৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ২:৫০ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে শীত বস্ত্র ব্যবসায়ীরা শঙ্কায়


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১৫ পিএম, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০২:১৫ পিএম, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ সোমবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে শীত বস্ত্র প্রস্তুতকারী কারিগর, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গত বছর শীতের মৌসুমে শীতের প্রকোপ কম থাকায় শীত বস্ত্র ব্যবসা মন্দা হওয়ায় লোকসানের টাকা গুণতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। তাই এ বছরও শীত বস্ত্র নিয়ে পুঁজি খাটাতে বেশ চিন্তায় পড়েছেন এর সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারিগর, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

গত বছর শীতের মৌসুমে প্রতি বছরের মত শীতকালীন বস্ত্র ব্যবসার উদ্দেশ্যে দোকানে তোলা হলেও শীতের প্রকোপ কম থাকায় তেমন কোন বেচাকেনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতার ও ব্যবসায়ীরা। এতে করে শীত বস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রিম দেয়া টাকা পেলেও বাকি টাকা পাননি বলে জানিয়েছেন ওই সব কারখানার মালিকেরা। আর এতে করে কারিগরদের টাকাও সময়মত পরিশোধ করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তবে পরবর্তীতে নিজ তহবিল থেকে সেসব কারিগরের টাকা পরিশোধ করলে মাল ডেলিভারী দেয়া প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এখনো বাকি টাকা পাননি বলে লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কারখানার মালিকরা।

অন্যদিকে মাল ডেলিভারী দেয়া প্রতিষ্ঠানকেও দোষারোপ করতে পারছেনা। কারণ চুক্তি অনুসারে মাল বিক্রির পর বাকি টাকা দেয়া হবে বলে কথা হয়েছিল। আর এভাবেই তারা সবসময় ব্যবসা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানায়, গত বছর শীত বস্ত্র নিজ খরচে শীত বস্ত্র প্রস্তুত করে বাকিতে মালামাল বিভিন্ন দোকানে ডেলিভারী করা হলেও মালামাল বেচাকেনা হয়নি বলে এখনো টাকা পাওয়া যায়নি। প্রায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা মালামাল বিক্রির পরে টাকা পরিশোধ করে থাকে। আর এভাবেই ব্যবসায় চলে আসছে। তবে এখনো সেসব শীতবস্ত্র বেচাকেনা হয়নি বলে টাকাও পাওয়া যায়নি। তবে এ বছর যদি সব মালামাল বেচাকেনা হয় তাহলে আশা করছি টাকা পেয়ে যাব।

এদিকে নগদ টাকায় মালামাল ক্রয়কারী একজন ব্যবসায়ী জানান, ‘আমি সাধারণত নগদ টাকায় শীত বস্ত্র সহ সব ধরনের মালামাল ক্রয় করে থাকি। তাই প্রতিবারের মত গত বছর দোকানে শীত বস্ত্রের কাপড় তুলেছিলাম। কিন্তু গত বছর শীতের প্রকোপ কম থাকায় বেচাকেনা হয়নি বললে চলে। তাই নগদ টাকায় মালামাল কিনলেও তা গোডাউনে পড়ে আছে। সেসব শীতবস্ত্র গত বছর বিক্রি করতে পারিনি। তাই গত বছর লোকসান গুণতে হয়েছে। আর ব্যবসা তো করতে পারিনি। আর এ বছর যদি ভালভাবে শীত পড়ে তাহলে সেসব বস্ত্র বিক্রি করে কিছুটা লোকসানের অংক কমিয়ে নেয়া যাবে।

তবে এ বছর করখানার মালিকরা শীত নিজ খরচে শীত বস্ত্র তৈরি করতে শঙ্কাবোধ করছেন। কেননা বিগত বছরে শীতের প্রকোপ কম থাকায় ব্যবসায় লোকসান গুণতে হয়েছে। এবারও যদি সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে এই শঙ্কায় রয়েছে। অন্যদিকে শীত বস্ত্র বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা একই শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলছেন, বাকিতে হোক আর নগদে হোক টাকা কিন্তু এক সময় ঠিকই পরিশোধ করতে হবে। আর যদি কোন বছর ঠিক মত ব্যবসা না করা যায় তাহলে বস্ত্র প্রস্তুকারী ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান দুটোকেই লোকসান গুণতে হবে।

তাই এ বছর যদি কোন কারণে মালামাল তোলা হয় তাহলে তুলনামূলক কম পরিমাণে তোল হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ব্যবসায়ীরা একদিকে ব্যবসা করার চিন্তুা করছেন, অন্যদিকে লোকসান থেকে রেহাই পেতে চাচ্ছেন। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে অনেক ব্যবসায়ী শীতের প্রাথমিক অবস্থায় কম পরিমানে মালামাল প্রস্তুত ও ব্যবসা করলেও শীত বাড়ার সাথে সাথে মালামাল প্রস্তুত করার পরিমানও বেড়ে যাবে। অর্থাৎ শীতের তীব্রতার সাথে তাল মিলিয়ে মালামাল প্রস্তুতের মাত্রা কম-বেশি হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে হঠাৎ করে শীত যদি বেশি পড়ে যায় আর সেই সময় এসব সমস্যার কারণে মালামালে সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সইে সময় যদি কোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ঝুকি নিয়ে মালামাল প্রস্তুত করে রাখে তাহলে তারা একচেটিয়ে ব্যবসা করে যেতে পারবে। আর ঝুকি না নিয়ে ব্যবসায় হয়না। তবে ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্তের উপর তাদের লাভ-লোকসান ও তার মাত্রা নির্ভর করছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ