৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

জনদুর্ভোগের নাম সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:০১ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০৭:০৬ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার


জনদুর্ভোগের নাম সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল

খবিরউদ্দিন(৬৫)। পেশা একজন দুধ বিক্রেতা। তার বাড়ি বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের দাঁশেরগাও এলাকায়। তিনি গরুর দুধ বিক্রি করে সংসার চালান। কিন্তু কিছু দিন পূর্বে দুধ নিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় বন্দরের দেউলী চৌরাপাড়া বিধ্বস্ত কবি নজরুল স্কুল সড়কে পা পিচলে পড়ে যান। এতে রাস্তায় উচিয়ে থকা রডে লেগে আহত হন তিনি। যার কারণে দুই সপ্তাহ ধরে তিনি ওই এলাকায় দুধ বিক্রি করতে যেতে পারেননি। এতে সংসারে দেখা দিয়েছে নানা অভাব অনটন। বৃদ্ধ খবিরউদ্দিনের মত এভাবে আহত হয়েছেন এলাকার অনেকে। কিন্তু কোন ক্ষতিপূরণ পাননি।

মাটির নীচ দিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন নিতে লক্ষণখোলার সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল কর্র্র্তৃপক্ষ ৩ মাস আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ডের কবি নজরুল স্কুল সড়কটির মাঝখানে প্রায় ২ কিলোমিটার খনন করে। খোঁড়াখুড়ির কারণে সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

দাঁশেরগাও থেকে লক্ষণখোলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের মাঝখানে খুড়ে ফেলা হয়েছে। কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। এক প্রকার বন্দী জীবন যাপন করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ ও ২৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। দুর্ভোগের যেন শেষ নেই তাদের। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা।

এ অবস্থায় দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। মিলে বিনা বেতনে কিংবা নাম মাত্র বেতনে  শিশু শ্রমিক ও বৃদ্ধা নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়।

শ্রমিকদের অধিকাংশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বাইরে। বেতন কম দেয়ার কৌশল হিসেবে স্থানীয়দের নিয়োগ দেয়া হয় না।  শ্রমিদের মাসিক বেতন ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার বেশী নয়।

এলাকাবাসী জানান, সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল স্থানীয় সন্ত্রাসী মাস্তান ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে প্রায় দেড় যুগ আগে ঐতিহ্যবাহী সোমবারিয়া বাজার খাল ভরাট করে দখলে নেয়। খালটি সরকারী জায়গায় থাকা সত্ত্বেও তা ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বড় আকৃতির গুদামঘর। সরকারী খাল ভরাট করা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। খাল দখলের সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে মিলের পালিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। কাড়িকাড়ি টাকা ঢেলে হামলা ও মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে দমন করে সোহাগপুর টেক্সটাইল মিলের পরিচালক ইসহাক খান। এরপর ইসহাক খান লক্ষণখোলা ট্রান্সফরমারের সামনে একটি পুকুর দখলের চেষ্টা করে। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রবল বাধার মুখে পিছু হটে দখলদার ইসহাক খান বাহিনী।

মিলটি নদীর পাড়ের জায়গা দখল করে দেয়াল নির্মাণ করে জনগণের চলার পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ কর্র্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে মিলের দেয়াল ভেঙ্গে দেয়। এরপর মিল কর্তৃপক্ষ পুনরায় কাটা তারের বেড়া দিয়ে জায়গাটি দখলে নিয়ে নেয়। বর্তমানে সরকারী জায়গাটি মিল কর্র্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করায় মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারীতে কবি নজরুল স্কুল সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। প্রথমে সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য রাস্তা খোঁড়া হয়। এর  কিছুদিন পর এলাকাবাসীর প্রবল আপত্তির মুখে সোহাগপুর টেক্সটাইল মিল মাটির নিচ দিয়ে উচ্চ ক্ষমতা স¤পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন নেয়ার জন্য সড়কের মাঝখানে গভীর খনন শুরু। এরপর থেকে সড়কটি যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রায় ৩ মাস কেটে গেলেও খনন শেষ করে সড়কটি নির্মাণ কিংবা সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা হয়নি। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় পায়ে হেটে  চলাচলও সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান বাসিন্দারা। বিধ্বস্ত সড়কে যাতায়াত করে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন পথচারীরা। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও রোগীদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা। অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে  নির্মাণ কাজ।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ