৬ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮ , ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

UMo

লিংক রোডের সংস্কার কাজে চরম গাফিলতিতে শহরে তীব্র যানজট


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:৩২ পিএম, ১০ জুন ২০১৮ রবিবার


লিংক রোডের সংস্কার কাজে চরম গাফিলতিতে শহরে তীব্র যানজট

তিন মাস পূর্বে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসে বর্ষায় জনগণের ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দিন রাত কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের। তবে সেই নির্দেশনা মানেনি সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও নিয়োগকৃত ঠিকাদারদের কেউই।

বরং মন্থরগতিতে চলা লিংক রোডের সংস্কার কাজ নিয়ে যেন ছেলে খেলায় মেতে উঠেছে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন আগে সড়কটির অসংখ্য গর্তে জমে থাকা কাদা ময়লা পানিতেই পিচ ঢালে সড়ক ও জনপথের নিয়োগকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আর শনিবার রাতে লিংক রোডের চাষাঢ়া অংশে মাটি ফেলে যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। যে কারণে রোববার সকাল থেকেই লিংক রোডের ঢাকামুখী রাস্তা বন্ধ হয়ে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের রাস্তার সংস্কার কাজ পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের। তিনি ওইসময় সংবাদকর্মীদের  বলেন, ‘রাস্তটি ভালো ভাবে করার জন্য নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ৮ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যদিও বাস্তবায়ন কাল ৬ মাস ধরা হয়েছে তবে সেটা এপ্রিলের মধ্যে বর্ষার আগে কাজ শেষ করতে চাই। কারণ বর্ষায় জনগণের ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দিন রাত কাজ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে করে তিন মাস আগে কাজ শেষ হয়।’ মন্ত্রী আরো বলেন, কোথাও কাজের মান খারাপ হলে সেখানের ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকলকেই জবাবদিহিতা করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নি¤œ মানের কাজ হলে শাস্তি, ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজ হলে শাস্তিভোগ করতে হবে।’

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙাচোরা ও খানাখন্দকের কারণে সড়কটি দিয়ে চলাচলরত যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এর মধ্যে সংস্কারের নামে গত কয়েকমাস ধরেই জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়েছেই সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গর্তগুলো ভরাটের নামে কাদা ময়লা পানির মধ্যেই পীচ ঢালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং এর লোকজন। রোববার (১০ জুন) ভোরবেলা থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ঢাকামুখী লেনে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধই ছিল বলা চলে। ঢাকামুখী লেনে শনিবার রাতের বেলায় মাটি এনে ফেলে রাখে সড়ক ও জনপথের নিয়োজিত ঠিকাদার হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং এর লোকজন। তাদের মাটি ফেলে যাওয়ার পরে গভীর রাতে বৃষ্টির কারণে সড়কটি পরিণত হয় চাষাবাদের জমিতে। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিলনা এটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ততম কোন সড়ক। অথচ এই সড়কটি দিয়ে রাজধানী ঢাকায় ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে দেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে যাতায়াত করে থাকে অসংখ্য মানুষ। এছাড়া শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্ট থেকে শিপমেন্টের পণ্য নিয়েও কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক যাতায়াত করে থাকে। আর সড়কটির মধ্যে কাদা জমে থাকায় গাড়ি চলছিল ধীরগতিতে। যে কারণে নগরীতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।

লিংক রোডের যানজট ছটিয়ে পড়ে শহরের চাষাঢ়া, ২ নং রেলগেট, কলেজরোড, চাষাঢ়া, পঞ্চবটি সড়কসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়কে। ৫ মিনিটের সড়ক পার হতে ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। তীব্র গরমে এমন অবস্থায় একেবারেই নাজেহাল হতে হয় নিত্য দৈনন্দিন কাজে বের হওয়া কর্মজীবী মানুষকে।

সড়কে প্রায় ১ ঘন্টা বসে থাকা আরমান জানান, আমি ঢাকা যাবো কিন্তু এখানেই তো বসে আছি। প্রথমে চাষাঢ়া মোড়ে বসে থাকলাম অনেকক্ষন পরে হেঁটে বাসে উঠলাম এখন তো আর গাড়ি চলেই না। কতক্ষন যে লাগবে কে জানে হয়তো আজকে অফিস থেকে শো-কজও করতে পারে।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এসে দীর্ঘ যানজটের কারণে একঘন্টা লেগেছে চাষাঢ়া থেকে লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত আসতে।

এদিকে সকাল ১১ টার দিকে খবর পেয়ে একটি ভেকু দিয়ে রাস্তা থেকে মাটি অপসারণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ অফিসের একটি টিম। যার নেতৃত্বে ছিলেন সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার। তিনি জানান, সকালে যানজট সৃষ্টির সংবাদে আমরা দ্রুত একটি ভেকু নিয়ে এসেছি এবং মাটি অপসারণের কাজ করছি। চেষ্টা করছি দ্রুত সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে। তবে মাটি কেন ফেলা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, আমাদের এই সড়কের কাজ এখন করার কথা না কারণ বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে আমাদের ক্ষতি হয়। তারপরও সড়ক ও জনপদ বিভাগের অনুরোধে আমরা রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে পাথর ও বালু ফেলেছিলাম কিন্তু রাতে বৃষ্টিতে আমাদের কাজ করা হয়নি। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। এর আগেও কেন কাঁদাপানির মধ্যে পিচ ঢালাই করেছেন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটাও আমাদের করার কথা নয় শুধুমাত্র জনগনের জন্য সওজের অনুরোধে একটু করে দিয়েছিলাম, ঈদের পর বৃষ্টির পর আমরা এই সড়কে কাজ করবো। এই অস্থায়ী কাজের জন্য আমাদের অতিরিক্ত খরচ করে হলেও আমরা করে দিচ্ছি তবে এটা আমাদের দায়িত্বে পড়েনা। এছাড়া সড়কটির পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে সড়কটি এ অবস্থায় উপনীত হচ্ছে।
জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) সরফুদ্দিন জানান, এই মাটি ফেলার কারণে শহর যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে। মাটি অপসারণের কাজ চলছে। আমরা সড়কটি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুত যানজট কমে আসবে।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ