৭ আশ্বিন ১৪২৫, শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

বৈশাখী পোশাক ‘পুরুষের ফতুয়া নারীর শাড়ি’


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ১০:০৪ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০১৮ মঙ্গলবার


বৈশাখী পোশাক ‘পুরুষের ফতুয়া নারীর শাড়ি’

বাংলা পঞ্জিকার পাতায় চৈত্রের মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। আর তাই দ্রুতগতিতে চলছে বর্ষবরণ উৎসবের প্রস্তুতি। নগরীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বাসা বাড়িতেও নতুন বছর উপলক্ষে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। এর ভীড় বাড়ছে নগরীর বিপনী বিতানগুলোতেও। তাছাড়া স্বল্প আয়ের মানুষগুলো ভীড় করছে চাষাঢ়া হকার মার্কেটে। সবখানেই শিশুদের পছন্দ বৈশাখী লেখা এসো হে বৈশাখ, এসো এসো, ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাঞ্জাবী ও ফতুয়ার আর নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে লাল, হলুদ শাড়ি।’

১০ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে. অন্ধকার থাকা হকার মার্কেটে আলো আলোকিত। মার্কেট ও ফুটপাতের সামনে বসেছে দোকানপাট। আর সেখানেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ লেখা সম্বলিত পাঞ্জাবী, টি-শার্ট, শাট, গেঞ্জি, ফতুয়া সহ বিভিন্ন পোশাক। ছেলেরে পাশাপাশি রয়েছে মেয়েদের পোশাকও। তবে বড়দের তুলনায় ছোটদের বৈশাখী পোশাকই বেশি। এক দৃশ্য দেখা গেছে নগরীর বড় বড় বিপনী বিতানগুলোতেও। তবে সেই সব দোকান গুলোতে ছোটদের ও নারীদের পোশাকের বিক্রিই ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা। তাছাড়া নগরীর শাড়ি দোকানগুলোও লাল, সাদা, হলুদ শাড়িতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের ভীড়ও চোখে পড়ার মতো।

নগরীর গ্রীণ সুপার মার্কেটের বিক্রেতা আলতাফ হোসেন বলেন, লাল ও হলুদ শাড়ির ক্রেতাই বেশি। তাছাড়া সাদার মধ্যে লাল চিক পাড়ের শাড়ীর কদরও কম না। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। নতুন বছরকে ঘিরে এ সময়টায় শাড়ির বেচাকেনাও ভালো হয়।’

ডিআইটি মার্কেটের বিক্রেতা রহমান মিয়া বলেন, ‘বৈশাখে বাচ্চাদের ও নারীদের শাড়ি বেশি বিক্রি হয়। এসময় দামী কাপাড় তেমন একটা বিক্রি হয় না। ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকার মধ্যে লাল, হলুদ সুতি শাড়ি গুলো খুব বেশি চলে। তাছাড়া ভারতীয় সিল্কের কাপড়ও বিক্রি হয়।’

বর্ষণ সুপার মার্কেটের বিক্রেতা প্রদীপ জানান, ‘বাচ্চাদের পোশাক ভালো বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বড়দের জিন্স, ফতুয়া এসবও বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেশি না হওয়া তেমন কোন অভিযোগ নেই। কারণ বৈশাখের সময় খুব বেশি দামি পোশাক বিক্রি কম হয়। তাছাড়া গরম বলে সবাই সুতী কাপড় খুজে।’

এদিকে চাষাঢ়া হকার মার্কেটের বিক্রেতা আব্দুল্লাহ আল হেলাল বলেন, ‘বাচ্চাদের পাঞ্জাবীর সেট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর কমে আরেকটি সেট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বৈশাখে সবাই বৈশাখী লেখা দেখে কিনতে চাই তাই দোকানের কালেকশনও বৈশাখী পোশাক। এখন নতুন বছর উপলক্ষে এসবই বেশি চলে। সাদার মধ্যে দেশি ডিজাইন না থাকলে চলে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। এমনিতে বেচাকেনা ছিল না বৈশাখী মৌসুম বলে কিছু বেচাকেনা আছে।’

বাচ্চাদের জন্য বৈশাখী পোশাক কিনতে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘নতুন বছরে বাচ্চারা নতুন জামা খুঁজে। তাই তাদের জন্য কিনতে আসা। তাদের পছন্দ বৈশাখি ঢোল, ঘুড়ি, বৈশাখী লেখা সহ পোশাক। আমি নিজের জন্য শাড়ি কিনেছি। কারণ পহেলা বৈশাখে আমাদের সংস্কৃতিতে শাড়িও সব থেকে বেশি পছন্দ। সবাই শাড়ি পড়তেই ভালোবাসে।

ক্রেতা মোতাহের হোসেন বলেন, ‘দুইটি পাঞ্জাবী কিনেছি রঙের শোরুম থেকে। তাও লাল রঙের। কারণ পহেলা বৈশাখে পাঞ্জাবী পড়তেই ভালো লাগে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ