যেসব কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজট

৪ ভাদ্র ১৪২৫, রবিবার ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৫:২০ অপরাহ্ণ

যেসব কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজট


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৫১ পিএম, ১৫ মে ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:২৬ পিএম, ১৫ মে ২০১৮ মঙ্গলবার


যেসব কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজট

নারায়ণগঞ্জ শহরে গত কয়েকদিন ধরে ভয়াবহ যানজট দেখা দিয়েছে। মার্কেটের সামনে পার্কিং না থাকা, অনুমোদনহীন রিকশা চলাচল, দিনে ১৬বার শহরের তিন স্থানে রেল ক্রসিং ফেলার কারণে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজটের কারণে শহরে চলাচলই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে অভিযোগ নগরবাসীর। তাদের মতে, আসন্ন রোজার আগে এ যানজট নিরসন না হলে বড় ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।

১৬০ মিনিট বন্ধ থাকে সড়ক
রেল ক্রসিংয়ে যানজটের প্রধান কারণের ব্যাখা দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রতিদিন ১৬টি ট্রেন দুইবার করে আপডাউন মানে ৩২ বার চলাচল করে। শহরের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনটি হলো কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন। শহরের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনে যেতে তিনটি রেল ক্রসিং অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে চাষাঢ়া রেল ক্রসিং যেটা নারায়ণগঞ্জ-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে অবস্থিত, দ্বিতীয়টি বঙ্গবন্ধু সড়কের ২নং রেল গেট ও তৃতীয়টি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এক নং রেল গেট। ৩২ বার ট্রেন চলাচল করার কারণে ৫মিনিট করে ক্রসিং হিসাব করলে ১৬০ মিনিট যান বন্ধ থাকতে হয়। আর এ ক্রসিং এর কারণে পুরো শহরে দেখা দেয় যানজট। যেহেতু তিনটি ক্রসিং শহরের প্রাণকেন্দ্রগুলোতে সেহেতু রেল স্টেশন চাষাঢ়া নিয়ে গেলে এ সমস্যা দূর হবে। এর মধ্যে গাড়ি ক্লিয়ার করতে করতে শহরের ভিতরে যানজট সৃষ্টি করে ফেলে।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ট্রেনের ক্রসিং কিছু করার নেই। এখন দেখা উচিত ঢাকা থেকে আগত ট্রেনটা চাষাঢ়া থেকে কোন ভাবে ঘুরিয়ে দেয়া যায় কিনা। অন্যদিকে চাষাঢ়া এলাকায় দুটি বড় কলেজ আছে ‘তোলারাম কলেজ ও মহিলা কলেজ’ এ দুই কলেজ ছুটি হওয়ার পর চাষাঢ়া রাস্তায় চাপ সৃষ্টি হয়।

বহুতল ভবনের নিচে পার্কিং ব্যবস্থা নেই
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কগুলোর পাশে অবস্থিত বহুতল ভবনগুলোতে কোন ধরণের পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার কারণে গাড়িগুলো রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা হয়। এছাড়া অনেক বিপনী বিতান ও মার্কেটগুলোতেও প্রায় সময়ে প্রচুর গাড়ি পার্কিং করে থাকে। অন্যদিকে শহরের উকিলপাড়া এলাকাতে রয়েছে প্রচুর হোসিয়ারী কারখানা। এ কারণে ওই কারখানাগুলোর সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে মালামাল লোড আনলোডের জন্য গাড়ি পার্কিং করে রাখার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

রিকশার আধিক্য
এমনিতে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত রিকশা রয়েছে ১০ হাজারের মত। ছোট এ শহরে আবার শহরতলীর তথা ইউনিয়ন পরিষদের রিকশা আসার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমোদন ছাড়া রিকশা আধিক্য কমানো প্রয়োজন।

অবাধে ট্রাক প্রবেশ
সকাল ৬টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরে ট্রাক প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটা কার্যকর হচ্ছে না। বরং সারাদিনই শহরে প্রচুর ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। ট্রাক প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রশাসন থেকে একটি নীতিমালাও করেছিল। তবে সেটা পালন করতে দেখা যায় না প্রায়শই। আর সে কারণেই শহরে যানজট বাড়ে।

অবৈধ স্ট্যান্ড
দীর্ঘদিন ধরেই চাষাঢ়া পৌর সুপার মার্কেটের (নিচ তলায় সুগন্ধা বেকারী) সামনের সড়কটি ভ্রাম্যমান ফল ব্যবসায়ী, সিএনজি চালিত বেবীট্যাক্সি, টেম্পুর দখলে ছিল। চাষাঢ়ায় পৌর সুপার মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিং নিষেধ সম্বলিত সাইনবোর্ড দীর্ঘদিন পূর্বে লাগানো হলেও সেটাকে তোয়াক্কা করেনি কেউই।

অপরদিকে চাষাঢ়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের প্রবেশমুখে পশ্চিমপাশে বাধন, আল্লাহভরসা সহ লোকাল বাসগুলো সবসময়ই যাত্রী নেয়ার জন্য দাড়িয়ে থাকে। এর সঙ্গে টেম্পু, বেবীট্যাক্সি ও রিকশাতো রয়েছে। লিংক রোডের পূর্বপাশে রাইফেল ক্লাবের প্রবেশপথের একটু আগে পেট্রোল পাম্পের সামনে দাড়িয়ে থাকে টেম্পু ও বেবীট্যাক্সি। যেগুলা লিংক রোডে যাত্রী পরিবহন করে। এদের কারণে যানজট সৃষ্টি হলে যার প্রভাব পড়ে এবিসি স্কুল পর্যন্ত। চাষাঢ়া রেললাইন এর ঠিক সামনেই আনন্দ পরিবহনের কাউন্টারটি যানজটের অন্যতম একটি কারণ।

গাড়ি চালকদের আইন না মানা
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের চাষাঢ়ায় জিয়া হলে সামনে ঢাকা থেকে আসা গণপরিহনগুলো রাস্তার মাঝে থামিয়ে যাত্রী নামায় প্রায় সময়েই। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া দিনের বেলায় ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রায় সময়ে সে নির্দেশনা মানা হয় না।

কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তর
শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি চাষাঢ়ার দিকে নিয়ে আসলে শহরের যানজট অনেকাংশ কমে যাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাস টার্মিনাল এলাকা থেকেই মূলত যানজটের সৃষ্টি। এছাড়া বাসগুলো শহরের প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে যাতায়াতের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়।

যানজট নিরসনে যেসব প্রস্তাব
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান জানান, রমজান মাসকে সামনে রেখে অনেকেই চেষ্টা করবে পুনরায় ফুটপাত দখল করতে। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাশের এলাকাগুলো আসা রিকশা এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশার চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আমি মনে করি সমস্ত বিষয়টি কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

নিতাইগঞ্জে ট্রাক স্ট্যান্ডের ব্যাপারে তিনি বলেন, আলোচনা মাধ্যমে নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ডটি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন ভাল ভাবেই চলেছে। কিন্তু এখন আবার অনিয়ম দেখা দিয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় হয়তো আমাদেরই। ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকেরা যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে তাদের যে সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়া কথা ছিল আমরা সেগুলো দিতে পারি নাই। আমি নিতাইগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ করবো অন্তত এই রমজান মাসটি আপনারা নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহন করে শহরকে যানজট মুক্ত রাখবেন। পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধান করা হবে। আর যদি সেটা না করেন তাহলে নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ডের কারনে যদি জনগনের কোন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় তাহলে সেদিন থেকেই সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরে কোন ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে না। দেশের অন্যান্য জেলার মত এখানেও আইনগত ভাবে দিনের বেলায় শহরে ট্রাক চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বার্হী কর্মকর্তা (সিইও) এহতেশামুল হক বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে যে সমস্ত অবৈধ রিকশা, টেম্পু স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে সেগুলো চিহ্নিত করে উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। নারায়ণগঞ্জে এখন যতগুলো ভবন নির্মিত হচ্ছে তার সবগুলোর অনুমোদন রাজউক দিয়ে থাকেন। অনুমোদিত ভবন গুলোতে যেন অবশ্যই গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা রাখা হয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ