৮ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ১২:১৪ অপরাহ্ণ

রক্তাক্ত ১৬ জুন : মৃত্যু ডেকে নেয় নেতাকর্মী শুভাকাংখীদের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৩:৩০ পিএম, ১৬ জুন ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ০৫:৩৮ পিএম, ১৭ জুন ২০১৮ রবিবার


রক্তাক্ত ১৬ জুন : মৃত্যু ডেকে নেয় নেতাকর্মী শুভাকাংখীদের

নারায়ণগঞ্জে ২০০১ সালে ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ২০ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা একমাত্র উপার্জনের মানুষটিকে হারিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে ১৬ বছর ধরে। ১৭ বছরেও বিচার হয়নি এসব বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের। এমনকি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি এসব পরিবারগুলো। নিহতদের পরিবারগুলো দাবি করছে নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ১৬ জুন বোমা হামলা দিবস হিসেবে অন্তত নারায়ণগঞ্জে সরকারীভাবে পালন ও নিহতদের স্মরণে স্মৃতি ফাউন্ডেশন করা।

সেদিন নিহত হয়েছিল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল হাসান বাপ্পী, সহোদর সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জিএস আকতার হোসেন ও সঙ্গীত শিল্পী মোশাররফ হোসেন মশু, সঙ্গীত শিল্পী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভাসানী, নারায়ণগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এ বি এম নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইদুর রহমান সবুজ মোল্লা, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী পলি বেগম, ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন দাস, কবি শওকত হোসেন মোক্তার, পান সিগারেট বিক্রেতা হালিমা বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়ার্ড মেম্বার রাজিয়া বেগম, যুবলীগ কর্মী নিধু রাম বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার, আবু হানিফ, এনায়েতউল্লাহ স্বপন, আব্দুল আলীম, শুক্কুর আলী, স্বপন রায় ও অজ্ঞাত এক মহিলা। নিহত মহিলার পরিচয় পেতে তেমন কোন চেষ্টা করেনি প্রশাসন। হামলায় শামীম ওসমান সহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। তার ব্যক্তিগত সচিব চন্দন শীল, যুবলীগ কর্মী রতন দাস দুই পা হারিয়ে চিরতরে বরণ করেছে পঙ্গুত্ব।

২০০১ সালের ১৬ জুন বিকেলে স্ত্রী আর ভাই বোনদের সাথে একসাথে চা খেয়েছিল সহোদার দুই ভাই সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্রছাত্রী সংসদের জিএস আকতার হোসেন ও তার ভাই সংগীত শিল্পী মোশারফ হোসেন মসু। রাতে তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরার কথাও বলেছিল ওরা। পরিবারের সকলকে কাদিয়ে তারা ফিরেছিল ঠিকই কিন্তু লাশ হয়ে।

বোমা হামলায় নিহত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইদুর রহমান সবুজ মোল্লা ঘটনার দিন ব্যাংকে একটি চাকুরীর তদবির করতে গিয়েছিল শামীম ওসমানের নিকট। চাকুরী হলে সংসারটি বেশ ভালোভাবে চলবে এমন প্রত্যাশাও সকলের।

বিকেলে অসুস্থ স্বামীর পা ব্যান্ডেজ করে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন ফতুল্লা থানা মহিলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক পলি বেগম। কিন্তু বোমা কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ। তিন সন্তানদের মধ্যে এক ছেলে আর এক মেয়ে এলাকাতে একটি টেইলার্স দিয়ে কোনভাবে সংসারের হাল টানছে।

বিকালে শিশু মেয়ের জন্য কোন ব্র্যান্ডের দুধ আনতে হবে তা স্ত্রী আনোয়ারার কাছ থেকে জেনে নিয়ে বন্ধুর সাথে বাসা থেকে বেরিয়ে যান মোঃ হানিফ নূরী। তিনি কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন না। শিশু কন্যার খাবার আনতে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কোন এক কারণে আওয়ামীলীগ অফিসে গিয়ে তিনি বর্বরোচিত বোমা হামলার শিকার হন।

শওকত হোসেন মুক্তার একজন ভালো সাহিত্যিক ছিলেন। ১৬ জুন একটি বিশেষ কাজে বাবুরাইলের বাসা থেকে বেরিয়ে চলে যান চাষাঢ়াস্থ আওয়ামীলীগ কার্য্যালয়ে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ