৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

অবৈধভাবে লিংক রোড ভরাট করছে ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম বাহিনী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২৬ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ০২:২৬ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার


অবৈধভাবে লিংক রোড ভরাট করছে ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম বাহিনী

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ফতুল্লার সাইন বোর্ড এলাকায় মাটি ফেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ভরাট করে ভেঙ্গের ছাতার মতো অবৈধ স্থাপনা তৈরীর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সড়ক দখল করলেও রহস্যজনক নিরবতায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে লিংক রোড ভরাট করে আসছে। আর সেই ভরাট করা স্থানে তৈরী করা হয়েছে টিনের অর্ধশত দোকান ঘর। এসব দোকান ঘর লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে ভাড়াও দেয়া হয়েছে। এখনো অব্যাহত রয়েছে মাটি ফেলে সড়ক দখল।

স্থানীয়রা জানান, নাজিম উদ্দিন চেয়ারম্যানের বাহিনীর রাজ্জাক মোল্লা, আমজাদ, এরশাদুল্লাহ, নূর ইসলাম, লিটন, রাসেল, মাইনুদ্দিনসহ ৮ থেকে ১০জন সাইনবোর্ড এলাকার সকল অবৈধ স্থাপনা ও পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

এদের মধ্যে এরশাদুল্লাহ, রাসেল ও আমজাদ দৈনিক দোকন ঘর ও গনপরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করে। দোকান ঘর ও পরিবহন সেক্টর থেকে দৈনিক প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এছাড়া দোকান ও পরিবহন সেক্টর থেকে মাসিক আরেকটি চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে মাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজী করা হয়।

স্থানীয়রা আরো জানান, সম্প্রতি প্রায় এক হাজার ফুট সড়ক দখল করে মাটি ভরাট করা হয়েছে। ভরাট করা স্থানে একটি পরিবহন স্ট্যান্ড বসানোর কথা রয়েছে। যদি দেন দরবারে বনাবনি না হয় তাহলে সেখানে দোকান ঘর তৈরী করা হবে।

এলাকাবাসী জানান, ৫ থেকে ৬ মাস পূর্বে সাইনবোর্ড এলাকার নিয়ন্ত্রক ছিলেন রাজ্জাক বেপারী ও সুরুজ বেপারী। এদের মধ্যে সুরুজ বেপারী ছিনতাই হত্যাসহ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার হয়। আর কোরবানীর ঈদের আগে রাজ্জাক বেপারীকে হুমকি ধমকি দিয়ে চাপের মুখে রাখা হয়। বর্তমানে রাজ্জাক বেপারী ও সুরুজ বেপারীর কোন কর্তৃত্ব সাইনবোর্ড এলাকায় নেই।

এছাড়া নাজিম উদ্দিনের লোকজন প্রকাশ্যেই বলছে প্রশাসন, সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়ে সড়কে দোকান ভাড়া দিতে হয়। এজন্য প্রতিটি দোকান থেকে অগ্রিম টাকা নেয়া হয়।

পরিবহন চালকেরা জানান, সাইনবোর্ড মোড়টি মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে ঢাকা-চট্রগ্রাম ও সিলেট, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা গনপরিবহন থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো হয়। এখানে দোকান ঘর বসানো মানে জনদুর্ভোগ। 

এবিষয়ে জানতে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের মোবাইলে (০১৭১৫১৫৩৫৬৮)  একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল হোসেন জানান, আমাদের দপ্তর থেকে কাউকে সড়কের জমি ইজারা দেয়া হয়নি। এটি নাজিম উদ্দিনের প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার দাপট। ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি আমাদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার বলতে পারবেন।

উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার জানান, আমাদের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ভরাট করা এলাকাটি ফতুল্লা থানা এলাকায় হলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কেন অভিযোগ করেছেন জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ