ষিতা ও তার পরিবার। তাই শুক্রবার দুপুরে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ের সামনে ধর্ষিতার ও ধর্ষিতার পরিবার কাফনের কাপড় পরে ধর্ষণের বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে।

ধর্ষিতার পরিবার আরো জানায়, ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপাড়া করেন। গত দেড় বছর আগে উপজেলার দক্ষিণ কেরাব এলাকার কবির হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম মিয়া বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। গত ১ বছর ধরে লম্পট ইব্রাহিম মিয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত শারীরিক সম্পর্ক করত। গত বেশকিছুদিন ধরে শিক্ষার্থী তাকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ইব্রাহিম মিয়া বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন। পরে ওই শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে সে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করতে থাকে। পরে ১৯ এপ্রিল রাতে ইব্রাহিম মিয়া শিক্ষার্থীকে তার বাড়ির পাশে দেখা করতে বলেন। ওই শিক্ষার্থী কথা মতো বাড়ির পাশে নির্জন স্থানে দেখা করতে গেলে ইব্রাহিম মিয়া তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে ফেলে রেখে চলে যায়। ওইদিন রাতে ধর্ষিতার পরিবারের লোকজন বিষয়টি ধর্ষক ইব্রাহিম ও তার বাবা কবির হোসেন ও মা লিপি বেগমকে বিষয়টি জানালে তারা ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন।

ধর্ষিতার চাচা জানান, রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচীর পর বাড়িতে যাওয়ার সময় তাদেরকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। ধর্ষিতার চাচা এমন শঙ্কা করছেন ধর্ষনকারীর পিতা কবির হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন তাদের হত্যা করার উদ্দ্যেশ্যে অপহরন করে নিয়ে যায়।

এব্যপারে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার সেল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় আজ মামলা হয়েছে। তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও