১০ বৈশাখ ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৪ এপ্রিল ২০১৮ , ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

Kothareya1150x300

শীতে নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত শিশুরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২০ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:২০ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার


শীতে নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত শিশুরা

কয়েকদিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে নারায়ণগঞ্জে বেড়ে গেছে রোগ ব্যাধি। যার মধ্যে বেশি শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। নারায়ণগঞ্জ শহরে দুই সরকারি হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ৯দিনে দেড় হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে যার মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৭৫ জন শিশু। এসব আক্রান্তদের মধ্যে সর্দি, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়ারিয়া জনিত রোগ।

১০ জানুয়ারী বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকাতে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে অন্যান্য রোগী তুলনায় শিশুর সংখ্যা বেশি। শিশুদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ডাক্তার কাছে ভীড় করছেন অভিভাবকেরা।

শহরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে ২ বছরের তাসিয়াকে নিয়ে ডাক্তারে কাছে এসেছেন নয়না বেগম। তিনি বলেন, ‘গত দুইদিন ধরে ঠান্ডায় শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। নাক দিয়ে পানি পড়ে আর রাতে প্রচ- কাশি থাকে। ভালো ভাবে ঘুমাতে পারে না।’

শহরের বাবুরাইল এলাকা থেকে ২ বছরের শিশু নিরবকে নিয়ে আসা মালেকা বেগম বলেন, ‘গরম কাপড় দিয়ে সব সময় ঢেকে রাখি। তারপরও কিভাবে যেনো ঠান্ডা লেগে যায়। গত দুই দিন ধরে প্রচন্ড কাশি। আর সারাদিন কান্না করে।’

হাসপাতালে শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাক্তার ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে যেসব শিশু আসছে তাদের মধ্যে হাঁপানি, এজমা, কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি। গত এক সপ্তাহে ৫’শ থেকে ৬’শ শিশুকে দেখেছি। তাদের মধ্যে ৯০ ভাগ শিশুরই ডায়ারিয়া জনিত আর ঠান্ডায় আক্রান্ত।’

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহ উত্তরাঞ্চল বা পাহাড়ি এলাকার তুলনায় নারায়ণগঞ্জে কম। তবে হালকা বাতাস সহ শীত আছে। যার জন্য বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা কম। ১ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪২ জন শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।’

এদিকে শহরের খানপুর এলাকার ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান চন্দ্র পোদ্দারের রুমের সামনে দীর্ঘ লাইন। যাদের সকলই তাদের সন্তানদের শীত জনিত রোগের জন্য নিয়ে এসেছেন।’

৪ মাসের শিশু তাহসিনকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নানী জোসনা বেগম বলেন, ‘৩ দিন ধরে নাক দিয়ে পানি পড়ছে আর প্রচন্ড কাশি আর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। রাতে কান্না করে ঘুমায় না।’

৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান চন্দ্র পোদ্দার বলেন, ‘১ জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৩০ জন রোগী আসছে। তাদের প্রত্যেকেরই ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়া আক্রান্ত। কয়েকজন আসছে নিউমোনিয়া আক্রান্ত। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নিউমোনিয়ার আক্রান্ত রোগির সংখ্যা কম।

হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের ১২ নাম্বার বিছানার ৫ মাসের শিশু ওয়াজিদের মা ইয়াছমিন বেগম বলেন, ‘প্রচ- ঠান্ডা কাশি। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। পরে ৩ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করি।’

৩ মাসের শিশু ফাতেমার বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ক’দিনের শীতে প্রথমে নাক দিয়ে পানি পড়তে থাকে। পরে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ও কান্না করে। তাই গত ৭ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করি।’

হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স শেফালী আক্তার বলেন, ‘১ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৩ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ২২ থেকে ২৩ জনই ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত। যাদের কয়েকজন দুইদিন থেকে ৩ দিন হাসপাতালে থাকার পর সুস্থ্য হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। হাসপাতালে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা কম।’

৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোতালেব মিয়া বলেন, ‘শীত সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম। যারাও আসছে তারাও চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছে। কয়েকজন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরও নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া আছে।’

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন এহসানুল হক বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেখানেও রোগির সংখ্যা কম। এখনও পর্যন্ত শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কোন শিশু মৃত্যুর খবর আমাদের কাছে নেই। তারপরও আমরা সকল ডাক্তারদের বলে দিয়েছি যাতে বাবা-মা, অভিভাবকদের শিশুর যতœ নেওয়ার জন্য যেন সচেতন করার হয়।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ