৩ মাঘ ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ , ১:৫৫ অপরাহ্ণ

বিএনপি জামায়াতের বর্বরতায় সাজানো সংসার তছনছ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৫ পিএম, ৯ জানুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:১৫ পিএম, ৯ জানুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার


বিএনপি জামায়াতের বর্বরতায় সাজানো সংসার তছনছ

‘আমি তো রাজনীতি করি না। কিন্তু নির্মম রাজনীতির শিকার হয়েছি। আগুনে পুড়ে গেছে আমার সারা শরীর। এখন আমার সন্তান আর পরিবারের লোকজনও পুড়ে যাওয়া শরীর দেখে আঁতকে উঠে। কী দোষ আমার, আমি তো কোন অন্যায় করি নাই। আমার কারণে পড়ালেখা করা ছোট ভাইয়েরাও এখন কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।’

কথাগুলো বলতে গিয়ে ঢুকরে কাঁদলেও চোখের পানি ঠিকমত বের হচ্ছিল না। কারণ পেট্রোল বোমার আগুন জালিয়ে দিয়েছে তার শরীর, শুকিয়ে দিয়েছে চোখের পানিও। ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারী পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে এখনও বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী গ্রামে বাড়ি সালাউদ্দিনের। রাস্তার পাশেই টিনের ঘর। কোন রকম পরিবার নিয়েই ওই ঘরে বসবাস করেন তিনি। এক সময়ে যে ঘর থাকতো উচ্ছাস আর আনন্দে সেই ঘরে এখন বিষাদের ছায়া। কারণ যার আয়ে সচল থাকতো পুরো পরিবার সেই ব্যক্তি এখন অচল বেকার হয়ে পড়ে রয়েছেন বিছানায়।

সালাউদ্দিন বলেন, ‘বাবা আবদুস সাত্তার মারা গেছেন ৬ বছর বছর আগে। তখন থেকেই আমি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে ‘ক্যাথে রেডিমেন্ট গার্মেন্ট’ নামের একটি কাপড়ের দোকানে চাকরী শুরু করি। বেতন ভালোই দিত দোকান মালিক। আর সে বেতনের টাকা দিয়েই চলতো পুরো সংসার। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সালাউদ্দিন তৃতীয়। আর ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয়। সালাউদ্দিনের দুই ছেলে হাসিব হোসেন ও আবির হোসেন দুইজনই স্থানীয় ‘পাঁচরুখী হাজী সাহেব আলী ফকির উচ্চ বিদ্যালয়’ এর অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।’

‘কিছুদিন আগেও ছেলেদের সঙ্গে ঘুরতে যেতাম ছুটি পেলেই। তারাও সব সময়ে আমার কাছেই থাকতো। কিন্তু আগুনে আমার শরীর পুড়ে যাওয়ার পরে এখন অনেকেই ভয় পায়।’

বলেই কাঁদতে শুরু করে সালাউদ্দিন। বলেন, ‘আমার কি দোষ, নিজের পেটের তাগিদেই ঝুকি নিয়ে দোকানে গিয়েছিলাম। ২৩ জানুয়ারী রাত ১০টায় যখন বাসে করে ফিরছিলাম তখনই মাতুয়াইলে একটি পেট্রোল বোমায় পুরো বাসটি জ¦লে যায়। আগুনে পুড়ে যাই আমি। ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে থেমে থেমে ছয় মাস চলে চিকিৎসা। সরকার ওই সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসার টাকা মওকুপ করেছিল।’

সালাউদ্দিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চিকিৎসা করাতে ৪ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করাতেই চলে গেছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া আরো ছোটখাট অনেক অপারেশন করা হয়েছে। ডাক্তার আরো একটি অপারেশন এর কথা বললেও টাকা ম্যানেজ করতে না পারায় সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শরীরের অবস্থা দিন দিন নাজুক হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, নির্মম রাজনীতির শিকার হয়েছি আমি। একটু আক্ষেপ করেই বললেন, ‘ছোট ভাই আলামিন, আলাউদ্দিন ও আমির হোসেন আগে পড়ালেখা করতো। সব খরচ আমি চালাতাম। কারণ তখন আমি চাকরী করতাম। টাকার সমস্যা হতো না। আমি ২৩ জানুয়ারীর পর থেকেই বেকার। এখন আমাকেই চালাতে হয় অন্য ভাইদের। তাই তারা লেখাপড়া ছেলে এখন কাজ করে। তাদের উপার্যিত টাকা দিয়েই চলতে হয় আমাকে।’

শেষ দিকে একটু জোর দিয়েই বললেন, ‘চেহারা আগুনে পুড়েছে সেটা না হয় মানিয়ে নিতে পারবো। কিন্তু দুই হাতও পুড়ে অচল হয়ে যাচ্ছে। এখন তো আর কাজ করতে পারবো কী না সেটা নিয়েও সন্দিহান। আমি আবার কাজ করতে চাই। হাল ধরতে চাই সংসারের। ভালো চিকিৎসা পেলে হয়তো আবার কাজ করতে পারবো। আমার তো বয়স আছে নেই শুধু সক্ষমতা।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ