৭ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ

বিরল প্রজাতির গুইসাপ উদ্ধার


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:১১ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০২:১১ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার


বিরল প্রজাতির গুইসাপ উদ্ধার

নগরীর ডনচেম্বার এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির গুইসাপ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৫ এপ্রিল রোববার ২ টা ৫০ মিনিটে মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের লিডার সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে ৬ জনের একটি টিম এই গুইসাপটিকে উদ্ধার করে।

সাইদুর রহমান জানান, ডনচেম্বার এলাকায় ফখরুদ্দিনের মালিকানাধীন বিক্রমপুর টিম্বার ট্রেডার্সে গুইসাপটি পাওয়া যায়। সম্ভবত পাশের ডোবা থেকে উঠে এসে এখানে আশ্রয় নেয়। পরে এলাকাবাসী দেখে আমাদেরকে খবর দিলে আমরা গিয়ে গুইসাপটিকে উদ্ধার করি। এটি প্রায় ৭ ফিটের মতো লম্বা হতে পারে। গুইসাপটির গায়ের রং গাঢ় বাদামি বা কালচে, তাতে হলুদ রঙের রিং বিদ্যমান রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ জানান, গুইসাপটিকে নারায়ণগঞ্জে সংরক্ষণ করার কোন ব্যবস্থা না থাকায় সময় ও সুযোগ বুঝে যে কোনো এক সময় নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুই সাপ বা গোসাপ হিসাবে পরিচিত প্রাণীটির ইংরেজি নাম মনিটর লির্জাড। এরা সাপ নয়। এটি বড়সড় টিকটিকির মতো দেখতে কিন্তু সাপের মতো দ্বিখ-িত জিভসম্পন্ন প্রাণী। এটি ভ্যারানিডি গোত্রের সরীসৃপ। ‘গুই/গো’ নামটি এসেছে ‘গোধিকা’ থেকে। বৃহত্তম গুই সাপ হল ইন্দোনিশিয়ার কোমোডো ড্রাগন। সম্প্রতি প্রমাণিত হয়েছে কোমোডো ড্রাগনেরও বিষ আছে। বাংলাদেশে তিন প্রজাতির গুইসাপ দেখা যায় এগুলো হলে জলগোধিকা, স্থলগোধিকা ও স্বর্ণগোধিকা।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে দেখতে পাওয়া গুইসাপটি জলগোধিকা। এটি সর্বোচ্চ সাড়ে ১০ ফুটের মতো লম্বা। গুই সাপটি দেখতে গাঢ় বাদামি বা কলচে তাতে হলুদ রঙের রিং বিদ্যমান। পা ও নখ লম্বাটে। লেজ চ্যাপ্টা ও শিরযুক্ত। এরা দ্রুত গাছে উঠতে পারে। সাঁতরে খাল বিল পুকুর সহজেই পাড়ি দিতে পারে। এদের প্রধান খাদ্য কাঁকড়া, শামুক, ইঁদুর, হাঁস মুরগি ডিম, পচা গলা প্রাণীদেহ ও উচ্ছিষ্ট। এছাড়াও গুইসাপ মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ও পাখি খায়। তারা ছোট কুমির, কুমিরের ডিম ও কচ্ছপও খায়। এছাড়াও বাকি দুই প্রজাতির গুই সাপ বাংলাদেশে দেখা যায় না। বাংলাদেশের ১৯৭৪ এর ২ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বন বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, ‘গুই সাপ পরিবেশবান্ধব একটি প্রাণী। এরা মানুষের কোন ক্ষতি করে না। গুই সাপ বিষাক্ত বা হিং¯্র প্রাণী না। এছাড়াও এদের শরীরে কোন প্রকার বিষ নেই। এটা আমাদের পরিবারের ময়লা আবর্জনা খেয়ে বেঁচে থাকে। এতে ভয় পাওয়া কিছু নেই। এটা সর্বোচ্চ মানুষকে কামড় দিতে পারে সেটাও কোন মানুষ যদি এটাকে বিরক্ত করে। তাছাড়া কিছুই করবে না।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ