৩ আশ্বিন ১৪২৫, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০:২৪ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে ফরমালিন কার্বাইডের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান নেই


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২০ পিএম, ৬ জুন ২০১৮ বুধবার


ছবি প্রতিকী

ছবি প্রতিকী

নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য, সবজি, মাছ ও ফলমূলে ক্ষতিকর রাসায়ণিক ফরমালিন ও কার্বাইডের ব্যবহার থেমে নেই। এছাড়া বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরা ও বেকারীতে  ভেজাল ও বাসী খাবার অবাধে বিক্রির পাশাপাশি ক্ষতিকর রাসায়ণিক ব্যবহৃত হচ্ছে। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী দ্রুত ধনাঢ্য হতে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকী হয়ে দাড়িয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৬ জুন নারায়ণঞ্জে ফরমালিন বিরোধী জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন ওই সময়ের জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম জেলা পুলিশ প্রশাসন ও মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় শহরের ২৫জন ফল ব্যবসায়ী ও ৩নং মাছ ঘাটের ২৫জন মাছ ব্যবসায়ীকে ফরমালিন ব্যবহার না করতে শপথ বাক্য পাঠ করান। তবে এরপরেও বেশ কিছু অর্থলোভী ব্যবসায়ী ফরমালিন ব্যবহার অব্যাহত রাখে। ২১ জুন সকালে শহরের ২নং রেল গেট এলাকায় একটি দোকানে প্রায় ৫০ কেজি আমের মধ্যে ফরমালিন পাওয়া গেলেও দোকান মালিক আম রেখেই পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকার অন্য ফল ব্যবসায়ীদের ডেকে এনে সতর্ক করে দেওয়া হয়। ২ জুলাই শহরের ২নং রেল গেট এলাকায় ফল বিক্রেতাদের দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অন্তত ২০ দোকানে কাঠাল, আম, আনারস, মাল্টা, কলা, আপেল সহ মৌসুমী ও অন্য ফলে প্রচুর ফরমালিন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কাঠালে ফরমালিন পাওয়া গিয়েছিল তিন এর উপরে যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিক্ষর। এর আগে জেলা পুলিশ প্রশাসন ও মহানগর কমিউনিটি পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের মিশনপাড়াস্থ স্বপ্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, দ্বিগুবাবুর বাজার, কালিরবাজার, খানপুর ও বাবুরাইল বৌবাজারে অভিযান চালিয়ে শনাক্তকরণের মেশিনের মাধ্যমে মাছে ক্ষতিকর ফরমালিন ব্যবহারের প্রমান পায়।

এদিকে গেল ২ বছরে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য, সবজি, মাছ ও ফলমূলে ক্ষতিকর রাসায়ণিক ফরমালিন ও কার্বাইডের ব্যবহার রোধে নারায়ণগঞ্জে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, কমিউনিটি পুলিশিংসহ বিভিন্ন সংস্থা সোচ্চার ভূমিকা রাখলেও তবে চলতি বছরে ফরমালিন ও কার্বাইডের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর অভিযান নেই। বৈশাখের পরে জৈষ্ঠ মাসকে মধু মাস বলা হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী ফলের সমাহারের জন্য। আর প্রচন্ড তাবদাহে সাধারণ মানুষ তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা ওই সকল মৌসুমী ফলকে করে তোলেন বিষাক্ত।

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, ক্ষতিকর রাসায়ণিক ব্যবহারে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে শিশুরা। প্রশাসন ৫/৬ মাস পর পর লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করেন। এটি নিয়ন্ত্রনে প্রয়োজন প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করার।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন যদি অসাধু ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদা নেয় তাহলে ফরমালিন ও কার্বাইড ব্যবহার বন্ধ হবেনা। এজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারেরও এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ