৩ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০:২৩ অপরাহ্ণ

ক্রসফায়ারের ভয়ে পালাচ্ছে মাদক বিক্রেতারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৭:৫৬ পিএম, ২৬ মে ২০১৮ শনিবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরুর পর থেকে পালাতে শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মাদক ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে উপজেলার বাবুরাইল, পাইকপাড়া, আমবাগন, জিমখানা, মাসদাইর, জামতলা, পাগলা রেলস্টশন সহ বিভিন্ন এলাকার ইয়াবার বড় বড় গডফাদাররা আত্মগোপনে আছে।

ইতোমধ্যে অনেকে পালিয়ে গেছেন। অনেকে গোপনে পাড়ি দিয়েছেন দেশের বাইরের। গত কয়েক দিনে দেশে বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে বেশ কয়েক জন মাদক বিক্রেতা এমন সংবাদ পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অনেককেই দেখা মিলছে না। বিশেষ করে তারা এখন নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে দিচ্ছে। চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ঘরে এখন বিরাজ করছে ‘ক্রসফায়ার আতংক’।

ইয়াবাসহ মাদক পাচার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গেল সপ্তাহে র‌্যাবকে কঠোর নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার পর পরই সারা দেশে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়।

এদিকে সবশেষ ২৪ মে সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সেলিম ওরফে ফেন্সি সেলিম (৩২) নামের মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি শূটার গান, ৬ রাউন্ড গুলি, একটি ছুরি, ৫ বোতল ফেন্সিডিল ও ৬শ’ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। ফেন্সি সেলিম ডেমরা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ডেমরা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৭টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২টি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিল।

২২ মে মঙ্গলবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমুলতলী এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ক্রসফায়ারে পড়ে বাচ্চু খান (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। র‌্যাবের দাবি নিহত বাচ্চু গাজীপুর ও টঙ্গী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৯টির বেশি মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি প্রাইভেটকার ও এতে থাকা প্রায় ৯ হাজার ইয়াবা বড়ি, দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশী পিস্তল ও গুলি খালি খোসা।

সিদ্ধিরগঞ্জে ১৫ মে ভোরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রাজ মহল রিকন নামের মাদক পাচারকারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে র‌্যাবের তিন সদস্য। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাইনাদি এলাকায় ওই বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল, দশ হাজার পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ দুই লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া একটি ট্রাকও আটক করা হয়েছে। নিহত রিকন মেহেরপুর জেলা সদরের কাঁসারী পাড়া এলাকার নিহাজউদ্দিন তুফানের ছেলে।

এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবার সাথে সাথেই নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন এলাকার মাদক বিক্রিতারা এখন স্থান পরিবর্তন করতে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া তারা এখন জেলার বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ইতোমধ্যে আমারা মাদক বিরোধী অভিযান শুরু করেছি। বেশ কয়েকটি মাদকের চালান ধরতে সক্ষম হয়েছে। অভিযানে শুরুর পর থেকে শহরের  ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করাতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। অবস্থান নিশ্চিত করতে পারলেই তাদের ধরা হবে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানার প্রতিটিতেই শীর্ষ মাদক বিক্রেতার তালিকায় রয়েছে ৩০ থেকে ৪০ জন। এছাড়া প্রতিটি থানা এলাকায় খুচরো বিক্রেতা রয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ জন। এর মধ্যে অনেক শীর্ষ মাদক বিক্রেতা গ্রেফতারের পর জেলহাজতে রয়েছে। আবার অনেকেই ক্রসফায়ার আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েেেছ। ইতিমধ্যে ছয়টি সংস্থা পৃথকভাবে তাদের মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা সরকারের জমা দিয়েছে। এসব তালিকা থেকে একটি সমন্বিত তালিকা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে মাদক নির্মূলে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুর” করেছে র‌্যাব-পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক মো: আলেপ উদ্দিন জানান, তারা নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ তাদের আওতাধীন ৭টি জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা তৈরী করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছেন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ