রাত হতেই নবীগঞ্জ ঘাটে বাড়ে যাত্রী দুর্ভোগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪০ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০১৮ রবিবার



রাত হতেই নবীগঞ্জ ঘাটে বাড়ে যাত্রী দুর্ভোগ

নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জ খেয়া ঘাটে রাত হলেই যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। রাত হতেই ঘাটে একদিকে ট্রলার কমিয়ে দেয়া হয়, অন্যদিকে যাত্রীদের জিম্মি করে ট্রলার ভাড়া ২টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করে আদায়ের মহোৎসবে মেতে উঠে চালকেরা। এদিকে ঘাট অব্যবস্থাপনা কারণে দিনের বেলা জেটি দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে সেখানে রাতের বেলা দুর্ভোগের সীমা থাকেনা।

সম্প্রতি নবীগঞ্জ খেয়া ঘাট ঘুরে দুর্ভোগের নানা তথ্যা পওয়া যায়।

জানাগেছে, নবীগঞ্জ ঘাটে দিনের বেলা ট্রলার ভাড়া ২ টাকা করে আদায় করা হয়। কিন্তু রাত ৮/ ৯ টার পর থেকে ট্রলার সব বন্ধ করে দিয়ে ঘাটে শুধুমাত্র ২-১ একটি ট্রলার চলাচল করে। এসময় ট্রলার ভাড়া ২ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করে আদায়ের মহোৎসবে মেতে উঠে ট্রলার চালকেরা। ঘাটে প্রায় ৩০ টির বেশি ট্রলার রয়েছে বলে জানা গেছে। দিনের বেলা প্রায় এসব ট্রলারের অধিকাংশ চলাচল করলেও রাতের আধার নামতেই এসব ট্রলার বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন মাত্র দু-একটি ট্রলার ঘাট দিয়ে চলাচল করে এতে যাত্রীদের তীব্র ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এদিকে ঘাট অব্যবস্থাপনার কারণে জেটির অর্ধেক অংশ ভেঙে গিয়ে বাকি অর্ধেক অংশ দিয়ে যাত্রীদের চলাচল করতে হয়। এই জেটি দিয়ে রাতের বেলা চলাচল তো দূরের কথা দিনের বেলা চলাচল করা বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, ‘রাত হতেই  ঘাটের মাঝিরা যাত্রীদের জিম্মি করে ৫ টাকা করে ভাড়া আদায় করে। এসময় মাত্র ২-১ টি ট্রলার চলাচল করে বলে তীব্র ভিড় দেখা দেয়। এসময় তীব্র ভিড় ঠেলে জীবনের ঝুিিক নিয়ে আমাদের নদী পারাপার হতে হয়। তাছাড়া ঘাটের জেটির যা অবস্থা তা দিয়ে তো দিনের বেলা পারাপার হওয়া যায়না। এক কথায় ঘাটের বেহাল দশা দেখার যেন কেউ নেই।

আরো জানা যায়, ‘এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নবীগঞ্জ ঘাটের প্রতিটি ট্রলারে ১৫ জন করে যাত্রী পারাপারের নিয়ম রয়েছে। আর যাত্রীদের ভাড়া জন প্রতি ২ টাকা এবং রিজার্ভ ২৫ টাকা করে নিয়ম রয়েছে। আর নৌকা বা ট্রলার চালাবে তারা দৈনিক ১শ টাকা করে জমা দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। তবে এসব নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা করা হচ্ছেনা। ঘাটে দিনের বেলা ২ টাকা করে আদায় করা হলেও ১৫ জন যাত্রীর পরিবর্তে ছোট ট্রলারে ২০-২৫ জন এবং বড় ট্রলারে ৩৫-৪০ জন যাত্রী উঠিয়ে বাড়তি টাকা আদায় করছে। আর রাতের সময়ে তো অনিয়মের সীমা থাকেনা। এ হিসেবে চালকেরা যাত্রীদের জিম্মি করে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ঘাটের অনিয়মের ব্যাপারে একাধিক সূত্র জানায়, ‘ঘাটের ট্রলার মালিকদের মধ্যে অনেকে জমার টাকা দেয়না। তবে মাঝিরা জমার টাকা মালিকদের দিলেও মালিকদের অনেকে সেই জমার টাকা দেয়না। অন্যদিকে ঘাটের খরচ বাবদ টাকা নৌকা কিংবা ট্রলার মালিকরা দেয়না বলে ঘাটের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় কোন পরিবর্তন আসছেনা। আর ঘাটের অব্যবস্থাপনা থেকেই যাচেছ। আর যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুতেই লাঘব হচেছনা


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও