নারায়ণগঞ্জে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৪ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮ মঙ্গলবার



নারায়ণগঞ্জে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে

নারায়ণগঞ্জে অহরহ ঘটছে প্রতারণার ঘটনা। তবে প্রতারণার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তাই প্রতারক চক্র নতুন নতুন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কখনো বিকাশ কর্মকর্তা সেজে, কখনো নিকটস্ত আত্মীয়ের অসুস্থতার কথা বলে, আবার কখনো দোকানিদের কম টাকা দিয়ে কিংবা বেশি টাকা দাবি করে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করে থাকে। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব প্রতারণার নানা তথ্য ও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিছুদিন পূর্বে শহরের চাষাঢ়ার একটি বিকাশের দোকানে কল দিয়ে বিকাশের হেড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নানা ভাবে বিকাশের দোকাদারকে ফাঁদে ফেলতে চেষ্টা করেন। এসময় বিকাশের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারক বিশ্বাস অর্জন করতে বলেন, ‘ দোকানদারকে  বিকাশ অফিস ও এসআর এর  নাম সহ কোন হাউজের অধীনে আছে এসব বলে দেয় যাতে করে সহজেই বিশ্বাস অর্জন করা যায়। এরপর বিকাশ এজেন্ট থেকে এজেন্টে টাকা পাঠানোর  নিয়ম শিখতে একটি নির্দিষ্ট নম্বর টাইপ করতে বলে। এই নির্দিষ্ট নম্বরটি টাইপ করতেই দোকানির বিকাশ একাউন্টটি হেক হয়ে যায়। তখন দোকানির বিকাশ একাউন্টে থাকা ৮২ হাজার টাকা নিমিশেই গায়েব হয়ে যায়। এভাবেই হাজারো সাধারণ মানুষ প্রতারক চক্রের ধোকায় পড়ে তাদের সম্পদ হারাচ্ছে, কেউ কেউ তাদের সর্বস্ব হারাচ্ছে।

প্রতারণার আরেকটি অভিনব কৌশল হচ্ছে নিকটস্থ আত্মীয়স্বজনদের অসুস্থতার কথা বলে জরুরী ভিত্তিতে বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়া। এক্ষেত্রে প্রতারক চক্র যে ব্যক্তিতে টার্গেট করে তার নিকটস্থ আত্মীয় সম্পর্কে খোঁজ খবর সহ বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করে থাকে। এরপর সুযোগ বুঝে সেই টার্গেটকৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের ফোন থেকে কৌশলে ফোন করে টার্গেট করা ব্যক্তির কাছ থেকে জরূরী ভিত্তিতে টাকা চাওয়া হয়। আবার অনেক সময় সেই আত্মীয়ের ফোন নম্বরটি মত ক্লোন নম্বর বানিয়ে ফোন করা হয়। আর তাতে খুব সহজেই টার্গেটকৃত ব্যক্তিতে খুব সহজে ধোকা দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে তার সেই নিকটস্থ আত্মীয়ের কোন দুর্ঘটনা হয়েছে বলে জরুরী ভিত্তিতে টাকা চাওয়া হয়। আর এমন পরিস্থিতিতে সহজেই প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে সাধারণ মানুষ। আর এভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা সম্প্রতি অনেকটা বেড়ে গেছে।

এছাড়াও সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন স্থানে নারীদের টার্গেট করে কোন পণ্য হাতে ধরিয়ে দিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ওই নারীরা তাদের পরণে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন প্রতারকচক্রের হাতে তুলে দিচ্ছে। ওইসময় নারীদের একপ্রকার সম্মোহনের মতো অবস্থা হয়। কিন্তু যখন ঘোর কাটে তখন আর করার কিছুই থাকেনা।

এদিকে ফল বিক্রেতা কামাল জানায়, ‘ফল কেনার নাম করে প্রতারকেরা বিভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয় নেয়। গত একদিন আগে ১ হাজার টাকার একটা নোট দিয়ে এক হালি কমলা কনলে বাকি ৯শ ৪০ টাকা ফেরত দেই। কিন্তু ফোনে কোন এক ব্যক্তির সাথে কথা বলে পরক্ষণে বলে ফল লাগবেনা, বাসায় ফল কিনে ফেলেছে এই বলে ফল ফেরত দেয়। এর সাথে তার হাতে থাকা ভাংতি টাকাগুলো ফেরত দিলে আমি ১ হাজার টাকার নোট ফেরত দেই। কিন্তু এরই মধ্যে সে তার হাতে থাকা টাকাগুলো থেকে কোন এক মুহূর্তের মধ্যে ৫টি ১শ টাকার নোট সরিয়ে তার পরিবর্তে ১০ টাকার ৫ টি নোট ভিতরে গুজে দিয়ে সেই আগের ভাজেই টাকা ফেরত দেয়। এর কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি ১ হাজার টাকার একটি জাল নোট দিয়ে এক কেজি আপেল কিনে নেয়। ওই দিন সারাদিনের লাভ তো দূরের কথা উল্টো মূলধনের টাকা থেকে লোকসান হয়েছে।

এছাড়া কিছু দোকানি বলছেন, ‘প্রায় সময় টাকা না দিয়ে অনেকে টাকা দেয়ার কথা বলে পরে টাকা দাবি করে বসে। এই তো সেদিন, এক লোক এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে বলে বাকি টাকা ফেরত দেন। তখন ক্যাশে ১ হাজার টাকার একটি নোট বাহির থেকে দেখা যাচ্ছিল। তথন তিনি সেই নোটটি তার দেয়া বলে দাবি করে। আর এভাবে বিভিন্ন সময় প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নেয়।

প্রতারকরা নানা ভাবে প্রতারণার বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে মানুষকে ধোকা দিয়ে কাউকে সর্বশান্ত করছে, কাউকে আবার প্রতারিত করে হয়রানি করছে। তরে প্রতারকরা বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার কৌশল পাল্টে নতুন নতুন কৌশল তৈরি করছে। এতে করে সাধারণ মানুষ তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। কেউ কেউ এই ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে। আবার কেউ কেউ হয়রানির শিকার হচ্ছে। তবে এই ফাঁদ থেকে বেঁচে ফেরা লোকের সংখ্যা খুবই কম।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও