৪ কার্তিক ১৪২৫, শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮ , ৬:১৯ অপরাহ্ণ

UMo

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই অসুস্থ্য


রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২২ পিএম, ১২ মে ২০১৮ শনিবার


রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই অসুস্থ্য

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই অসুস্থ্য হয়ে আছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রোগীরা প্রতিদিনই অন্তহীন ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় আসা অনেক রোগীকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ অন্য হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছেনা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সটি ১ মাস মাস চললে ৬ মাস অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে করে হাসপাতালে আসা রোগীদের পরতে হয় ভোগান্তিতে। এছাড়া দালালদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রোগীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখা গেল একজন মূমূর্ষ রোগী মৃত্যুর মাটিতে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। ওই রোগী বিষ পান করেছে। শরীফ নামে ওই মূমূর্ষ রোগী কাপড়ে ময়লা থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভেতরে না ঢুকিয়ে হাসপাতালের বাইরে ফেলে রাখে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে তারা বলে রোগীর ভেতর থেকে বিষ বের দেওয়া হয়েছে। তাই রোগীকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের চালককে অ্যাম্বুলেন্স বের করা কথা বলা হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের চালক বাবুল বলে অ্যাম্বুলেন্স ৬ মাস ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অ্যাম্বুলেন্স অকেজো হয়ে থাকলেও বাবুল প্রতি মাসেই বেতন নিচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৮ইং সনে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। প্রসূতি, ধাত্রীসেবা কেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দালালের দৌড়াতœ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাসপাতালে কর্মরত আয়া ও কর্মচারীরাই জড়িত হয়ে পড়েছে রোগী ভাগিয়ে নেয়ার কু-কর্মে। এতে বাদ যায়নি চিকিৎসকরাও। এতে দিনের পর দিন রোগী ভোগান্তি চরমে ওঠেছে। বাড়ছে হয়রানীও। কিন্তু জনবল ও নানা সরঞ্জামাদী সংকট নিয়ে এতোদিন ঢিলে ঢালাভাবে সেবা দিয়ে আসলেও অত্যধিক প্রাইভেট হাসপাতাল বৃদ্ধি পাওয়ায় দালালের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। এতে হতদরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের  সরকারী সেবা বঞ্চিত করতে দালালেরা নিয়েছে নানা কৌশল। সরকারী হাসপাতালের সেবা ভাল না এসব বলে রোগী মনে তৈরী করেছে অনাগ্রহ। তাই আইনি জটিলতা ছাড়া সাধারন রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন না এ হাসপাতালে।

সূত্র আরো জানায়, উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য এ সরকারী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রটিতে নানামুখী সংকট রয়েছে। এক্সরে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম, অ্যাম্বুলেন্স সহ বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক সংকট রয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদুল হাসান মাহমুদ বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি এক মাসের মধ্যে ঠিক করা হবে। রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যে। এছাড়া হাসপাতালের কোন কর্মকর্তা যদি রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহিরাগত দালালদের আর রোগী তা চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। তাই দালাল নিয়ন্ত্রণ হাসপাতালের দায়িত্ব নয়। তবে অভ্যন্তরীন কোন সরঞ্জামাদি ও চিকিৎসক সংকটের কারণে  দুই একজন রোগী বেসরকারী হাসপাতালে স্বেচ্ছায় ভর্তি হন বলেই জানি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ