৮ আষাঢ় ১৪২৫, শুক্রবার ২২ জুন ২০১৮ , ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি : নেই পিলখানা তবু দেয়া হয় ইজারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৮ পিএম, ৪ মার্চ ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৩:১৮ পিএম, ৪ মার্চ ২০১৮ রবিবার


অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি : নেই পিলখানা তবু দেয়া হয় ইজারা

অ্যানথ্রাক্স গবাদিপশুর একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। গবাদিপশু থেকে এ রোগ মানুষেও ছড়ায়। এ রোগের জীবাণু দ্বারা সংক্রামিত খাদ্য খেয়ে বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী-নালার পানি ও জলাবদ্ধ জায়গার ঘাস খেয়ে গবাদিপশু অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়। এই অ্যানথ্রাক্স রোগ দেশের একাধিক জেলায় ছড়িয়েছে। এতে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির পূর্বে তা পশু ডাক্তার দ্বারা পরিক্ষা করে এবং নির্দিষ্ট স্থানে তা জবাই করার নির্দেশনা থাকলেও মানছেন না নারায়ণগঞ্জ সদরের মাংস বিক্রেতারা।

তবে মাংস বিক্রেতাদের দাবী সদরে একটি পশু জবাইখানা (পিলখানা) থাকলেও তা রয়েছে প্রায় এক যুগ ধরে বেহাল অবস্থায় পরিত্যক্ত। সেখানে কোন পশু জবাই করার মতো পরিবেশ নেই। কিন্তু পশু জবাইখানা (পিলখানা) প্রতি বছরই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে ইজারা দেয়া হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীকে।

মাংস বিক্রেতারা জানান, নিজস্ব দোকান ঘরে পশু জবাই করলেও উপজেলা থেকে নিয়ে আসা ওই ইজারাদারদের টাকা দিতে হয়।

সরেজমিনে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে একটি পশু জবাইখানা (পিলখানা) তৈরি করা হয়েছিল দুই যুগ আগে। গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে সেখানে কোন পিলখানা নেই। অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে যত্রতত্র রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে সেই মাংস বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

ফতুল্লার মাংস বিক্রেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানিয়ে বলেন, বর্তমানে গরু ও খাসির দাম বেশি। আর মাংসও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। ফলে কম দামে গরু ও খাছি কিনে বেশি দামে মাংস বিক্রির জন্য কসাইরা যে যেভাবে পারছে রোগাক্রান্ত গরু ও খাছি ক্রয় করে দোকান ঘরে নিয়ে আসছে। অনেক সময় দেখা যায় অনেক গরুর পুরো শরীর ভর্তি ঘা। অথবা অসুস্থ্য হয়ে নড়া চড়া করতে পারছেনা। এসব পশু নিজ চোখে দেখলে কেউ মাংস কিনে খেতে চাইবে না। কিন্তু কসাইরা নিজ দোকান ঘরে দরজা লাগিয়ে রাতের অন্ধকারে জবাই করে চামড়া ছাড়িয়ে মাংস সাজিয়ে রাখে। এসব পশুর মাংস খেয়ে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হবে এটা স্বাভাবিক।

দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার আলী হোসেন জানান, পশু জবাইখানা (পিলখানা) নেই তাহলে ইজারা দেয়া হয় কেন। এটা সম্পূর্ন অবৈধ। এ অবৈধ কাজ বন্ধ করা জরুরী। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রতিটি বাজারে মাংসের দোকানে মোবাইল কোর্টের অভিযান চালানোও জরুরী। আর নয়তো অ্যানথ্রাক্স রোগে কেউ আক্রান্ত হলে এর দায়ভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিতে হবে।

লালপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হয়ে প্রতিবাদ করা জরুরী। উপজেলা প্রশাসন থেকে পশু জবাইখানার (পিলখানা) নামে চাঁদাবাজীর অনুমতি দেয়া হচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে। জীবানুমুক্ত মাংস নিশ্চিত করতে পশু জবাইখানা (পিলখানা) তৈরী করতে হবে।

উপজেলার একটি সূত্র জানান, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দ-প্রাপ্ত নূর হোসেনের সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সহযোগী খান সুমন ওরফে বিটু ও তার অন্য সহযোগীরা কথিত পিলখানার ইজারা নিয়েছেন। প্রায় ৮/১০ বছর যাবত তারাই এই পিলখানার ইজারা নিয়ে থাকেন। ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রে পত্রিকায় কোন বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়না। আর ওই কথিত পিলখানার ইজারা ওই সন্ত্রাসী বাহিনী ছাড়া অন্য কাউকে দেয়া হয়না। এতে ওই সন্ত্রাসীরা উপজেলার প্রতিটি বাজারে গিয়ে ৮/১০ বছর ধরে জোর করে চাঁদা আদায় করছে। মাংস বিক্রেতারা তাদের চাঁদাবাজীর প্রতিবাদ করে পিলখানা নির্মাণের অনুরোধ করলে তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেয়া ও ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। এ নিয়ে প্রায় সময় বিভিন্ন বাজারে মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথিত ইজারাদাদের বাগবিতন্ডা হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ