২৯ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

UMo

নারায়ণগঞ্জে লোকাল বাসের সংকট


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১২ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সোমবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহন বাসের সংকট কমলেও বেড়েছে লোকাল বাসের সংকট। শহর এবং শহরতলীতে হাতে গোনা কয়েকটি লোকাল বাস চলাচল করছে। যে কয়টি চলছে তা বিক্ষিপ্তভাবে। কী সংখ্যক লোকাল বাস রয়েছে তার সঠিক হিসেব কেউ জানে না। খোদ লোকাল বাসের সঙ্গে জড়িতরাও এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোন হিসেব দিতে পারে না।

আর এই সুযোগটি নিয়েছে অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা, অটো, টেম্পু, লেগুনা, সিএনজি। যা একদিকে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে আর অন্যদিকে যাত্রীদের থেকে নিচ্ছে অধিক হাড়ে ভাড়া।

তবে সুযোগটি অনৈতিকভাবে নিচ্ছে সিটিং বাসের চালক ও সহযোগীরা। এই রুটে দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসা চালিয়ে আসা ‘বন্ধু, উৎসব, বন্ধন, শীতল, শীতলক্ষ্যা, আনন্দ’ নামধারী পরিবহনগুলো সড়কের মাঝ থেকে টিকিট ছাড়া যাত্রী উঠিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করে। ফলে এই রুটগুলোতে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ হয় অবর্ণনীয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাসের দেখা না পাওয়ায় তাদের ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে আসতে হয়।

নারায়ণগঞ্জ শহরের পাশের কয়েকটি রুটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশি যাত্রী চলাচল করা রুটগুলো মধ্যে রয়েছে চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড, কালিরবাজার-শিমড়াইল, চাষাঢ়া-পাগলা সড়ক। এসব রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে থাকে। এসব যাত্রী লোকাল বাস পাওয়া ও কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছার যে প্রত্যাশা তা দিন দিন ফিকে হয়ে উঠছে।

বাস মালিকরা লোকাল বাস বন্ধ করে দিয়ে টিকিট কাউন্টারের সিটিং সার্ভিস চালু করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে দূর থেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছেন, এমন অভিযোগ করেছেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

একসময় এসব রুটে পর্যাপ্ত লোকাল বাস চলাচল করতো। তার মধ্যে রয়েছে সোনারগাঁও-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাঁধন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে আল্লাহ ভরসা সহ নাম ছাড়া অনেক পরিবহন। যা এখন নাই বললেই চলে। মাঝে মাঝে এসব বাসের দেখা মিলে যাত্রীদের নজরে।

আর এই সুযোগে অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা, অটো, টেম্পু, লেগুনা, সিএনজির চালকের কাছে অসহায় যাত্রীরা জিম্মি হয়ে যায়। নানা অজুহাতে যাত্রীদের জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ আদায় করছে অসাধু চালকরা। নিয়মিত যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্বল্প আয়ের নানা পেশার যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তি অন্ত থাকেনা। নিরুপায় যাত্রীরা মানতে বাধ্য হচ্ছে অসাধু চালকদের দাবি। কিন্তু অসাধু চালকদের হ্রাস টেনে ধরার কথা যাদের সেই প্রশাসন এসব ঘটনায় একদমই নির্বিকার আর নির্লিপ্ত ভূমিকা যেন পরিহাস করছে যাত্রীদের সঙ্গে।

জালকুড়ি বাস স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মোরশেদ কালিরবাজারের বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, এই রুটে লোকাল বাস নাই। লেগুনা বা অটো যে সব রয়েছে তারা কালিরবাজার পর্যন্ত যায় না। তাই বাধ্য হয়ে ঢাকা থেকে আসা সিটিং বাসে দৌড়ে উঠি। হেলপারের কাছে ভাড়া দিলেই হয়। তবে তা যদি সম্ভব না তবে বাধ্য হয়ে লেগুনা বা অটোতে গিয়ে চাষাঢ়া বা জেলা পরিষদ নেমে রিক্সায় কালিবাজার যাই। অনেক খরচ হয়।

দিনমুজুর হালিম প্রতিদিন ফতুল্লা থেকে নিতাইগঞ্জ যাতায়াত করেন। তিনি বাস না পেলে অটোতে পঞ্চবটি সেখান থেকে বেবিটেক্সিতে চাষাঢ়া এসে হেটে নিতাইগঞ্জ যান। হালিম বলেন, এতে খরচ বেশি হয়। অথচ লোকাল বাস পেলে তিনি কম খরচে এবং কম সময়ে নিতাইগঞ্জ চলে যেতে পারেন। এদিকে কারো নজর নাই। ভোগান্তিই আমাদের নিয়তি বলে আক্ষেপ করেন।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ