৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

শহীদ মিনারে বৃদ্ধকে ফেলে যায় ছেলে, হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেল নাতি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৮ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার


শহীদ মিনারে বৃদ্ধকে ফেলে যায় ছেলে, হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেল নাতি

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধারকৃত পরিচয়হীন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছে তার নাতি। ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতেই শহরের খানপুরস্থ নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি থাকা ওই বৃদ্ধকে নিয়ে গেছে তার নাতি। ওই বৃদ্ধকে নারায়ণগঞ্জে ফেলে রেখে গিয়েছিল তার একমাত্র ছেলে। ওই বৃদ্ধের বাড়ি ঢাকার লালবাগে। তিনি স্বচ্ছল পরিবারের। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে ওই বৃদ্ধের নাম পরিচয় যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রাখেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় কে বা কারা এই বৃদ্ধ ব্যক্তিটিকে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন বেইলী টাওয়ারের পাশে ফেলে রেখে যায়। তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটা চলাফেরা করেছেন। কিন্তু বুধবার রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হলে রাতের বেলা বৃদ্ধ লোকটি আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লোকটি ভেজা কাপড়ে শহীর মিনারের গেইটের ভেতরে চায়ের দোকান বরাবর শুয়ে থাকে। এরপর সকালে লোকজন তাকে দেখে গাছের নিচে রেখে আসে। এসময় অনেকে খাবার দিলেও তিনি কিছুই খাননি। তার নাম, ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। তাকে যতবার এসব প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি শুধু ফেল ফেল করে তাকিয়ে থেকে চুপ করে থাকতেন। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার কারণে তার গায়ের সব জামা-কাপড় ভিজে যায়। তাই একজন ব্যক্তি একটি লুঙ্গি ও একটি টিশার্ট কিনে দেয়। এরপর থেকে সারাদিন তিনি শহীদ মিনারের পাশে গাছের নিচে পড়ে ছিলেন। গাছের নিচে থাকায় বৃষ্টির ফোটা খুব একটা না ভিজাতে পারলেও শীতল ঠান্ডা বাতাসের দাপটে তিনি নিজের লুঙ্গি খুলে গায়ে জড়িয়ে কাচুমাচু হয়ে শুয়ে থাকেন। সারাদিনে তার খোঁজে কোন আত্মীয় স্বজন আসেনি। আর কেউ তাকে এখান থেকে নিয়ে যায়নি। তিনি এভাবেই শুয়ে ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় চাষাঢ়া পুলিশ ফাড়ির এসআই মোমেন তাকে উদ্ধার করে শহরের খানপুরস্থ নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে জরুরী বিভাগে ভর্তি রাখা হয় এবং স্যালাইন দেয়া হয়। এদিকে শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে চাষাঢ়া পুলিশ ফাড়ির এসআই মোমেন জানতে পারেন ওই বৃদ্ধকে তার স্বজনরা নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে চাষাঢ়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোমেন জানান, আমি শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায় ওই বৃদ্ধের নাতি এসে তাকে নিয়ে গেছে। কোন নাম ঠিকানা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোট করেনি। বৃদ্ধের স্বজনরা অনেকটা রাগারাগি করে নাকি নিয়ে গেছে। শুধু জানিয়েছে বৃদ্ধের বাসা ঢাকার লালবাগে। তিনি সচ্ছল পরিবারের।

বৃদ্ধের চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাহমিনা নাজনীনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি জানান, রাতে বৃদ্ধের মেয়ের ঘরের নাতি এসে নিয়ে গেছেন। তার নামটা মনে করতে পারছিনা। সে জানিয়েছে বৃদ্ধের বাসা ঢাকার লালবাগে। বৃদ্ধের একমাত্র সন্তান রয়েছে। সে নারায়ণগঞ্জে বৃদ্ধকে রেখে যায়। নাম ঠিকানা সবকিছু হাসপাতালে একটি খাতায় লেখা রয়েছে। এ মূহূর্তে মনে করতে পারছিনা।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ১২ জুলাই নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা শাসনগাঁও এলাকায় গর্ভের সন্তান কর্তৃক বস্তায় ভেরে ফেলে দিয়ে যায় হাসিনা বেগম নামে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধাকে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন তৎকালীন সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত গাউছুল আজম। ওই বৃদ্ধা কিছুদিন পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়াও ২০১৫ সালে এপিল মাসে পুত্রবধু নাতি মিলে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নাজমা বেগম নামে বৃদ্ধাকে ভর্তি করে চলে যায়। ২০১৬ সালের ১৮এপ্রিল রাস্তায় পাওয়া হতভাগ্যদের জননী নূরজাহানকে হাসপাতালে ভর্তি করায় চার যুবক। পরে তার পরিচয় পেয়ে তার বাড়িতে পৌছে দেয়া হয়। ওইসকল বৃদ্ধা অসহায়দের পাশেও দাড়িয়েছিলেন গাউছুল আজম।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ