প্রেমের আড়ালে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৫ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৮ শনিবার

প্রেমের আড়ালে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা

ধর্ষণ নির্দ্বিধায় একটি ন্যাক্কারজনক কাজ। তবে প্রেম কিংবা বিয়ের প্রলোভনে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনাগুলো সমাজের চোখে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। কেননা প্রেমের সম্পর্কে মৌখিক প্রতিশ্রুতির আদলে অবৈধ মেলামেশার সম্পর্ক গড়ে উঠে। আর বিয়ের প্রলোভন অনেকটা একইভাবে অবৈধ সম্পর্কে মেয়ে ছেলে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কোন করণে তাদের সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত না গড়ালে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ছেলের দোষের বিচার হলেও একই অপরাধে অপরাধী মেয়েটি উল্টো সমাজের চোখে সহানুভূতির ছায়া পায়। এতে করে অনেক সময় ভিন্ন বিচারের নানা নজির চোখে পড়ে। আর তাই এখন ধর্ষণের ঘটনাগুলোকে কিছুটা ভিন্ন চোখে দেখা হয়।

১৫ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া ধর্ষণের ঘটনার আলোকে নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে প্রেম ও বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের নানা ঘটনা ঘটছে।

১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অভিযোগে মামলা হয়েছে।  সকালে উপজেলার সাতগ্রামের টেকপাড়া এলাকায় এ ধর্ষণের শিকার হন ওইছাত্রী। সে পুরিন্দা কে এম সাদেকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানায় পুলিশ।

জানাগেছে, নোয়াগাও গ্রামের নাদিম মিয়ার স্কুল ছাত্রী মেয়ের সঙ্গে টেকপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে সাব্বিরের দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেট পড়তে টেকপাড়ায় যাওয়ার সময় সাব্বির তাকে দৈনিক মিলনে বাধ্য করেন। একই গ্রামের ইসরাফিলের ছেলে সাকিল ও ফারুকের ছেলে রিফাতের সহযোগীতায় একটি ঘরে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ওইছাত্রী তার পরিবারকে বিষয়টি জানালে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংশার চেষ্টা করা হয়। পরে মিমাংশা না হওয়ায় থানায় ধর্ষণের মামলা করা হয়। আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ধর্ষিতাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

১৯ জুলাই রূপগঞ্জে বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রতিবন্ধি কিশোরীকে তুলে নিয়ে এ লম্পট ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার একদিন পরে  শুক্রবার রাতে সেই কিশোরীকে বাড়ীর সামনে রেখে পালিয়ে যাবার সময় ধর্ষকের দুই সহযোগীতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুর্নর্বাসন কেন্দ্রে ঘটে এ ঘটনা।

মামলার এজাহার ও ধর্ষিত কিশোরীর মায়ের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার এসআই রোকনুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৯ নং ওয়ার্ডে এক কিশোরী ও স্থানীয় প্রতিবন্ধি স্কুলের শিক্ষার্থী (১৬) কে পার্শ্ববর্তী বড়ালু পাড়াগাও এলাকার আওলাদ হোসেনের ছেলে বেলায়েত হোসেন তার সহযোগী একই এলাকার মৃত মহিবুর মিয়ার ছেলে গাফ্ফার ও নগরপাড়া এলাকার ছাদত আলীর ছেলে কবির হোসেন বাড়ীর সামনে থেকে সিএনজি যোগে তুলে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে একই উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কাঞ্চন বাজারে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে বেলায়েত হোসেন। পরে সেই কিশোরীকে অন্যত্র লুকিয়ে রাখে  তারা। এদিকে, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ধর্ষক বেলায়েত হোসেন সহ তার ২ সহযোগীরা প্রতিবন্ধি কিশোরীকে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে তার বাড়ীর সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাবার সময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে বড়ালু পাড়াগাও এলাকার মহিবুর মিয়ার ছেলে গাফ্ফার ও নগরপাড়া এলাকার ছাদত আলীর ছেলে কবির হোসেনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় শনিবার সকালে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। এঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক কাজকে কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। কিন্তু প্রেমের আড়ালে অবৈধ মেলামেশা করে কোন কারণে বনিবনা না হলে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা ধর্ষণের চেয়েও ন্যাক্কারজনক কাজ। পুরুষ নির্যাতন দমন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘মহিলা কেন্দ্রীক আইনের কারণে মেয়েরা আইনের অপব্যবহার করে অনেক মানুষকে হেনস্থা করছে। এরুপ সিস্টেমের পরিবর্তন হওয়া দরকার। ’


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও