১ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ

UMo

ব্যস্ত দিগুবাবুতে ভোগান্তি চরমে


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৪৬ পিএম, ১৩ মে ২০১৮ রবিবার


ব্যস্ত দিগুবাবুতে ভোগান্তি চরমে

সকাল, দুপুর, বিকাল, সন্ধ্যা, রাত কোনো সময় ফাঁকা নেই নারায়ণগঞ্জ শহরের দিগুবাবুর বাজার। ব্যস্ত এ বাজারে পাইকার, যানবাহন, গদির মহাজন, ক্রেতা, শ্রমিক কোন কমতি নেই। একেক সময় একেক কাজে ব্যস্ত থাকে শহরের প্রধান এ কাঁচা বাজার। অথচ এখানে এসে ক্রেতা-বিক্রেতা নানা রকম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পরে ময়লার ভাগাড় নিয়ে। তার উপর রয়েছে দুর্গন্ধ, কুকুরের উপদ্রব, সরু রাস্তায় দুই পাশে হকার মাঝে রিক্সা, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি, কুলির ধাক্কাধাক্কিতে ক্রেতা হয়ে যায় কোনঠাসা। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এ অবস্থা হয়ে উঠেছে আরো দুর্বিসহ।

শহরের একমাত্র পাইকারী কাঁচাবাজার দিগুবাবুতে রাত ভর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মালামাল আসে মজুদ হয়। ভোর থেকে শুরু হয় পাইকারী কেনাবেচা, বেলা বাড়তে থাকলে পাইকার কোলাহল কমতে থাকে, শুরু হয় খুচরা কেনাবেচা। খুচরা ক্রেতাদের আনাগোনা দুপুরে কমে আসলে শুরু হয় বিকালের বেচাকেনার জন্য শহরের আশপাশ থেকে আসতে থাকে টটকা সবজি যা চলে বিকাল পর্যন্ত। বিকালের পর থেকে শুরু হয় ঘরমুখি মানুষের ঢল। যা চলে রাত এগারোটা পর্যন্ত। এর মধ্যেই আবার শুরু হয়ে যায় পাইকারী মাল আসা যা বাড়তে থাকে রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এমন এক ব্যস্ত বাজারে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার লোকের আনাগোনা হয়। অথচ এখানে রয়েছে ভোগান্তির সব রকমের উপাদান, এসব সমস্যা সমাধানে না আছে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ, না আছে বাজার কতৃপক্ষের চেষ্টা। মাঝে পড়ে আছে মানুষের ভোগান্তি আর ভোগান্তি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার মাঝখানে ট্রাক রেখে ময়লা সরানোর কাজ করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তাই রাস্তার শেষ মাথা পর্যন্ত গাড়ির যানজট লেগে গেছে। যতক্ষণ না ট্রাক বোঝাই হচ্ছে, ততক্ষণ এভাবেই আটকা থাকতে হবে গাড়িগুলোকে। রাস্তার পাশে দেয়ালে ঘেঁষে ময়লার বিশাল স্তূপ। তার আশপাশেই পশরা নিয়ে বসেছেন তরকারি, মাছ, মুরগি, মুদি, গুড়, চিড়া-মুড়ির দোকানিরা। যাঁরা এ রাস্তার নতুন পথিক, তাঁরা ময়লার স্তূপের পাশে দোকানদারি দেখে অবাক হবেন। কিন্তু এখানকার যাঁরা নিয়মিত দোকানি, তাঁদের কাছে ব্যাপারটা গা-সহা। ময়লার সামনে বসে বেচাকেনা করলেও তাঁদের ক্রেতা কিন্তু কমে না।

দিগুবাবু বাজারের মুদি দোকানি দেবনাথ বলেন, অনেক দিন আমরা এ ডাস্টবিন সরিয়ে অন্য জায়গায় নেওয়ার কথা বলেছি, কিন্তু নেয় না। খুব কষ্টে আছি ভাই। তিনি জানান, প্রতিদিনই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা সরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু যে তুলনায় ময়লা নিয়ে যান, তার চেয়ে বেশি জমা হয়ে যায়।

বাজারের দাকানদারদের দাবি বাজার কমিটির লাকজন ময়লা সরানো বাবদ প্রতি দোকান থেক ১০ থেক ১৫ টাকা করে নেয় অথচ ময়লা পরিষ্কার করে না।

ব্যবসায়ী রহিম বলেন, সকালের চেয়ে ময়লা বেশি ফেলা হয় রাতের বেলায়। তখন কেউ থাকে না। দূরের গাড়ি পণ্য খালি করে উচ্ছিষ্ট ফেলে চলে যায়। অথচ ভোরের আগেই যদি ময়লা পরিষ্কার করা হয় তবে অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

কুতুবউদ্দিন বলেন, কুকুর বেড়ে গেছে বাজারে অনেকের জামাকাপড় টেনে ধরে। কাঁচা বাজার হওয়ায় বৃষ্টি থাকলেও কাঁদাপানি থাকে না থাকলেও। সেইযে রাস্তা তৈরী হয়েছে তার পর আর কারো নজর নাই। যে যেভাবে পারে নিজের দখলের জায়গাটুকু সংস্কার করে। এজন্য কোন সমন্বয় নাই। ফলে কোথাও উচু আবার কোথাও নিচু হয়ে গেছে। এজন্য দরকার সমন্বয়। না হলে সমস্যা দিন দিন বাড়বে বলে মত দেন তিনি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ