২ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , ২:৩১ অপরাহ্ণ

UMo

রূপগঞ্জের ফুল যায় সারাদেশে


রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সোমবার


রূপগঞ্জের ফুল যায় সারাদেশে

বাঙালীর বসন্তবরণ, বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারীর শহীদ দিবসকে ঘিরে রূপগঞ্জের মাসুমাবাদ ও ভোলাবো এলাকার ফুল চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার এ দু’গ্রামের ফুল যায় সারাদেশে। প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকার ফুল বিক্রি করে ফুল চাষীরা। দিবসগুলোকে ঘিরে ভালবাসার ফুলে লেগেছে বাণিজ্যের ছোঁয়া। এবার প্রায় দেড় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় ফুল চাষীরা। দিন দিন বেড়েই চলছে ফুলের চাষ ও এর ব্যবহার। রূপগঞ্জের ভোলাবো ও মাসুমাবাদ এলাকাজুড়ে আবাদ করা হয়েছে নানা জাতের ফুল। গাঁদা,গোলাপ, রজনিগন্ধা আরো নানা জাতের ফুল চাষ হচ্ছে এখানে। সকালে ফুলের সৌরভে চারদিক মৌ মৌ করে। হাল্কা বাতাস এই গন্ধ ছড়িয়ে দিচ্ছে আশপাশের এলাকায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো ও মাসুমাবাদ এলাকার ফুল চাষীরা রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছে। এক দশক আগেও এখানে ধান, আলু, মরিচ, মূলা, বেগুন সহ প্রচলিত মৌসুমী ফসলের চাষাবাদে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষি কার্যক্রম। কিন্তু এখন দিন বদলে গেছে। সনাতনি সে চাষীরা এখন জমির পর জমি জুড়ে আবাদ করছে নানা জাতের ফুল। চাষীরা জানিয়েছেন অন্যান্য ফসলের চেয়ে ফুল চাষে লাভ অনেক বেশী। ফুল চাষ করে জীবনকে বদলে নিয়েছে রূপগঞ্জ  উপজেলার অনেক কৃষক ও বেকার যুবক।

সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকাগুলোতে চাষ করা হয়েছে লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, রজনী গন্ধা, গাঁদা, বেলি, কামিনী, সূর্যমুখী, ডায়মন্ড, গরম ফেনিয়া ও চন্দ্র মলি¬কা সহ নানা জাতের ফুল। কথা হয় মাসুমাবাদ এলাকার সফল ফুল চাষী নাঈম মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, ১৯৮৮ সালে তিনি এসএসসি পরীক্ষক্ষা দেন। এসময় ৪ ভাই-বোনসহ ৭ জনের সংসারে অভাব অনটন দেখা দিয়েছিল। তখন ভাই বোনদের মধ্যে নাঈম সবার বড় হওয়ায় পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে নেমে পড়েন জীবন সংগ্রামে। চাকরী নেন সিদ্ধিরগঞ্জ এলকার সমতা নার্সারীতে। একটানা ৪ বছর চাকরী করেন সেখানে। এরপর রাজধানী ঢাকার এক ফুলের দোকানের তিন বছর চাকরীর অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নেমে পড়েন ফুল চাষে। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাড়ির পাশের ২০ শতাংশ জমিতে ফুলের চাষ করেন তিনি। প্রথম বছরেই পাঁচ হাজার টাকা পুঁজিতে লাভ হয় প্রায় দশ হাজার টাকার মতো। নাঈম মিয়া আরো জানান, প্রথম বছরেই ভাল লাভ হওয়াতে পরের বছর আরো অধিক জমিতে ফুলের চাষ করেন তিনি। কিন্তু তখন ঢাকা শহরে নিয়ে গিয়ে ফুল বিক্রি করতে হতো। অনেক সময় উপযুক্ত মূল্য হতে বঞ্চিত হতেন মিলন। তাই তার উৎপাদিত ফুল বিক্রির জন্য রাজধানীর শনির আখড়ায় নিজেই মল্লিক পুষ্প বিতান নামে একটি দোকান গড়ে তোলেন তিনি। বর্তমানে তিনি ৭ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলের আবাদ করেছেন।

এর মধ্যে গাঁদা ফুলই বেশী চাষ হচ্ছে তার জমিতে। শুধু নাঈম মিয়াই নন তার মত এই এলাকার  জয়নাল, বাতেন, মিয়াজ উদিদন, রফিক, দিলদারসহ আরও অনেক যুবক  ফুল চাষকে পেশা হিসাবে নিয়ে জীবন পাল্টে নিয়েছেন। ভোলাব এলাকার ফুল চাষী মিয়ািজ উদ্দিন  জানান, ফুল চাষ করে তিনি সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। চার লাখ টাকা খরচ করে দুই বোনকে বিয়ে দিয়েছেন। পাকা বাড়ী নির্মাণ ও প্রাইভেটকার সব ফুল চাষের মাধ্যমে হয়েছে। তার পরিকল্পনা আরো অধিক জমিতে ফুল চাষ করা। তার মতো আরো অনেকে ফুল চাষ করে ভাগ্যকে বদলে নিয়েছে। এলাকার বেকার যুবকরা এখন ফুল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তারা বাড়ীর আঙ্গিনায় ফুল চাষ করে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। আরো অনেকেই আবাদ করেছে ফুল। চাষীরা জানান, আগে রূপগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ জমিতে শুষ্ক মৌসুমে রবিশশ্য সহ নানা আবাদ হতো। ফুল চাষে অধিক লাভ জনক হওয়ায় চাষীরা এখন রবিশষ্য চাষের পরিবর্তে ফুল চাষের দিকে ঝুকছে। ভোলাবো এলাকার ফুল চাষী করিম বেপারী বলেন, দিবস আসলে ব্যবসা ভাল হয়। রূপগঞ্জের ফুলের চাহিদা দেশ জুড়ে। প্রতিবছরই প্রায় কোটি টাকার ফুল যায় সারাদেশে। এবার দেড় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

রূপগঞ্জের ভোলাবো এলাকার ফুল চাষিরা জানান, নারায়নগঞ্জ, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভালবাসা দিবস,পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফার্ষ্ট নাইট, ২১ ফেব্্রুয়ারী, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরসহ জাতীয় দিবস গুলো ছাড়া ও জন্ম বার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী, গায়ে হলুদ, গাড়ী সাজানো, বিভিন্ন ধরনের পূজা-পার্বন ও সভা-সমাবেশে ফুলের বেশ চাহিদা রয়েছে। এসব দিবসে আসলে ফুলের দাম একটু বেশি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন রূপগঞ্জের আমির হোসেন, জায়েদ আলী,  আব্বাস সহ কয়েকজন চাষী। চাষীরা জানিয়েছেন, সার বীজ, ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া উৎপাদন খরচ একটু বেশি পড়ছে। একাধিক কৃষক জানান, ফুল চাষীদেরকে সরকারী ভাবে পর্যাপ্ত সুুযোগ সুবিধা প্রদান করলে আরো অধিক হারে ফুল চাষ সম্ভব হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু ফাতেহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, ফুলচাষীদেরকে পর্যাপ্ত আধুনিক প্রশিক্ষণ, ফুলের সংরক্ষণ, পরিবহন, প্যাকেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানসহ যথাযথ সহযোগিতা করা গেলে স্থানীয় ফুল চাষীরা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারবে। তিনি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ