৮ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ৯:০১ অপরাহ্ণ

UMo

নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহণে যাত্রী দুর্ভোগ তুঙ্গে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৬ পিএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার


ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহণে একদিকে সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিং চলছে; অন্যদিকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের আগেই যাত্রী নামিয়ে দেয়া নিয়ে এই পরিবহন খাত যাত্রী বিড়ম্বনার শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে এতো অনিয়ম সত্ত্বেও এসব যেন দেখার কেউ নেই।

সম্প্রতি গণপরিবহণে যাত্রীদের বিড়ম্বনার নানা তথ্য জানা যায়। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন পরিবহন, উৎসব পরিবহন, হিমাচল পরিবহন, আনন্দ পরিবহন সহ বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করে। এসব পরিবহন টিকিট সার্ভিস অর্থাৎ সিটিং সার্ভিস হলে বাস্তবে তার উল্টো দৃশ্য চোখে পড়ে। মাঝ পথ থেকে এসব পরিবহনে অহরহ আরোহন করে যাকে যাত্রীরা। এতে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে বিড়ম্বনায় ভুগতে হয়। এদিকে গাড়ির চালক ও  হেলপারদের যোগসাজসে এসব বাড়তি যাত্রী উঠিয়ে প্রতিদিন বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর পথিমধ্যে চেকাররা থাকলেও টাকার বিনিময়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে চালক-হেলপাররা। এভাবে দিনের পর দিন সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিং করে যাচ্ছে। তবে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে যাত্রীদের লাঞ্ছিত হতে হয়। তাই যাত্রীদের অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব বিড়ম্বনা সহ্য করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এতে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ‘এসব পরিবহনে সিটিং সার্ভিসের ভাড়া আদায় করা হলেও আমাদেরকে লোকাল সার্ভিস দেয়া হচ্ছে। আর পথিমধ্যে যাত্রী উঠানো হচ্ছে। এছাড়া সিটের অধিক যাত্রী দাঁড় করিয়ে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু সবার কাছ থেকে ভাড়া কিন্তু সেই সিটিং সার্ভিসেরটা আদায় করা হচ্ছে। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলেও কোন সুফল আসেনা। কারণ, গাড়ির চালক ও হেলপারের খারাপ ব্যবহারের কাছে যাত্রীদের উল্টো লাঞ্ছিত হতে হয়। তাছাড়া চেকিংয়ের লোকেরা টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ হয়ে এসব দেখেও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে সাইনবোর্ড  হয়ে চিটাগাংরোড পর্যন্ত কয়েকটি যানবাহন চলাচল করে থাকে। এদের মধ্যে রয়েছে বন্ধু পরিবহন, বাঁধন পরিবহন, শীতলক্ষ্যা পরিবহন, দুরন্ত পরিবহন। এসব পরিবহনের কিছু কিছু টিকিটে চলাচল করলেও সেই দৃশ্য কিন্তু পাল্টায়না। তবে এসব পরিবহনের অবস্থা আরো করুণ। কারণ, এসব পরিবহনে সিটিং সার্ভিসের ভাড়া রাখলেও লোকাল সার্ভিসের মত যাত্রী উঠা-নামা করে। সিটের কয়েকগুণ বেশি যাত্রী উঠানো হয়; যেকারণে যাত্রীদের ভিড়ের কারণে পা ফেলার জায়গা থাকেনা। এছাড়া নির্দিষ্ট গন্তোব্যের আগেই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে যাত্রীদের হয়রানি করছে। এতে করে যাত্রীরা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করলেও কোন কাজ হচ্ছেনা।

যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব পরিবহনগুলোতে বোঝাই করে যাত্রী তোলা হয়। এতে করে গাদাগাদি করে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয় যদিও ভাড়া আদায় করা হয় সিটিং সার্ভিসের। তবে কালীবাজার কিংবা লঞ্চঘাট যাওয়ার কথা বলে চাষাঢ়া আসলে অনেক পরিবহন যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। আনন্দ পরিবহন, শীতলক্ষ্যা পরিবহন সহ আরো কিছু পরিবহন তাদের কাউন্টারের আগেই গাড়ি ঘুরিয়ে অন্যত্র চয়ে যায়। এছাড়া বন্ধন পরিবহন, উৎসব পরিবহন সহ আরো কয়েকটি পরিবহন তাদের ১ নং কাউন্টার অর্থাৎ লঞ্চঘাটের পাশে হাবিব কমপ্লেক্সের সাথের কাউন্টার পর্যন্ত এসে পৌঁছায়না। যেকারণে যাত্রীরা অযথা বিড়ম্বনার শিকার হয়।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ