করুণাময় গোস্বামী ছিলেন শিক্ষার আলোকবর্তিকা

৩ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় শিক্ষক দিবস

করুণাময় গোস্বামী ছিলেন শিক্ষার আলোকবর্তিকা


এস. এম শহিদুল্লাহ || লেখক: একজন সমাজকর্মী ও কলাম লেখক।

প্রকাশিত : ১০:২৯ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:২৯ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার


করুণাময় গোস্বামী ছিলেন শিক্ষার আলোকবর্তিকা

যে কোনো জাতির উন্নতির মূলে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় শিক্ষাই তাদের উন্নতির মূল কারণ।

শিক্ষার প্রকৃত অর্থ হলো, ‘যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষকে সমাজপোযোগী করে গড়ে তোলা হয়, তাই শিক্ষা।’ শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে অক্ষর জ্ঞান। অক্ষরজ্ঞান ব্যতিত শিক্ষার অন্যান্য মাধ্যম করায়ত্ব করা কঠিন। তাই সর্বাগ্রে মানুষকে অক্ষরজ্ঞানে শিক্ষিত হতে হয়। এজন্য প্রয়োজন ভাল শিক্ষক। একজন ভাল শিক্ষক  একজন ছাত্রের জীবন আমূল বদলে দিতে পারেন। জন্মের পর একটি শিশুর শিক্ষা গ্রহণের প্রথম পাঠ শুরু হয় তার পরিবারে। কিন্তু তার পরেই তাকে শিক্ষাদানের মহান দায়িত্ব অর্পিত হয় শিক্ষকের ওপর। শিক্ষকই একটি ছাত্রকে সৎ ও মেধাবী করে তোলে। শিক্ষক পথ দেখান, ভবিষ্যতের দিক-নির্দেশনা দেন। আর শিক্ষার্থী সেই দেখানো পথে চলে, নির্দেশনা মেনে চলে।

শিক্ষক হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকের সম্পর্ক যত বেশি ভাল হবে, সুন্দর হবে, বন্ধুত্বপূর্ণ হবে শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে তত ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।

একজন ভাল শিক্ষক একজন ছাত্রেকে নবজন্ম দিতে পারেন। সম্ভাবনা আর সাফল্যের দুয়ারে পৌঁছে দিতে পারেন। তেমনই একজন শিক্ষক ছিলেন, ড. করুণাময় গোস্বামী। তিনি ১৯৪৩ সালের ১১ মার্চ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গোঁসাই চান্দুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম রাসবিহারী গোস্বামী আর মা জ্যোৎস্না রানী দেবী।

তিনি ছিলেন শিক্ষক সমাজের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ এবং ছাত্রসমাজের আলোকবর্তিকা। তাঁর কর্মকান্ড আজও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’ প্রাপ্ত একজন শিক্ষক। তিনি ২০১২ সালে একুশে পদক লাভ করেছিলেন। এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পদক লাভ করেছেন।

যদিও তিনি নজরুল গবেষক হিসেবে অধিক পরিচিত ছিলেন। সবশেষ ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজে শিক্ষকতা করলেও ড. করুণাময় গোস্বামী দীর্ঘকাল নারায়ণগঞ্জে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৬৪ সালে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে তোলারাম কলেজে যোগ দেন করুণাময় গোস্বামী। রবীন্দ্র ও নজরুল সঙ্গীতে পারদর্শী করুণাময় গোস্বামী তখন থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। তোলারাম কলেজে ছিলেন ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। মাঝে করোটিয়া সাদত কলেজসহ আরো কয়েকটি কলেজে শিক্ষকতা করার পর ১৯৯৮ সালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। তিনি অধ্যাপনাজীবনের শেষ পর্যায়ে মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবেই অবসর গ্রহণ করেন।

স্বনামধন্য এ সঙ্গীতজ্ঞ শিক্ষক সুধীজন পাঠাগারের পরিচালকও ছিলেন। তাঁর রচিত প্রায় ৭০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। গত বছরের (২০১৭) ৩০ জুন শুক্রবার রাত পৌনে ১২টায় তিনি ঢাকায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

ড. করুণাময় গোস্বামীর ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁর প্রিয় শহর নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় শশ্মানে তাঁর শেষকৃত্য করা হয়। সেখানে জানানো হয় বিনম্র শ্রদ্ধা।

বর্তমানে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ কোচিং বাণিজ্যের কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্হা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এসকল কাজে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও শিক্ষক জড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রকে হতে হবে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন। শিক্ষার মান্নোয়নে যুগোপযোগী শিক্ষক প্রশিক্ষণের নানামুখি পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাঙ্গণ থেকে দুষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষক বাদ দিতে হবে। তাহলেই দেশে আবার জন্ম নিবে ড.করুণাময় গোস্বামীদের মতো আদর্শবাদী শিক্ষক। তাতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ফিরে পাবে তার হারাণো গৌরব।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ