নীরব ঘাতক শব্দ দূষণের কবলে নারায়ণগঞ্জ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৫ পিএম, ৬ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার



নীরব ঘাতক শব্দ দূষণের কবলে নারায়ণগঞ্জ

নীরব ঘাতক শব্দ দূষণের কবলে নারায়ণগঞ্জ। যে কোন গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহার করা হচ্ছে আ্যম্বুলেন্স ও পুলিশের জরুরী হর্ণ। এসব হর্ণের কারনে মারাত্মক শব্দ দূষণ হলেও নেই কোথাও আইনের ব্যবহার। জেলার নেই কোথাও মোবাইল কোর্ট বা পুলিশের তল্লাশী।

জনসাধারনের মতে, এসব হর্ণ যারা যানবাহনে বা মোটর সাইকেলে ব্যবহার করে তাদের হর্ণ ভেঙ্গে দিয়ে জরিমানা করতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এসব হর্ণ ব্যবহারকারীদের জেল জরিমানা করতে পারেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলায় কোথাও শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে অভিযান নেই। এতে শব্দ দূষণ বেড়েই চলছে।

মাহমুদপুরের আবুল হোসেন জানান, মহল্লার গলি সড়কে চার চাকার কোন যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। সে সড়কে হঠাৎ পুলিশের জরুরী হর্ণ বেজে উঠলো। ভয় পাওয়ার মত। দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির গেইটে এসে দেখি স্থানীয় বখাটের মোটরসাইকেল দাঁড়ানো। সেই মোটরসাইকেলে লাগানো হয়েছে ওই হর্ণ।

হরিহরপাড়া এলাকার নেয়ামত উল্লাহ জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির একটি প্রাইভেটকার আছে। সেই প্রাইভেটকার বিভিন্ন স্থানে ভাড়ায় লোকজন আনা নেয়া করে। চালক হঠাৎ প্রাইভেটকারে এ্যম্বুলেন্স ও পুলিশের জরুরী হর্ণ লাগিয়ে গভীর রাতে বাজিয়ে এলাকায় ফিরেছেন। এতে ভয়ে অনেকেই ঘুম থেকে উঠে বাড়ির গেইটে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ধারনা ছিল এলাকায় হয়তো ডাকাত পড়েছে তাই পুলিশ ধাওয়া করেছে। পরে ওই প্রাইভেটকারে জরুরী হর্ণ লাগানো দেখে অনেকেই বকাঝকা করেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ যানবাহনে ও মোটর সাইকেলে জরুরী হর্ণ লাগিয়ে মানুষের মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি করছে। এসব হর্ণ যারা বাজায় তাদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনা জরুরী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। অথচ রাজধানী ঢাকায় ১০৭ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ তৈরি হচ্ছে।

শব্দ দূষণের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ১৯৯৭ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে শহরকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে: নীরব এলাকা, আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, শিল্প এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা। এসব এলাকায় দিন ও রাত ভেদে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবেল, শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবেল, নীরব এলাকায় ৪৫ ডেসিবেল, আবাসিক কাম বাণিজ্যিক এলাকায় ৬০ ডেসিবেল, রাতের জন্য সর্বত্র ১০ ডেসিবেলের কম। এই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা চিহ্নিত করা হয়। আইনানুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব জায়গায় মোটরগাড়ির হর্ন বাজানো বা মাইকিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও