৭ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮ , ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

‘শহরে বড় ট্রাক বড় জট’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৪ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:০৪ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার


ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

নগরীতে দিনের বেলায় ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। তবে কয়েকমাস যেতে না যেতেই আবার শুরু হয়েছে সকাল থেকেই নগরীতে ট্রাক প্রবেশ। ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের ট্রাক নগরীতে প্রবেশে নতুন করে শুরু হয়েছে নগরীতে যানজট। তার সঙ্গে জনগণের ভোগান্তিতো আছেই। এসব ট্রাক প্রবেশ বন্ধ হলে যানজট বন্ধ হয়ে মিলবে শান্তি এমনটাই আশা নগরবাসীর।

১৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা গেছে। এছাড়াও কিছু ট্রাক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হয়ে ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ (পুরাতন) সড়ক দিয়েও চলাচল করতে দেখা গেছে। এ রাস্তায় ট্রাক চলাচলের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চাষাঢ়া মোড় ঘুরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট যা চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে নগরীর ২নং রেলগেট পর্যন্ত লেগে যায়। এছাড়াও নগরীতে প্রবেশের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন উভয় সড়কেও সৃষ্টি হয় যানজট। আর মূল সড়কের যানজট গিয়ে পড়ে নগরীর শাখা সড়কগুলোতেও।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার পাইকারী ব্যবসার জন্য মূলত দিনের বেলায় শহরে ট্রাক প্রবেশ করে চলে যায় নিতাইগঞ্জ এলাকার বঙ্গবন্ধু সড়কের উপরে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এমপি সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শহরের নিতাইগঞ্জে ট্রাক স্ট্যান্ড উঠানো ও ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার দাবী করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এর প্রেক্ষিতে গত ৩১ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে নিতাইগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ড নিয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যাতে সিদ্ধান্ত হয় ১ আগষ্ট থেকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে পাইকারী মোকামে লোক আনলোড রাতের বেলায় চলবে। দিনের বেলায় কোন ট্রাক থাকতে পারবেনা এমনকি তাদেরকে শহরের বঙ্গবন্ধু ও সিরাজদ্দৌলা সড়ক দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবেনা। রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নিতাইগঞ্জের বোটখালের উপরে লোড আনলোড করবে ব্যবসায়ীরা।

এর পর ১ আগস্ট থেকেই শহরের যানজটের চিত্রই বদলাতে শুরু হয়। নগরীর চিরচেনা যানজটের দুর্ভোগ ভুলতে শুরু করে নগরবাসী। কিন্তু নতুন করে সেই দুর্ভোগ আবারও দেখা দিতে শুরু করেছে। শহরের নিতাইগঞ্জে ট্রাক স্ট্যান্ড বসতে শুরু করেছে যার জন্য প্রতিনিয়িত শহরে ঢুকছে ট্রাক আর এ সুবাদে নগরীর চাষাঢ়া মোড় ঘুড়ার সুযোগ নিচ্ছে অন্যন্য জেলার ও এলাকার ট্রাকগুলোও। এতে করেই নগরীতে বেশি সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

উৎসব পরিবহনের বাস চালক শফিক আহমেদ বলেন, ‘ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলে মূলত যানজটের ভোগান্তি হয় না। এগুলো এসব রাস্তায় ধীর গতিতে চলে যার জন্য মোড় ঘুরাতে গিয়ে যানজট সৃষ্টি হয়। আর বেশি গতিতে চলছে দূর্ঘটনা ঘটে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নগরীর বেশি কয়েক মাস যানজট ছিল না। শুধু মাত্র ট্রাক না থাকায় যানজট ৮০ ভাগ কমে গেছে। কারণ ট্রাকগুলোই মূলত যানজট বেশি সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে অবৈধ রিকশাও আছে। শহরের দিনের বেলায় ট্রাক পুরোপুরি বন্ধ রাখতে পারলে যানজট হবে না। যেমন শুক্রবার কিংবা শনিবার দিনের বেলায় তেমন কোন যানজট দেখা যায় না। তবে যানজট দেখা যায় বাকি ৫দিনই। সেই তুলনায় বেশি থাকে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পাগলা পুরাতন সড়ক দিয়ে আসা যাওয়াকারী শহরের খানপুর এলাকার বাসিন্দা হৃদয় খান বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ট্রাকের জন্য পঞ্চবটি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। এ যানজট ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে থাকে। পরে যখন শহরের চাষাঢ়া হয়ে বের হয়ে যেতে আসে তখনও চাষাঢ়া মোড়ে যানজট হয়। এজন্য কখনো কোন ট্রাফিক পুলিশকে বাধা দিতে দেখি না।’

গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, ‘যানজট শুধু ট্রাকের জন্য হয় তা না। সব পরিবহনের জন্যই যানজট হয়। এক্ষেত্রে ট্রাক ৫০ থেকে ৬০ ভাগ যানজট বেশি হয়। বড় বড় ট্রাক প্রবেশ করলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আবার এগুলো চাষাঢ়া ঘুরে বের হতে গেলেও লাগে যানজট। দুই মিলে নগরীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট ভোগান্তি। তবে এসব ট্রাক বন্ধ হলেই মিলবে প্রশান্তি।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ