১০ আষাঢ় ১৪২৫, রবিবার ২৪ জুন ২০১৮ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

মাদক অভিযান তবুও বেপরোয়া প্রবণতায় বাড়ছে অপরাধ


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৬ পিএম, ৩ জুন ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ০৩:০৬ পিএম, ৩ জুন ২০১৮ রবিবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

নারায়ণগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও এসব অপরাধের চিত্র এখনো দেখা যাচ্ছে যার প্রমাণ মিলছে প্রত্যেকদিনে মাদক ব্যবসায়ী আটকের ঘটনার মধ্য দিয়ে। এসব অভিযানে চুনোপুটিরা ধরা পড়লেও রাঘববোয়ালরা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

এদিকে মাদক বিরোদী অভিযান সত্ত্বেও মাদক ব্যবসায়ীদের বেপরোয়া প্রবণতার ফলে নিয়মিত নানা অপরাধ অঘটন ঘটছে। আর মাদক ব্যবসায়ীদের ক্ষমতার দাপটের বিরুদ্ধে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে অত্যাচার নির্যাতনে শিকার হতে হয় যার পরিণতি এক পর্যায়ে মৃত্যুর কারণে পরিণত হয়।

সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ী সহ এর সাথে জড়িতদের দ্বারা অপরাধের চিত্র বেড়ে গেছে। এতে করে তাদের বেপরোয়া হওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে।

গত ২৬ মে নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় আবদুল লতিফ নামের ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে আহত করেছে মাদক সেবনকারী। আহত ইউপি সদস্য লতিফ বলেন, ‘ওই এলাকার আকতার, রব মিয়া, সুমন সহ আরো  কয়েকজন প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে। এতে আমি বাধা দিলে তারা আমাকে শুক্রবার রাতে একা পেয়ে পিটিয়ে আহত করে। আহত লতিফকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।’ অপরদিকে অভিযুক্ত আকতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার মাত্র একদিন পূর্বে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের জামপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। ২৫ মে শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত কমলা বেগম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামপুর কমলা বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী কিরনের দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ব শত্রুতায় বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে মাদক ব্যবসায়ী কিরনের নেতৃত্বে মেহেদি, শাহজামালসহ ৮-১০ জনের একটি বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কমলার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার ভাই আনোয়ার হোসেনকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে তাদের চিৎকার শুনে তার স্বামী আম্বর আলী ও আরেক ভাই ইকবাল হোসেন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও পিটিয়ে করে। এসময় এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গত ২৭ মে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাদকের টাকা না পেয়ে বাবাকে পিটিয়ে জখম করলো ছেলে শাহীন মিয়া। ২৭ মে দুপুরে উপজেলার গোপালদী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত বাবা রফিক মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মাদকাসক্ত ছেলে শাহীনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

আহত বাবা রফিক মিয়া জানান, মাদকের টাকার জন্য ছেলে শাহীন প্রায়শই ঘর থেকে টাকা সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেয়। এনিয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে তার ঝগড়া লেগেই থাকে। রোববার তার কাছে নেশার টাকা চাইলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পাশে থাকা লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। বিষয়টি গোপালদি তদন্ত কেন্দ্রকে জানালে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক মুহাম্মদ আব্দুল হক জানান, এ ব্যপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক শাহীনকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার থানা পুলিশ রনি (৩০) নামে পুলিশের সোর্সকে ৩শ গ্রাম গাঁজা সহ গ্রেফতার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৫ মে উপজেলার উলুকান্দি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী গ্রামের বাতেনের ছেলে পুলিশের কথিত সোর্স রনির (৩০) বিরুদ্ধে নিজে মাদক ব্যবসা করে বলে এবং নিরীহ লোকদেরকে মাদক দিয়ে পুলিশ দ্বারা মিথ্যা মামলা দেয়া সহ অযথা হয়রানী করে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে সে নিজেই মাদকসহ থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

আড়াইহাজারের অভিনব পন্থায় গাঁজা পাচার করার সময় এক কেজি গাঁজা সহ মাদক বিক্রেতা জয়নাল আবেদিন ওরফে দয়ালকে (৬৫) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ২৬ মে বিকাল ৩টায় গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ মানিকপুর ফেরিঘাট এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সে উপজেলার গহরদী গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে।

গোপালদি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ হাসান জানায়, দয়াল এক শীর্ষ গাঁজা বিক্রেতা। দীর্ঘদিন যাবত ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে গাঁজা নিয়ে আড়াইহাজারে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে থাকে। গোপনে সংবাদ পেয়ে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি গাঁজা সহ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

অপরদিকে থানা পুলিশ শিউলি আক্তার নামে এক মাদক বিক্রেতাকে ৪০ ক্যান বিয়ারসহ গ্রেপ্তার করে। এ ব্যাপারে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলা থেকে ইয়াবার ‘আম্মা’ হিসেবে পরিচিত সুফিয়া সহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এসময় তাদের হেফজত থেকে ৭০০ পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ২৭ মে রাতে পাগলা নয়ামাটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র বলছে, ‘মাদক ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। তবে একদিনেই সমূলে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে প্রত্যেক এলাকার মাদকের প্রধান প্রধান গডফাদারদের আটক করা সম্ভব হলে বাকিগুলো এমনিতে ঝড়ে যাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘মাদকের নেশায় বিনিময়ে টাকা হানিয়ে নেয়ার মহোৎসব ছেড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা কিছুতেই পিছপা হয়না। তাই এরা মাদক ব্যবসা ছাড়তে না পারলেও কখনো আত্মগোপনে চলে যায় আবার কখনো প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যায়। কিন্তু যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হার্ডলাইনে অবস্থান করে তখন হয়তো আটক হয়ে কারাজীবন বরণ করছে নয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ