৩ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

লিংক রোডে সংস্কার : একধার শেষ না করতেই অন্য ধারে ভাঙন


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:২১ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০১৮ বুধবার


ফাইল

ফাইল

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ৪ মাস আগে শুরু করা কাজ এখনো চলমান রয়েছে। অথচ যে লেন এর কাজ সমাপ্ত করেছে সেই দিকেও ভাঙন ধরেছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গেছে। ঢেউ হয়েছে সারা রাস্তায়। সংস্কার করা অংশ ব্যবহারের আগেই চলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। সংস্কার করা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে কাজের গুণগত মানকে দায়ি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ধুলাবালি আর বৃষ্টির পানির মধ্যে ঢালা হচ্ছে পিচ। নির্মাণ করার সঙ্গে সঙ্গে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এক কথায় যাচ্ছেতাই সংস্কার করা হচ্ছে। কোথাও গুণগত মান রক্ষা করা হচ্ছে না। না দেয়া হচ্ছে ভাল নির্মাণ সামগ্রী আর না করা হচ্ছে যথাযথ পদ্ধতিতে নির্মাণ। যার কারণে নির্মাণ শেষ করার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংস্কার করা সড়ক। ব্যবস্থাতো দূরের কথা কাজের মান দেখার কেউ নাই। অথচ মান রক্ষার বিষয়টি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান কাজ পরিদর্শনে এসে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি তা এখন প্রত্যক্ষ করছে সাধারণ মানুষ। মন্ত্রী এমপিদের হুংকার মুখের বুলি বলে উড়িয়ে দিচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসী।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সংস্কার কাজের শুরুতে পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘কোথাও কাজের মান খারাপ হলে সেখানের ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকলকেই জবাবদিহিতা করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নি¤œ মানের কাজ হলে শাস্তি, ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজ হলে শাস্তিভোগ করতে হবে।’

গত ৮ মার্চ ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের রাস্তার সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন। ওইসময় সংবাদকর্মীদের তিনি আরো বলেন, ‘রাস্তটি ভালো ভাবে করার জন্য নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ৮ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। যদিও বাস্তবায়ন কাল ৬মাস ধরা হয়েছে তবে সেটা এপ্রিলের মধ্যে বর্ষার আগে কাজ শেষ করতে চাই। কারণ বর্ষায় জনগণের ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দিন রাত কাজ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে করে তিন মাস আগে কাজ শেষ হয়।’

গত ১৩ জুলাই শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাঢ়ায় সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হচ্ছে দেশের ব্যস্ততম সড়কের একটি। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এ রুটে যাতায়াত করে। ৬মাস ধরে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে লিংক রোডের জন্য। প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ রোডের নির্মাণ কাজে গাফিলতি হলে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নিবো প্রয়োজনে কন্ট্রাকদারের বিরুদ্ধে। আশা করছি লিংক রোডটি সম্পূর্ণ কোয়ালিটি মেনেই কাজটি শেষ হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি নির্মাণের কারণে হয়তো আরো কয়েক দিন ভুগতে হবে। আশা করছি দ্রুত কাজ শেষ হলে এ সমস্যার লাঘব হবে।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মাসুদুর রহমান জানান, আমাদের এই সড়কের কাজ এখন করার কথা না কারণ বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে আমাদের ক্ষতি হয়। তারপরও সড়ক ও জনপদ বিভাগের অনুরোধে আমরা রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে হচ্ছে। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই।

এর আগেও কেন কাঁদাপানির মধ্যে পিচ ঢালাই করেছেন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটাও আমাদের করার কথা নয় শুধুমাত্র জনগনের জন্য সওজের অনুরোধে একটু করে দিয়েছিলাম। এছাড়া সড়কটির পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে সড়কটি এ অবস্থায় উপনীত হচ্ছে।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বৃষ্টির মধ্যে মামুদপুর-ভূইগড় এলাকায় কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বৃষ্টি না থাকলেও গর্তে জমে থাকা শক্ত কাঁদা বালুর উপরই পিচ ঢালছে নির্মাণ শ্রমিকেরা। যার কারণে ঢাকামুখী লেনের মতই নারায়ণগঞ্জমুখী লেনের অবস্থা হবে বলে যানান বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন এমন সংস্কার হওয়ার চেয়ে না হওয়াই ভাল। কারণ এ সংস্কার মানুষকে ভোগাবে চরম ভাবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ফিচার -এর সর্বশেষ