সিরিজ বোমার ১৩বছর:চার্জশীটে অভিযুক্ত ১৫, গ্রেফতার১০ মৃত্যুদণ্ডে ৫

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৩ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার



ছবি প্রতিকী
ছবি প্রতিকী

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জেও সিরিজ বোমা হামলার বিচার কার্য্যক্রম ১৩ বছরেও শেষ হয়নি। এখনো চলছে মামলার বিচারিক কার্য্যক্রম। আসামীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা থাকায় হাজির করতে না পারার কারণেই কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে জানিয়েছেন সরকারী কৌশলী।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনের দুটি স্পটে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে দেশের মুন্সিগঞ্জ ছাড়া সবগুলো জেলাতেও কয়েকটি স্পটে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।

নারায়ণগঞ্জে বোমা হামলার ঘটনায় কেউ হতাহতের ঘটেনি। এ ঘটনায় সে সময়ের ফতুল্লা মডেল থানার এস আই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে দু’টি পৃথক মামলা করেন। মামলায় প্রথমাবস্থায় অজ্ঞাতজনদের আসামী করা হয়। পরবর্তীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) দ্বায় স্বীকার করায় এ সংগঠনের প্রধান সহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৬ সালের ২৯ জানুয়ারী আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। পরে আরো কেফায়েতুর রহমানকে সম্পূরক চার্জশীটভুক্ত করা হয়।

এতে অভিযুক্ত ১৫জন হলেন জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই, সাইফুল্লাহ, আকতার হোসেন, আবুল হোসেন, আতাউর রহমান সানি, তানভীর ওরফে জিয়াউর, ওবায়দা ওরফে জিয়াউল, রবিউল ইসলাম, আরিফুল, ফতুল্লার শাসনগাঁও এলাকার আবদুল আজিজ, আতাউর রহমান, রকিবুল ইসলাম, মাজু মিয়া ও কেফায়েতুর রহমান।

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মামলার প্রথম ৫জন আসামী শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। অন্য আসামীরা রয়েছে গ্রেফতার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা নারায়ণগঞ্জেও ঘটেছিল। সেই মামলাটি নারায়ণগঞ্জ ২য় ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারাধীন আছে। যেহেতু এই প্রসঙ্গে সারা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলায় মামলা হয়েছে আলাদা আলাদা। তৎ কারণে মামলাটি বিলম্বিত হচ্ছে। সেটা এখন সাক্ষী পর্যায়ে আছে। সাক্ষী যারা পলাতক আছে কিংবা জেলখানায় আছে তাদেরকে সাক্ষীর তারিখে উপস্থিত করা যাচ্ছেনা একারণে যেহেতু তাদের সারা বাংলাদেশে হাজির করানো হয়। তবে আমরা জজ বাহাদুরের কাছে আবেদন রেখেছি তাদেরকে যেন দুই মাস নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে রাখা হয়। তাহলে নারায়ণগঞ্জের মামলাটি শেষ করতে পারবো।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো জানান, পাশাপাশি ২১ আগস্ট আওয়ামীলীগ অফিসে একই আসামী বোমা হামলা করেছিল যেখানে ২২টি প্রাণ ঝড়ে গিয়েছিল। একই মামলা একই কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আমি আশা রাখি আমাদের আইন কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনে ও জজ বাহাদুররের কাছে আবেদন রেখেছি দুটা মাস যেন আসামীদের জেলা কারাগারে রাখা হয় যেন আমরা মামলাটির কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারি।

সম্প্রতি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বোমা বিষ্ফোরনের ঘটনার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মা. কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমানকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে র‌্যাব দাবী করেছে।

কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমান (৩৫) ফতুল্লার সস্তাপুর কোতোয়ালেরবাগ এলাকার মাওলানা মাহবুবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে হোসাইন আহমেদ আজমী ছদ্মনামে শিক্ষক হিসেবে রাজশাহীর কাটাখালিতে জামিয়া উসমানীয়া হোসাইনাবাদ মাদ্রাসায় কর্মরত।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র এএসপি আলেপউদ্দিন জানান, কেফায়েতুর রহমান ওরফে নোমান ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলা মামলার অন্যতম আসামী। বোমা হামলার ফতুল্লা থানার উল্লেখিত মামলা দায়েরের পর পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমানের ভিত্তিতে গ্রেফতারকৃত ১১ জন ও পলাতক ৫ জন জেএমবি আসামীদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

জিজ্ঞসাবাদে সে আরো জানায় তৎকালীন জেএমবির প্রধান শায়েখ মাওলানা আঃ রহমানের নির্দেশে তার অন্যান্য সহযোগীদের সাথে নিয়ে উক্ত বোমা হামলায় অংশগ্রহন করে। জেএমবি’র প্রধান শায়েখ মাওলানা আঃ রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি সহ গ্রেফতারকৃত ও পলাতক জেএমবি’র অন্যান্যদের সাথে কেফায়েতুর রহমান এর সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত উগ্রপন্থি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু ঘোষণা দিয়ে জেএমবি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে আদালত, জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে একই সময়ে দুটি স্থানে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। জেএমবি’র জঙ্গিরা সেদিনের বোমা হামলার পরই থেমে থাকেনি। ১৭ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের চালানো একের পর এক আত্মঘাতী হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাসহ ৩৩ জন মারা যান, আহত হন ৪ শতাধিক।


বিভাগ : ফিচার


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও