৮ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ১২:০৮ অপরাহ্ণ

ট্রেন দুর্ঘটনার মর্মান্তিক মৃত্যুতেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছেনা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২১ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৮ রবিবার | আপডেট: ১১:২৭ পিএম, ৮ জুলাই ২০১৮ রবিবার


ট্রেন দুর্ঘটনার মর্মান্তিক মৃত্যুতেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছেনা

সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে একমাত্র ট্রেন দুর্ঘটনায় চালকের দোষ থাকেনা বললেই চলে। অন্যদিকে যাত্রীদের দোষ, অবহেলা, অসচেতনা সহ নানা কারণে ট্রেন দুর্ঘটনার চিত্র বারংবার দেখা যাচ্ছে। যাত্রীদের বেপরোয়া চলাচল ও ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে কিংবা ইঞ্জিন বগিতে আরোহনের ফলে এসব দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। সখের বসে ট্রেনের ছাদে চড়া কিংবা সামান্য কটা টাকা বাঁচাতে ট্রেনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আরোহনের ফলে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় এরুপ নানা কারণে বেড়িয়ে এসেছে। এরই মধ্যে সরেজমিনে  ট্রেন স্টেশন ঘুরে যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে, ইঞ্জিন বগিতে ও দুই বগির মাঝে আরোহনের নানা চিত্র দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা রেলষ্টেশন এলাকায় ঢাকাগামী ট্রেনের ইঞ্জিনের পাখায় পেচিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ২৩ জুন রাত ৮ টা ৫৬ মিনিটে ওই ঘটনার পর টিকেট মাষ্টার ও ট্রেন চালক পালিয়ে যায়। এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই ট্রেনের যাত্রীরা যে যার মতে চলে যায়। নিহতের পড়নে ছিল লুঙ্গি ও শার্ট ছিল। নারায়ণগঞ্জ থেকে সাড়ে ৮টায় ছেড়ে আসা ট্রেনটি পাগলা স্টেশনে ৮টা ৫৬ মিনিটে এসে যাত্রী উঠা নামা করছিল। এসময় এক ব্যক্তি ট্রেনের ইঞ্জিনে উঠে বসার চেষ্টা করলে পাখার সাথে পেচিয়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তার মাথা ছিন্নবিন্ন হয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের ভিতরেই মৃত্যু হয়। ওই সময় যাত্রী ও স্থানীয়রা ফুসে উঠলে টিকেট মাষ্টার এবং ট্রেনের চালক পালিয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফকিরটলা মসজিদের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি (৪০) নিহত হয়েছে। ৭ জুলাই বিকেল সোয়া ৬টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের ধাক্কায় এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ জানান, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা কমলাপুরগামী ট্রেনের ধাক্কায় একজন নিহত হয়। নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে চড়া যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, ‘প্রতিদিন মালামাল আনা নেওয়া করতে টুকড়ি সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বগির ভেতরে নিয়ে আরোহন করা বেশ মুশকিল হয়ে পড়ে। এছাড়া ইঞ্জিন বগিতে আরোহন করলে কম ভাড়া দিতে হয়। তাছাড়া বগির ভেতরে বৈদ্যুতিক পাখা নেই। কিন্তু বাহিরে প্রাকৃতিক বাতাসের ফলে বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। এছাড়া এভাবে প্রতিদিন চলাচলে এখন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি তাই ঝুঁকি মনে হয়না।’

একাধিক সূত্র বলছে, ‘ট্রেনের ইঞ্জিন বগির উপরে, বগির মধ্যেখানের সংযোগ স্থলে ও ছাদে সাধারণত দু ধরণের যাত্রীরা আরোহন করে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নি¤œবিত্ত শ্রেণির যাত্রীরা আরোহন করে থাকে। এছাড়া সখের বশে কিংবা বন্ধুদের নিয়ে হৈ হুল্লোড় করার আনন্দে আরেক শ্রেণির তরুণরা আরোহন করে থাকে। এদের বেপরোয়াপনা, অসচেতনা, অনিহার ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। আর এতে মর্মান্তিক সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তার পরও যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছেনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনায় সাধারণত চালকের কোন দায়ভার থাকেনা। কারণ ট্রেন এক স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে অন্য স্টেশনে গিয়ে থামবে এটাই নিয়ম। এর মাঝে কেউ কোন কারণে ট্রেনের সামনে এসে পড়লে তাতে দুর্ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক। কিন্তু এতে চালকের কিছুই করার থাকেনা। এতে করে ট্রেন রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের আরো সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ