৭ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

সংকীর্ন শীতলক্ষ্যার নৌরুট, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৪ পিএম, ৬ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার


সংকীর্ন শীতলক্ষ্যার নৌরুট, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যার নৌরুট ক্রমশ সংকীর্ন হয়ে পড়ছে। একদিকে চলছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালী মহল কর্তৃক নদী দখল ও ভরাটের মহোৎসব। অপরদিকে এলোপাথারি জাহাজ বার্থিংয়ের (নোঙর) কারনে বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে নৌরুটটি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে হাজার হাজার নৌযান। খেয়া পারাপারে নিয়োজিত থাকা অসংখ্য ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও নৌকাও চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এসকল নৌযানের অধিকাংশেরই দক্ষ চালক না থাকার কারণে নদীপথে বেড়েই চলেছে নৌ দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও।

জানা গেছে, একসময় বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য নগরী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ পরিচিতি পেয়েছিল শীতলক্ষ্যাকে কেন্দ্র করেই। বৃটিশ শাসনামলে এই শীতলক্ষ্যার মাতলাঘাটেই (যা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল) ভীড়তো ভারতীয়সহ বিদেশী জাহাজগুলো। মাতলাঘাট থেকে কলকাতা রুটে চলাচল করতো জাহাজ। তবে কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের সেই ঐতিহ্য। প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব ও দূষণে মূমূর্ষ শীতলক্ষ্যার নৌরুটও ক্রমশ সংকীর্ন হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর থেকে প্রতিদিন ৭টি রুটে অন্তত ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। প্রতিদিন চলাচল করে থাকে অসংখ্য পণ্যবাহী নৌযান। ১৩টি খেয়াঘাটে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও নৌকায়। নৌরুট সংকীর্ন হয়ে পড়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার জানান, শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা প্রিমিয়ার সিমেন্ট, বসুন্ধরা সিমেন্ট, সিমেক্স সিমেন্ট, আকিজ সিমেন্ট, বাংলাদেশ সিমেন্ট, সুপারক্রীট সিমেন্ট,  মীর সিমেন্ট, সাতঘোড়া বা ইস্টার্ন সিমেন্টসহ বেশ কয়েকটি সিমেন্ট কারখানাগুলোর সামনে ক্লিংকার ও ফ্ল্যাইঅ্যাশবাহী অসংখ্য বড় আকারের জাহাজ নোঙর করে রাখে। এছাড়াও সিটি মিল, শবনাম ভেজিটেবল, রূপচাঁদা, আফতাব ফুড, পারটেক্স গ্রুপ, এসি আইসহ বড় শিল্পকারখানাগুলোর সামনে অসংখ্য বৃহদাকারের জাহাজ নৌঙ্গর করে রাখে। নিতাইগঞ্জ পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্রের সামনেও অসংখ্য পণ্যবোঝাই নৌযান বার্থিং করে রাখা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা ও মেঘনা ডিপোর সামনেও অনেক জাহাজ বার্থিং করে রাখা হয়। এতে করে ওই এলাকাগুলো দিয়ে দু’টি নৌযান পাশাপাশি যেতে পারেনা। জোয়ার ভাটার কারণে অনেকসময় চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়। ছোট নৌযানগুলোর অনেকগুলোতেই সার্টিফিকেটধারী চালক নেই। একদম অদক্ষ চালক দিয়েই অনেক নৌযান চলছে। প্রশিক্ষণ না থাকায় কোন দিকে হর্ণ দিতে হবেও তাও অনেকে জানেনা। এছাড়া বালুমহালের ইজারাদারের নিয়োজিত সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে অনেক বালুবাহী বাল্কহেডের চালকরা রাতে চালায়। তারা দিনের বেলায় লস্কর, বাবুর্চির হাতে স্টিয়ারিং দিয়ে ঘুমিয়ে নেয়। এতে করে দুর্ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপ পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহ জানান, বাল্কহেডগুলো নদীতে বিপজ্জনকভাবে চলাচল করে। এগুলোর না থাকে বাতি না থাকে প্রশিক্ষিত চালক। নদীর দুই তীরে শিল্প কারখানাগুলোর সামনে যাতে করে পণ্যবোঝাই জাহাজ বেশীদিন বার্থিং করে রাখা না হয় সেজন্য কারখানাগুলোর মালিকপক্ষ্যকে ইতিপূর্বে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া নদীতে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে থাকেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ