প্রধানমন্ত্রীর কাছে নারায়ণগঞ্জের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের আবেদন

ফতুল্লা করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৪৯ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২০ বুধবার

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নারায়ণগঞ্জের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের আবেদন

মানবিক সহযোগিতা, আর্থিক সহযোগিতা কিংবা আর্থিক প্রণোদনাসহ যেকোন ভাবে পাশে দাঁড়াতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচশত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের দশ হাজার শিক্ষকের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিকের হাতে এ আবেদন তুলে দেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সকলেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেখানে গেছেন এবং তাদেরকেও নিরাপত্তার কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

এসময় করোনা দুর্যোগে কিন্ডারগার্টেন পরিচালক ও শিক্ষক সহায়তা কমিটির আহবায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, করোনা মহামারিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচশত কিন্ডাগার্টেন স্কুল বন্ধ যেখানে অধ্যয়ন করছে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। এ স্কুলগুলোতে শিক্ষক আছেন প্রায় দশ হাজার। কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর আয়ের প্রধান উৎস ছাত্রছাত্রীদের টিউশন ফি যা এ মুহূর্তে আদায় করা সম্ভবও নয়। মালিকদের জমেছে স্কুলের ভাড়া, শিক্ষক ও স্টাফদের বেতন এবং আনুসাঙ্গিক খরচ। প্রাইভেট টিউশনেও যেতে পারছেন না শিক্ষকরা। চক্ষু লজ্জায় ত্রাণের জন্য লাইনেও দাঁড়াতে পারছেন না। এমতবস্থায় বিপাকে পড়েছেন মানুষ গড়ার এ কারিগর ও তাদের পরিবাররা। এ অবস্থায় সদর উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শিক্ষকরা। মানবিক সহযোগিতা, আর্থিক সহযোগিতা কিংবা প্রণোদনা যাই হোক যেকোন ভাবে শিক্ষকদের পাশে তিনি দাঁড়াবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

গত মার্চের ১৮ তারিখ থেকে বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় প্রচন্ড দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কিন্ডারগার্টেন মালিক, পরিচালক ও শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন (নাসউকিএ) এর কার্যনির্বাহী পরিেেষদর জরুরী আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে। নাসউকিএ-র সভাপতি তোফায়েল আহমেদ জুয়েলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক কাওসার আহম্মেদ, মোহাম্মদ নাজমুল হাসান রুমি, ইমাম হোসেন, সাইফুল ইসলাম, কাওসার মাহমুদ ও মাজহারুল ইসলাম সজিব।

বক্তারা বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো আমাদের এ সমাজে শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা প্রদানে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ব্যক্তি উদ্যোগ ও অর্থায়নে পরিচালিত এ স্কুলগুলো সরকারের শিক্ষাখাতে এক বিরাট ব্যয় হ্রাস করেছে। নতুবা সরকারকে এ স্কুলগুলোতে অধ্যয়নরত লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদানে জন্য নতুন নতুন ভবন নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের বেতনসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ব্যয় বহন করতে হত। পুরো দেশের প্রায় ৬৫০০০ কিন্ডারগার্টেন স্কুল সরকার ও দেশের অর্থ সাশ্রয় করে চলেছে। পাশাপাশি বেকারত্ব হ্রাস, সামাজিক উন্নয়ন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কাজে সহায়তাসহ অনেক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে অনেক কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়, আমাদের শিক্ষকগণ সে নির্বাচনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

অতএব যে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো দেশের শিক্ষা, সামাজিক, প্রশাসনিক, ধর্মীয় ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে এত অবদান রেখে চলেছে আমরা আশা করি করোনার এ মহামারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা আয় রোজগারহীন এ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক ও শিক্ষকদের পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা, প্রণোদনা বা অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করবেন।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও